পাঠপর্ব — সম্পাদকীয় বিভাগ, লেখকের অধ্যায়নাম নয়
অন্তর্দৃষ্টি
মুদ্রিত পাতা ১৬২–২১৪।
জাগতিক অজাগতিক · প্রথম খণ্ড · মুদ্রিত পাতা 171–223
মুদ্রিত পাতা 162
৩া।গ9ি;৩।'।'।0ি (ে" দু' (1 ৩।ব।4 ৩1 ক 01 দেেব শশত প্রেশত দুজনেহ শাটিতে থসে পাপলাবাবার পা দুটো 9।।(;1 প(ে #।^।।৩? 4।ণ।, ৩ম।@ে এবার কর্ম1 দিশ ৩। ।(1 91৬ ত।পণ।র চপণে ১হ করে দিণ । পগলাবাবা ? তোমরা ৩।।:।7 ঢরণে, নিজেদেব অস্তিত্ব খুঁজে পাঙ। আর আমি তোমাদের ভেতরেই আমার অস্তিত্ব খুঁজে বেড়াই । কালই তোমাদের 'গুরুমা' আসবেন। তিনদিন পর পূর্ণিমা, সে দিনই তোমাদের দীক্ষার দিন ঠিক করা হয়েছে ।
তুমি আজ আর বেশি বেলা করো না তাড়াতাড়ি করে ফিরে যাও কাল সকাল সকাল বৌমা, ছেলেকে নিয়ে চলে এসো এখনই খাওয়া-দাওয়া সেরে নাও (বলে পাগলাবাবা ঘরে প্রবেশ করেন ।) শাশ্বত উঠে দাঁড়িয়ে আনন্দে প্রশান্তকে জড়িয়ে ধরে আর প্রশান্ত শশ্বতকে । আবেগ, আকুলতায় শাশ্বত প্রশান্তর কাঁধে মাথা রেখে আনন্দের অশ্রুতে কাঁধেই জলাভিষেক করতে থাকে । প্রশাত্ত; শাশ্বতর বাহু দুটি ধরে চোখের দিকে তাকায় । তখনও শাশ্বতর_ চোখের কোণে কয়েক ফোঁটা জল আটকে আছে ।
ভাসাভাসা চোখে আনন্দের বান নেমেছে । দুহাতে চোখ মুছলেও চোখের পাতায় আটকে থাকা জলের কণাগুলো যেন ভোরের ঘাসের ওপর পড়ে থাকা শিশির বিন্দু । প্রশাতত ? বন্ধু, তুমি তো দেখছি এখানে খুবই ব্যস্ত । তোমাকে তো একদমই পওযা যায় না । এখানে এসে শুনলাম তুমি ডাক্তারী করছ নতুন বাজারে দেখ, তোমার সাথে এতকথা হয়েছিল কিত্তু তুমি যে এবজন ডাক্তার, সেকথা তো আমি জানতামই না আসলে ১৬১।
মুদ্রিত পাতা 163
সেই দিন তোমার বিষয়ে তো আমার কোন কথাই জানা হয় নি। শুধু আমার কথাই বলে গিয়েছিলাম । শাশ্বত এখন থেকে আমরা দুজনে শুধু বন্ধু নয / আমরা এখা একই গুরুর সন্তান তাই আমরা দাদা-ভাই কি বল? প্রশান্ত ৪ হ্যাঁ; তুমি ঠিকই বলেছ তুমি আমার গুরুভাই তোমার সাথে দেখা হওয়ার পর থেকেই; আমার যেন ভাগ্য খুলে গেল । এমন গুরু; আর এমন ভাই তো ভাগ্যক্রমেই মানুষ পেয়ে থাকে। আচ্ছা বলত তোমার এখন বয়স কত হবে? শাশ্বত ৪ তা মেঘে-মেঘে অনেক হল ।
একত্রিশ ছেড়ে বত্রিশ এ পড়ে গেছি প্রশান্ত ঃ কি যে বল বাচ্চা ছেলে, তবে আমার অনুমান ঠিকই ছিল। বত্রিশই হতে হত । শাশ্বত : তাই, তোমার অনুমান তো বেশ সঠিক । প্রশান্ত : না; আসলে নিউমেরলজী দিয়ে দেখলে এখন তোমার বৃহস্পতির দশা চলছে; আর এই দশায় গুরু প্রাপ্তি ঘটে । তাই আমি অনুমান করে ছিলাম । আমার আবার একটু জ্যোতিষ, নিউমেরলজীর কিছু বই পড়ার শখ আছে; তাই মেলাতে গিয়ে জানতে চাইলাম ।
শাশ্বত ঃ (হো হো করে হেসে) আসলে এসব চর্চা করা ভাল আমারও ডাক্তারি পড়া সূত্রে শরীর নিয়ে কিছু কিছু বই পড়া ছিল । কিন্তু এখানে এসে কেমন যেন থ হয়ে গেলাম । এখানে যাদের দেখতে পেলাম, তারা যেন চোখ দিয়েই এক্স-রে করে নেয় আর রক্তপরীক্ষা, মন দিয়ে তাই মাঝে মাঝে ভাবি, আবার বোধহয় নতুন করে বর্ণপরিচয় শিখতে হবে । আর, তোমার জ্যোতিষ সংখ্যাতত্ত্ব্) তাও এখানে পেয়ে যাবে ।
আর এখানকার বর্ণ, আর সংখ্যাতত্ত্বের পরিচয় করাতে পারলেই সব জ্ঞানই এমনি চলে আসবে / তবে তুমি ভালই করেছ । আগে থেকেই কিছু জ্ঞান নিজের কাছে রেখেছ । আসলে এক থেকে দশ পর্যন্ত যাবার পর, আবার ১৬৩।
মুদ্রিত পাতা 164
পিঠে একই চড়াতে হয় তাার তখা তবার তো একের নতণ করে আর এক এককে জানতে হয় যাক; এখন এসব বাদ দIও । বলেছিলে একদিন পরই আবার আসবে তুমি যে তোমার তে[ দেখছি একদিন এক সপ্তাহ ঘুরে হয় । প্রশান্ত ৪ না ভাই, রোজই তোমার কথা মনে পড়ত, কিত্তু পরিস্থিতি বার বার আটকে দিয়েছে । তুমি তে আমার বাড়ির অবস্থা সবই জান । তোমার কথা ভাবতে ভাবতে কীল রাতেই মন স্থির করে নি। প্রথমত এই ভয়টাই ছিল তোমার সঙ্গে আবার দেখi হবে তো ।
তোমায় যে ছেডে এসে ছিলাম; তুমি আবার অন্য কোথাও চলে যাওনি তো সকালে এখানে এসেও তোমাকে দেখতে না পেয়ে ভাবলুম, আর বোধহয় তোমার সাথে দেখা হবে না / বাবার কাচে জানতে চাওয়ায়, উনি বললেন তুমি নদীতে স্নান করতে গেছ । তবে তোমায় যেমন ছেড়ে গিয়েছিলাম, এ কয়েক দিন তুমি যেন কেমন পাল্টে গেছ । শাশ্বত ঃ কেমন ছিলাম? চুপচাপ, লাজুক) লাজুক একটা ছেলে?
কিত্তু এটা ঠিক, আমারও মনে হয় আমার কিছু পরিবর্তন এসেছে তখন যেন আমার মুখে বুলিই ফোটে নি; আর এখন দেখ কেমন প্রচুর কচকচানি করছি;, তাই না / প্রশান্ত : না গো, তোমাকে এখন অনেক আত্মবিশ্বাসী বলে মনে হয় । তোমার কথা বার্তার মধ্যেও যেন কেমন আকর্ষণ আছে । সেই প্রথম দেখ উতলা সাধাসিধে ছেলেটা; যাকে যে কেউ ঠকাতে পারে, আর ঐ ভাব দেখেই তো আমি তোমার কথা আমার গিন্নি কেও জানিয়ে ছিলাম । সেও তোমায় সাহায্য করতে বলেছিল ।
এমনই মুখের ভাবখানা এখন আর নেই । শাশ্বত ঃ তার মানে এখন দেখলে আর মায়া হয় না? প্রশান্ত : না; তা ঠিক মায়া নয়, এখন দেখলে বা তোমার কথা শুনলে মনে হয় যে কোন বেঠিক লোককে; সঠিক পথে নিয়ে আসতে পারবে । ১৬৪।
মুদ্রিত পাতা 165
শসত নাও; নাও এবার খাওয়া দাওয়া সেরে নাও; তোমার অনেক দেরি হয়ে গেল । প্রশীড হ্যাঁ, ঠিকই বলেছ । শাশ্বত, পাগলাবাবার খথাবার ঘরেই দিয়ে দেয় খাবার শেষ দলানে বসে দুজনে কারে পাগলাবাবাকে প্রণাম করে প্রশাত্ত কুটির ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে । শাশ্বত একটু পথ এগিয়ে দিয়ে, প্রশাস্তকে ভালবাসার সৌজন্য জানিয়ে কুটিরে ফিরে আসে ! পাগলাবাবা ঘরের ভেতরেই নিজের ক্রিয়া করতে একাই দরজা বন্ধ করে থাকেন ।
শাশ্বত ও তার নিজের কাজ সেরে রাতের রান্নাবান্না করে নেয় তারপর দুজনে একসাথে রাতের খাওয়া সেরে শাশ্বত দালানে একাই শুয়ে পড়ে কালই আবার গুরুমা আসছেন তাঁকে চোখে দেখার অমেক দিনেরই মনোবাসনা তার সাথে দীক্ষার দিনও সামনে মনে কিছু ভয়, কিছু আনন্দ নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে শাশ্বত । আর ভোরের পাখিরা ডাকার আগেই ঘুম ভেঙে যায় / তখন রাতের মতই অন্ধকার চারিদিকে ছেয়ে আছে ! নিস্তব্ধতার মাঝে না দেখতে পাওয়া শুধু ঝিঁ-ঝিঁ পোকার শব্দই কানে বাজতে থাকে ।
হাতের ঘড়িতে নজর দেয় শাশ্বত । তখন সবে সাড়ে-তিনটে ো পাগলাবাবার প্রাতঃকৃত্য শুরু করার সময় হয়নি । হ্যারিকেনের অল্প আলোয় কুকুরগুলোও যেন সামনে থাকা বড় বড় গাছগুলোর মত নিরবতা পালন করে দালানের নিচে শুয়ে আছে । হ্যারিকেনের আলোটা একটু বাড়িয়ে নেয়় শাশ্বত । আর একটু ঘুমোলে কিত্তু হত । রাতে ভাল ঘুম হওয়ায় শরীরে একেবারেই ক্লান্তি না লাগছে হ্যারিকেন হাতে শাশ্বত দালান থেকে নেমে একটু পায়চারি করতে ১৬৫।
মুদ্রিত পাতা 166
থাকে অন্ধকারে হঠাৎই ডানদিকের ঝোপের সামনে কাউকে যে অনুভব করে হ্যারিকেনটা তুলে ভালভাবে দেখতে গেলে 5( শিউরে ওঠে এটা কি? মানুষের আকৃতি নেওয়া অনেকটা লম্বা কিছু একটা দেখতে পায় শাশ্বত ভয় পেয়ে চিৎকার করে ওঠে । কুকুর দুটো ওঠে ঘেউ-ঘেউ করে ঝোপের দিকে ছুটে যায় শাশ্বত আর না এগিয়ে তাড়াতাড়ি করে দালানে উঠে বসে পড়ে ওটা ছিল? ভূত নাকি অন্য কোন জম্তু? ওহঃ কি সাঙ্ঘাতিক আমার দিকেই চেয়ে চেয়ে যেন আমাকে লক্ষ্য করছিল ।
শাশ্বতর ভয়ে সারা শরীর ঘেমে ওঠে আবার ফিরে দেখার কোন রকম সাহস বা ইচ্ছে নেই । কুকুর দুটো খানিকক্ষণ চিৎকার করে আবার ফিরে এসে নিজের জায়গায় চুপ করে বসে পড়ে। এবারে পাগলাবাবার মন্ত্র পাঠ শাশ্বতর কানে আসতে থাকে ।
পাগলাবাবার গলা পেয়ে সাহস বাড়িয়ে শাশ্বত চা করতে চলে যায় পাগলাবাবা প্রাতঃকৃত্য শেষ করে বাইরে বেরিয়ে আসেন প্রাণায়াম করতে থাকেন শাশ্বত পাগলাবাবাকে প্রণাম করে, হাতে চায়ের কাপ এগিয়ে দেয় পাগলাবাবা (চায়ের কাপ হাতে নিয়ে) আজ অনেক সকালে উঠেছ? শাশ্বত : হ্যাঁ বাবা আজ একটু তাড়াতাড়িই ঘুম ভেঙে গেছে । তবে শরীর বেশ তাজাই আছে । কাল রাতে ঘুম ভালই হয়েছিল । পাগলাবাবা তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে শরীর চর্চা করলে নাকি?
মুখটা কেমন লাল হয়ে আছে শাশ্বত ঃ না বাবা, আসলে আজ ঘুম থেকে উঠে একটু ভয় পেয়েছিলাম ১৬৬।
মুদ্রিত পাতা 167
পাগলাবাবা ঃ তা তো পাবেই অভ্যাস হতে সময় লাগবে হলে ভয় পেও তবে ভয়ের কিছু তাতে কোণ গলায় দোষ নেই । অতি সাহসী হতে গিয়ে মেডেল পরতে যেও না যা কখনও দেখ নি তা সামনে দেখতে পেলে ভয় হবেই তাতে লজ্জারও কিছু নেই । সে জীব-জন্তুই হােক বা ভূত-ভগবান । যারা আত্মহত্যা করে জন্যে কত তারাও খুব সাহসী । লোকে একটু বাঁচার কিছু করে বসে, আর এদের দেখ জীবন নিজেরাই এরা নিজেদের বীরত্বে সঙ্গে শেষ করে দেয় ।
আর দেখানো দুঃসাহসিকতা মানুষগুলোকে জগৎই বল আর ঐ জগৎই বল দুই জগতেই জন্তুর থেকেও অধম বলে বিচার করে । তোমার বন্ধু তুহিন, তোমার কাছে আসতে চায় তার নিজেই ডেকে এনেছিল মৃত্যু সে সে আগে দিনটা ঠিক থেকেই এই সাতাশ তারিখ করেছিল কারণ তার বউ-এর সঙ্গে তার প্রথম দেখা হবার দিনটিও সাতাশ তারিখ ছিল । তুহিন ভেবেছিল ঐদিনই নিজেকে শেষ করলে, সে আবার তার সাথে মিলে যাবে ।
সে এটাও ঠিক করে রেখেছিল যে, জলে ডুবেই সে তার জীবন শেষ করবে আর সঙ্গে যাবে তোমাকেও নিয়ে ছাব্বিশ তারিখ রাতে সারারাত না ঘুমিয়ে, তোমাকে নিয়েই মরবে বলে ঠিক করেছিল । আর তার এই ভাবনা তোমাকে সকালেই জানাবে ভেবেছিল । কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস, আর কর্মের ফল । সারারাত জেগে রুপা ও তোমার কথা ভেবে তুহিন তার মাথার রক্ত চাপ বাড়িয়ে নিয়েছিল ।
তোমাকে সামনে দেখতেই বিচলিত হয়ে পড়ে = আরও মাথা ঘুরে লোহার গেটে ধাক্কা খায়, আর মাথায় আঘাত পেতেই শেষ হয়ে যায় । তুহিনের প্লযানচেট তাতেও কোন ফল দেয় নি! সে এমনিতেই নিজের মনে মনে সব সময় রূপাকে অনুভব করত । ১৬৭।
মুদ্রিত পাতা 168
আসলে রুপার জলে ডোবায় মৃত্যু; কিছুতেই মেনে নিতে পারছিল না/ তে তার মৃত্যুর কথI আগেই জানিয়েছিল শাশ্বত কিত্তু রুপার স্বপ? সে যে এমন ভাবেই তার মৃত্যু ঘটবে । পাগলাবাবা ঃ অনেক সময় আমাদের অবচেতন মন, ঘুমিয়ে থেকে বা জেগে কিছুর আভাস দিয়ে যায় তা ভালই হোেক বা থেকে অনেক খারাপ, এমন হয় বলেই মানুষ অনুমান করতে পারে ।
কোন বিষয় নিয়ে বেশি ভাবনা থাকলেই তার ভাল খারাপের একটা অনুমান সামনে এসে যায় আর সেই পথ ধরে হাঁটতে থাকলে সেই অনুমান অনুযায়ী ঘটনাও ঘটে যেতে পারে তবে রুপার মৃত্যু জলে ডোবার কারণে হয় নিI সে হাটফেল করেছিল । কিন্তু এটা তো কোন ভবিতব্য ছিল না । এটা একটি এক্সিডেন্ট । যার কিছুটা আভাস রুপা আগেই পেয়েছিল । এমন অনেকের সঙ্গেই ঘটে থাকে। শাশ্বত ঃ আর বাবা, তুহিনের অন্যরকম আচরণ ও অন্য ভাষায় কথা বলাটা, সেটা তাহলে কি ছিল?
পাগলাবাবা ঃ না, অন্য কোন ভাষায় সে কথা বলত না । সে তার ভেতরেই রূপাকে অনুভব করত, দুজন-দুজনের সাথে কথা বলত। তাই তার জড়ানো কথাগুলো অন্য ভাষা বলে মনে হত। মানুষ মনে করলে বাঘ-সিংহের ডাকও হুবহু নকল করতে পারে । আর তো নারী-পুরুষকে এক সাথে এনে কথা বলত । একই মানুষ যখন দুটো সত্ত্বার সঙ্গে কথোপকথন করতে থাকে; বাইরে থেকে শুনলে তখন তা অন্য ভাষাই বলেই মনে হয় । তাই তোমার এমন মনে হত ।
শাশ্বত ঃ তবে তুহিন আমাকে কেন ওর সাথে নিয়ে যেতে চেয়েছিল? ১৬৮।
মুদ্রিত পাতা 169
পাগলাবাবা ঃ তোমার বন্ধু একবার রুপাকে দেখতে চেয়েছিল । তার কাছে সে ক্ষমা চাইবে ভেবেছিল আর তাকে খুঁজে বেড়াতে গিয়ে সে রুপার অস্তিত্ব নিজের মধ্যেই অনুভব করতে থাকে । তুহিন বুঝে যায় শরীর থাকলে বোধহয় দুজন-দুজনকে দেখতে পাবে না আর তখনই নিজের শরীর ছাড়ার জন্য মনস্থির করে নেয় তারপর তোমার কথা ভাবে, কারণ সে তোমাকেও হারাতে চায় না ।
ছাব্বিশ তারিখ রাতেই সে ঠিক করে নেয়় পরে নয়, এখনই সে তোমাকে নিয়ে রুপার কাছে যেতে চায় তারপর থেকে যা ঘটল তা তো তোমার জানা শাশ্বত উফ্ ! বলে মাথায় হাত দিয়ে দালানে বসে পড়ে । পাগলাবাবা ঃ তোমায় সমস্ত ঘটনা জানাবার একটাই কারণ । তুমি যা জানতে পথে এসেছিলে; তা তোমাকে এখন জানানো হল ।
যে কোন ঘটে যাওয়া ঘটনা থেকেই আর এক ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যা তোমাকে এই পথে অভিষেক ঘটিয়ে শুরু করা হল এখন থেকে তুহন রুপার ঘটনা, তোমাকে আর বিচলিত করবে না !
পিছুটান ছিন্ন না করতে পারলে সামনের দিকে এগোন যাবে না / এখন থেকে তুমি শুধু তোমাকে জানতেই চলতে থাকবে আর নিজেকে জানার পথে চলতে পারলেই বাকি সকল কেই একটু-একটু করে জানা হয়ে যাবে আর নিজেকে জানতে যে কর্ম লাগে তা আমি সময়-সময় দিতে থাকব মনে রেখ মানুষই ঈশ্বরের সর্বশ্রেষ্ঠ জীব/ তাই মানুষ থাকতেই ঈশ্বর থাকেন।
মানুষই একমাত্র তাঁর অস্তিত্ব অনুভব করতে পারে আর সেই সর্বশক্তির আধার সর্বজ্ঞানের আধার 'ভগবান' এ মানুষই মিলিত হতে পারে যে জগতের অংশ হয়ে তুহিন ও রুপা মাটিতে পা দিয়েছিল, সেই জগতেরই আরেক অংশ হয়ে তুমিও মাটিতে পা দিয়ে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ছিলে / আবার মাটি ছাড়লেই যো যার কর্মফল অনুযায়ী এক-এক স্তরে তার ফল ভোগ করতে ১৬৯।
মুদ্রিত পাতা 170
তর সেই ফল ভেগ করে আবার নতুন ঢলে যায় করে '1" নিয়়ে থাকে। সেখানে শুধু নিজের কর্মফলের যদ্ত্রনাই ভোগ কবতে হয় । সেই যন্ত্রনী থেকে ; কিছুতেই নিজেকে মুক্ত করাব পথ খুঁক্জে পাীয় না । তাই সেই স্তরের নাম 'প্রেতলোক'।
সেই প্রেত হতে মুক্তি পেতে সাধকদের কাছেই যেতে চায় কার্য সাধক দুই জগতের সমতা রেখেই কর্ম করতে পারে গেেেশ প্রেতের নিজস্ব কোন কর্মের ক্ষমতা থাকে না, তাই সে সাধক ( দিয়ে তাকে উদ্দেশ্য করে কিছু কর্ম করিয়ে নেবার চেষ্টা 71 আর সাধক যদি তাকে উদ্দেশ্য করে সত্যিই কোন কর্ম করে দেন তবে সে প্রেতলোক হতে উদ্ধার পায় শাশ্বত কিত্তু তুহিন আমার কাছে আসতে চায় কেন? আমি তো তা দেখতেও পাই না / আমি কি করে ওর হয়ে কর্ম করে দেব?
পাগলাবাবা ঃ সে তোমাকে উদ্দেশ্য করে আমার কাছে আসতে চায় । আনি যাতে এই যন্ত্রণা থেকে মুক্ত করে দিই । শাশ্বত ৪ তবে দিন না বাবা মুক্ত করে তাকে । সে তো অজ্ঞানীই ছিল। সে কিছু না জেনেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে । তুহিন শুধু আমার বন্ধু ছিল না / ও আমার সব কিছু ছিল । আজ ওর জন্যই তো আমি এখানে] তুহিন নিজেকে শেষ করে আমাকে শুরু করিয়ে দিয়ে গেছে] আমি তো ওর কাছে একপ্রকার ঋণী ।
পাগলাবাবা ঃ কাউকে মুক্তি দেওয়া তোমার হয়ে আমার কাজ না / আমরা মানুষ জন্ম নিয়ে নিজেরাই নিজেদের মুক্ত করতে এই পৃথিবীতে এসেছিলাম । আর পথভ্রষ্ট হয়ে মিথ্যা কেনাবেচা করতেই খেলা ঘরে সুখ দুঃখ মেতে গিয়েছিলাম নিজেরাই নিজেদের স্থান বেছে অজ্ঞানী হয়েই রয়ে গিয়েছিলাম ।
যেমন সবচাইতে তাই মানুষ জন্ম একদিকে পাপের পূণ্য জন্ম, আবার আর একদিকে সবচাইতে কারণ এই ব্রহ্মাগ্ডের আনন্দে মেতে সকল জ্ঞান নিয়ে জন্মেও অজ্ঞানীর জ্ঞানের প্রকাশ না ঘটিয়েই অজ্ঞানী হয়েই দেহ ১৭০।
মুদ্রিত পাতা 171
ছেডে দেওয়়া / তাই তার ফল স্বরূপ এই প্রেত লোকে মানুষকে প্রেত হয়েই কাটাতে হয় । তাই দেহ থাকতেই কর্ম করে এই পাপ পুণ্যের খেলাঘর থেকে প্রেতলোক পিতৃলোক ভেদ করতে হয় । আর এই জীবনচক্র থেকে মুক্তিলাভ তখনই করা যায় । শাশ্বত তবে কি এই যন্ত্রনা থেকে সে কোন ভাবেই মুক্তি লাভ করতে পারবে না? পাগলাবাবা ঃ হ্যা পারবে । তুমি চাইলে সে মুক্তি পেয়ে আবার দেহ ধারণ করতে পারবে তার আগে তোমায় সাধন করে দুই জগতেই বিচরণ করতে হবে ।
তারপর তোমার কর্মেরই কিছু ফল তাকে প্রদান করতে হবে। সে ক্রিয়াও আমি তোমায় শিখিয়ে দেব । নিজেকে রক্ষা কবচে বেঁধে তাকে উদ্ধার করতে হবে । তোমার বন্ধু তুহিনের নিজেকে শেষ করে দেওয়াটা যদি তোমার এপথের শুরু হযেই থাকে, তবে তোমার এ পথের শিখরে পৌঁছনই ওর আবার নতুন জীবনের শুরু হয়ে যাবে। তাই তোমার সব কিছুই এখন এই পথের শিখরে পৌঁছবার লক্ষেই চলতে হবে তবেই সে উদ্ধার পাবে ।
উপরে দাঁড়িয়ে নিচে পড়ে যাওয়া লোককে টেনে তুলতে পারা যায় দুজনেই নিচে পড়ে রইলে কেউ কাউকে তুলতে পারবে না । মনে হয় এ বিষয়ে এর চেয়ে বেশি তোমায়, আমায় আর বোঝাতে হবে না / যদি বুঝে থাক তবে নিজেকে উপরে তোলার ভাবনাই এখন শুধু রেখ, বুঝলে? শাশ্বত ঃ (একটু চুপ করে থেকে) না বাবা, বিষয়ে আমি আর কিছু জানতে চাইব না !
শুধু এই টুকুই বুঝতে পারলাম-তৃষ্ণা মেটাতে কুয়োয় পড়ে যাওযা বালতিতে জল ভর্তি করে আমারই হাতের দড়়ির দ্বারা তাকে টেনে তুলে আনতে হবে তাতে একদিকে যেমন বালতি ভরে উঠবে, আর এক দিকে তেমন আমার শুকিয়ে যাওয়া গলার তৃষ্ণা মিটবে । ১৭১।
মুদ্রিত পাতা 172
জাগতিক তাজাগতিক শুধু আপনার আশার্বাদে মমারই হাতের দড়ি ঢেে শোগার আমাপও শপ্নীবে প্রবেশ বরাতে হবে । গত গণলানীণী ভগ় পেওমা; শে পশে তুনি চপবে তোমার' আে ওরুর আশার্বাদও তোমাকে পথ দেগাতে পরাকব ৪ে সেেনায এগিয়ে ঘেতে হবে, গ্রামলে চলবে না মগে ব্লেগ কেনট একন পারলে আমিও একদিন পারব। এখন অনেক বেলা হল। তুমি তোমার চিকিংসালয়ে চল্লে যা9 পারলে একটু তাড়াতাড়ি ফিরে এনো তবে রুগ ঢেডে নে21 তোমার দীক্ষার জন্যে অনেক বিছ কিনে আনতে হরে ।
ভকু 48 করতে হবে । বেশ অনেক টাকা খরচা হবে । তোমার ডাতরী ^ টাকা পয়সা গুলো, যেগুলো তুমি আমার আসনে রে: দিে; সেই টাকাগুলো আমি একটা কৌটোর মধ্যে রেখে দিরেছি । ঐ টাকাগুলো তু;ি নিয়ে বেশ জাকজমক করে দীক্কার দিনটা পন কর । ডাক্তার বলে কথা, বেশি খরচ-টরচ না করলে আমার তোমায় কিপটে বলে মনে হবে আবায আর লোকে বলবে, ভিখারী ডাক্তার দীক্ষা নিল একটু ভালমন্দ বেন করাল না । খাওয়া দাওর়া শাশত তবে বলে দিন না বাবা, কেমন করে গুরুবরণ করতে হয়?
কী কী দীক্ষার জন্যে কিনে আনতে হবে? আর আপনাকে দেখাতে আর তখন দেখবেন লোকে আমি একটুও কৃপণতা করছি না ! যাতে করে বলতে পারে- -উদার গুরুর উদার শিষ্য তৈরি হয়েছেো কেউ ব্যঙ্গ করে বা ভালবেসেই একটু চাইছি । আর সেই খুশি বলুক আমি ভগবান হতে পেতে; কথা ভাবব না । আমি কোন ভাবেই টাকা-পয়সার পাগলাবাবা ঃ (হো-হো পাগল করে হেসে) কেউ কেউ ২০: গেছে। কিন্তু আবার বলবে ডাক্তারটী জান তো শাশ্বত পাগল আবার দুই ১৭২।
মুদ্রিত পাতা 173
প্রকার হয় । এক পাগল এই জগতে এসে আমার-আমার করে কামিনী-কাঞ্চন উপার্জন করতে থাকে। আর দিয়ে ব্যাঙ্কে ভরে আমার অর্থ আমাকে অমর করবে ভেবে, সব শেষে অপরকে দান করে পৃথিবী ছেড়ে চলে যায় আর এক পাগল-এ জগতে এসে নির্বানকাঙ্খী হয়ে নিরাকারে মিলতে আমিত্ব সরাতে অজাগতিক কর্মে লিপ্ত হযে থাকে। সব ব্যস্ততা ছেড়ে নুড়ি-পাথরেও ব্রহ্মীণ্ডের অস্তিত্ব ভেবে 'পরমব্রহ্মকে খুঁজতে তাকে সামনে রেখে চোখ বুজে বসে থাকে ।
অন্যদিকে জাগতিক কর্মে থাকা মানুষগুলো নিজেদের আমিত্ব বাড়াবার ব্যস্ততা নিয়ে দু-দণ্ড শান্তিতে চোখ বুজবার সময় পায় না ভাবে চোখ বুজলেই যদি আমিত্ব চলে যায়, তাই নিজেকে সজাগ রাখতে চোখ বুজতেই চায় না ।
তাই এই দুই ধরণের পাগল দুজন-দুজনকে দেখে পাগল বলে হাসতে থাকে তারই মাঝে জাগতিক কিছু পাগল, অজাগতিক পাগলের কাছে, কি আনন্দে তারা মেতে থাকে সেই খোঁজ নিতে পৌঁছে যায তখন সেই অজাগতিক পাগলগুলো জাগতিক পাগলের থেকে দুঃখ কি হয় জেনে তাকে চিকিতসা করে অজাগতিক পাগল করে আনন্দে মাতিয়ে রাখে । আর ভাবে, একজনকে হলেও তো নিরানন্দ থেকে আনন্দের পাগলামিতে মাতানো গেল তা, তোমার_তো দেখছি চোখ বুজে থাকা পাগলটাকেই বেশি পছন্দ হল ।
আর এই পাগল হতে গেলে সময়-সময় চোখ খোলা বোজা দুটোই জেনে লোকাচারে থেকে বেদাচার পালন নিজেকে লুকিয়ে রাখতে হয় করে তাই তোমাকেও চোখ বোজা চোখ খোলা দুই শিখে রাখতে হবে আর তোমার গুরুবরণ দীক্ষার দিন কি কি কিনে আনতে হবে সেটির জন্যে আর একটু অপেক্ষা করে সরাসরি তোমার গুরুমার থেকেই জেনে নিও সে তো আজই এখানে চলে আসবেন । ১৭৩।
মুদ্রিত পাতা 174
জাগতিক তাজীগতিক শাশ্বত ঃ আচ্ছা ওরুমা কি একাই কোলকাতা থেকে চে জপবেন তাকে নিয়ে আসবে । 7কি আরও অন্য কেউ পাগলাবাবা তা তো আমি বলতে প।রব 7]। `ে প্যপারঢ] ছেলে-মেয়ের । তাঁকে একাই ছাড়বে, নI সঙ্গে নিয়ে তাব পৌঁঢে দেেব । আর একটু সময় গড়ালেই বোঝা যাবে কি বল? শাশ্বত ঃ তা তো ঠিকই । আসলে আমি ভাবছিলাম আপনার আদেগ নিে আমি স্টেশনে একবার চলে যাব কিনা পাগলাবাবা ঃ না, না তোমায় কষ্ট করে স্টেশনে যেতে হবে ন। ।
(ি এক এলেও সে ঠিক পথ চিনে এখানে পৌঁছে যাবে । (বলে- পাগলাবাব কুটিরে প্রবেশ করেন ।) (হাতের ঘড়িতে নজর দেয়) । ঘড়়ির কাঁটা তখন ৬টার করে ঘর পার দিয়েছে । তাড়াতাড়ি করে নদীতে স্নান করতে চলে প্রার। নদীর পারে দাঁড়িয়ে নদীর ওপারে ভালভাবে লক্ষ করতে থাকে শাশ্বত । অর্ক ও অর্কের মায়ের কথা মনে পড়ে যায় তাকে খোঁজ করতেই নদীর এপারে দাঁড়িয়ে নদীর ওপারে ভালভাবে বোলায় আর মনে মনে ভাবে চোব আরেকবার দেখতে পেলে হয়ত ভালো হত ।
ভাবতে ভাবতে নদীতে নেমে পড়ে । স্নান করে উঠতেই নিজর পড়়ে কারা যেন সব দল বেধে শবদাহ দিকে আসতে করতে নদীর থাকে । পাড়ের গোটা দশেক লোক সঙ্গে দু-তিন জন খোল, করতাল, মহিলা, ঘণ্টার সঙ্গে হরিবোল হরিবোল করতে নদীর পাড়ে উত্তরের দিকে করতে চলে যায় শাশ্বত মনে মনে ভাবে এইতো হল জীবন । যাত্রাপালা ।
নাটকের পর্দা তুলে শুরু আবার শেষ করে পর্দা ফেলে সরঞ্জাম কিছু নষ্ট কিছু গুছিয়ে দেওয়া নাটকের দর্শকের রাখা আসন ভরা যাত্রা শুরু হলে উৎসাহী বিচারক অভিনয়টা ভালো হয়ে আজ দেখি কতো মজা ছিল । গল্পটা ভালো ছিল ভালো অভিনয়টা নয় নয় কখনো বা গল্পটা সব শেষে পুরস্কার পরাবে গলায় ১৭৪।
মুদ্রিত পাতা 175
মালা এইভাবেই শেষ থেকে শুরু আবার নতুন নামের পালা, এই তো জীবন না জানি কে শেষ করল আজ তার যাত্রাপালা, কৌতুহল বশত শাশ্বত এগিয়ে দেখতে যায় শবের মুখখানা দেখে আহারে বেশি বয়স তো নয় / কি হয়েছিল মেয়েটির শাশ্বত জিজ্ঞেস করে শবের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মাঝ বয়সি লোকটিকে (মাঝবয়সি ভদ্রলোক) অজানা জ্বর, সাতদিন হাসপাতালে রেখেও বাঁচানো গেল না / শ্রাশ্বত ওহ ! কত বয়স হবে মেয়েটির?
ভদ্রলোক ঃ এই তো উনিশ হলো বিয়ের কথা চলছিল তারই মধ্যে এমনভাবে ভগবান ওর জীবনটা কেড়ে নিল । (শাশ্বতর দিকে ফিরে) আচ্ছা আপনাকে দেখে তো এখানকার সাধুবাবা বলেই মনে হচ্ছে । এ কেমন বিচার বলুন তো ভগবানের? সবে তো মেয়েটি জীবন শুরু করেছিল এখনই তাকে মরতে হলো? শাশ্রত ৪ হ্যাঁ তাই তো । যিনি প্রাণ দিলেন তিনি আবার নিয়ে গেলেন বিচার ক্ষমতা খালি আপনাকে আর আমাকে দিয়ে গেলেন।
দুঃখ করে কি আর হবে বলুন তার চেয়ে বরং কামনা করুন যে গেল সে যেন সেই প্রাণ কর্তার কাছেই উত্তরটা জানতে একবার যেতে পারে! (বলেই কুটিরের পথে ফিরতে থাকে ।) কুটিরে ফিরে পাগলাবাবাকে প্রণাম করে (আজ কি রান্না হবে?) পাগলাবাবা ঃ না থাক; আজ আর তোমায় রান্না করতে হবে না / অনেক খাটা খাটনি যাচ্ছে তোমার । তুমি বরং আর একটু বসে আরাম করে নাও রান্নাবান্না ওসব ঠিক হয়েই যাবে তুমি অত ভেবো না । যার কাজ সে ঠিক করে নেবে ।
নাও তুমি একটু জল মিষ্টি খাও (বলে পূজার প্রসাদ হাতে তুলে দেন) । শাশ্বত ঃ শরীর আমার ঠিকই আছে তেমন কোন ভারি কাজতো আমায় করতে হয় না / আর রান্না করা সে তো কোন কষ্টই নয় ১৭৫।
মুদ্রিত পাতা 176
পগলাবাবা ও শরীর তোমার ঠিকই আছে? আমার তোমায় দেখে কেমন ক্রাস্ত মনে হচ্ছে আজ আবার এখানে কিছু লোকজনের খাবারের কথী ছিল। তাই বোধহয় তোমার ক্লাত্তিটা আমার চোখে বেশি ধরা পড়ছিল আসলে দূর থেকে অনেকক্ষণ খালি পেটে থাকা লোকগুলো তোমার হাতের রান্নার গুনের স্বাদ পেয়ে ওরা ক্লাত না হয়ে পড়়ে । তাই তুমি আজ এক কাজ করো, অসুস্থ না হলেও একটু অসুস্থ হবার ভান করো তাতে তোমার জিভ আর পেট আরো সুস্থ হয়ে উঠবে ।
শাশ্বত ঃ (একগাল হেসে) জিভ পেটকে আনন্দ দিতে আমার মও বেশ কিছুদিন ধরে চাইছিল স্বপাকে নিরামিষ খেয়ে মনটা মনে ক্া সত্যি একটু অসুস্থ হয়ে উঠেছিল আচ্ছা বাবা নিরামিব খাওয়ার কি কোন শাস্ত্রে বিধি আছে? পূজা করতে গেলেই নিরামিষ আহার করতে হবে তা না হলে জীব হত্যার পাপ লাগবে এমনতো অনেক শুনেছি কিত্তু আপনারা তো সবকিছুই খেয়ে থাকেন তবে পথে কোন আলাদা নিয়ম আছে? পাগলাবাবা কোন পথেই নিরামিষ খাওয়ার কোন শাস্ত্র বিধি নেই ।
বেদ, পুরাণ, রামায়ণ, মহাভারত যা থেকে আমারা জীবন জ্ঞান লাভ যাপন করার করে থাকি) কোথাও তেমন কিছু নিরামিষ আহারের আদেশ করা নেই । সব জায়গাতেই আছে দু-ধরণের খাবারের কথা বলা কারণ এই জীবজগৎ একে অপরের অপরের উপর শক্তি পরিপূরক । একে সঞ্চার করে এই জীবন চক্র এগিয়ে নিয়ে চলে রামায়ণে শ্রীরামচন্দ্রের পিতা দশরথের আছে । আবার মৃগয়া করার সীতামার কথাও বলা সোনার হরিণ, মেটাতে ওঁনারা জীবহত্যা নিজেদের শখ করতেন?
নিজেকে বাঁচাবার হত্যা করা কোথাও প্রয়োজনে অপরকে পাপ বলে বিচার্য নয় মহিষাসুরকে হত্যা তাই রাবণ, কংস, করে দেবতাগণ নিজেদের অস্তিত্ব বজায় ১৭৬।
মুদ্রিত পাতা 177
রেখেছিলেন এমন পশু হত্যার কথা সব ধর্মগ্রস্থেই প্রকাশ করা হয়েছে । তাই ধর্ম রক্ষার্থে কুরুকেত্রে ধর্ম রক্ষী পালনেই হত্যা করা হয়েছিল আর এই প্রকৃতিতে সব জায়গাতেই গ্রাণের অস্তিত্ব আছে তাসে জড়ই হােক বা উদ্ভিদ য় খালিচৌখে দেখাই যাক বা না দেখাই যাক; তাই তুমি শুধু জল কেই খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করলে তাতেও প্রাণের অস্তিত্ব পাওয়া যাবে কারণ তা এক প্রাণশক্তি আর এক প্রাণশক্তিতে প্রবেশ করে প্রকৃতি তার সমতা বজায় রেখেছে ।
এই প্রকৃতিতে গাছের ফুল থেকে যে ফল আকার সবে ধারণ করে, সে আবার একদিন ডালপালা যাবে; ছেড়ে বৃদ্ধ হয়ে মাটিতে পড়ে আর পচে গলে তার আকার ছেড়়ে দেবেI তেমনই মাংস পেশী আজ গঠন করলেও কাল আবার পচে গলে মাটিতে মিশে যাবে । এটাই প্রকৃতির নিয়ম । তবে কি প্রকৃতি হত্যাকারী? না, এটাই প্রকৃতির ধর্ম । যে সৃষ্টি করে সেই আবার শেষ করে, শক্তি সঞ্চয় করে আবার রূপান্তর ঘটায় আসলে কেউ কারোর প্রাণশক্তিকে হত্যা করতে পারে না, ভাবশক্তিকেই হত্যা কররে !
জ্ঞানী অজ্ঞানীকে হত্যা করে জ্ঞানই প্রদান করে থাকে। তাই শাস্ত্রে বলিপ্রথার কথা উল্লেখ করা আছে । জ্ঞানরূপী খড্গে, অজ্ঞানীকে জ্ঞান প্রদান করাই এই বলি । প্রাণ শক্তি আত্মাকে যেমন কেটে ফেলা যায় না বা আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া যায় না; তাই তাকে হত্যা করা যায় না । তবুও হয়ত অনেক জায়গায় শুনেছ সাত্বিক আহার নিরামিষ । তাই সাত্বিক হতে গেলে নিরমিষকেই খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করতে হবে তা না হলে সাত্বিকতা হারাবে ।
তাদের যুক্তি অনুযায়ী উদ্ভিদের প্রাণ আছে, এবং তাতে না দেখতে পাওয়া প্রাণের অস্তিত্বও আছে তবুও তাকে হত্যা করে পূজ্য ১৭৭।
মুদ্রিত পাতা 178
ভগবানকে উৎসর্গ করে খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করা যায় তাতেও পাপ হ্য ত ভগবানকে সমর্পণ করে খেেো ভগবান .ি (7! পপ থেকে মুক্ত করে দেবেন । কারণ সে হত্যায় দৃষ্টি কটুকতা নেই বা তার হত্যাটা কোন যা কান ভেদকরা প্রাণীর নয় এমন ভাবনায় অনেক প্রাণী শব্দ করলেও দেহ তার সাত্বিকতা ছাড়ে না / তাই নিরামিব ২৩্য।
আহারকে সাত্বিক আহার বলে ধারণা করা হয়েছে আসলে আহারে কোেন সাত্বিকতা থাকে না নিজেকে সাত্বিক গড়ে তুলতে নিজের ভাবক সাত্বিক করতে হয় সকলকেই ভালবাসা শ্রদ্ধা করতে হ্া। শুধু কোন বড় আকারের প্রাণীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় ৩ সকলেই সেই অসীম শক্তির অংশ আর সকলেই কোন নী কোন উদ্দেশ্যে এই প্রকৃতিতে জন্ম নিয়েছে। তাই হত্যা সকল ভাবলে প্রাণীই কাউকে না কাউকে প্রতিনিয়ত হত্যা করে চলেছেো এই ভাবেই জীবন চক্র গড়েছে ।
বনের হিংস্র জন্তু যেমন বলে কৌশলে শিকারকে পরাস্থ করে খিদে ছলে; মিটিয়ে নিজেদের রক্ষা করে চলেছে তেমনই আবার নিরীহ জীবগুলো শিকার করেই প্রকৃতিতে বেড়ে ওঠা য গাছপালা, ফল রক্ষা করে চলেছে । মূল খেয়েই জীবন সৃষ্টিকর্তা তাই তাকে গঠন ও শক্তি সেই চোখ, নাক; অনুযায়ী প্রদান করেছেন । কান, দাঁত নখ যার যা তাই দিয়েই প্রয়োজন গড়ে সেই অনুযায়ী তাকে সহজাত তুলেছেন ।
যাতে সে তার জীবন যাপনের পথ প্রকারেই বেছে নিতে পারে ঈশ্বরের সর্বশ্রেষ্ঠ জীবই হল বর্তমান মানুষ । থাকে। যা দিয়ে যার ভেতরে এই দুই গুণই সে এই পরিচালনা জীবজগতের করতে ক্তা হয়ে সকলকে প্রতীক পারে 4 প্রয়োজনে হয়ে দেব- দেবীতে হিংসা অহিংসার মিলিত হতে পারে তবে সাধারণত ১৭৮।
মুদ্রিত পাতা 179
জাগতিক অজীগতিক খাদ্য থেকে কিছু মনের ভাব বিকাশ ঘটতে পারে । ইন্দ্রিয় সকলের গ।তি বাড়াতে পাডর তাহ কিছু মহাপরুযগণ খাদ্যের তালিকায় নিরামিষ খাদ্য গ্রহণের দ্বারাই ইন্দ্রিয় সকলকে নিয়স্ত্রণ রাখার পরামর্শ দিয়়েছেন ।
যার দ্বারা মানুষ ইন্দ্রিয় সকলের উত্তেজনার মাত্রা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে আর যতটী সম্ভব নিজেকে নিয়স্ত্রণ করে শুদ্ধ চিত্তে সাধারণ জীবন যাপন করতে পারে তাই সাধারণ সকলকে দেহ শুদ্ধির মন্ত্র ও আহারের সাহায্যে জীবন যাপন করে ভগবানের নাম গান করার পরামর্শ দিয়েছেন । কিন্তু এপথে উল্টো নিয়ম । তাই আবার অনেক মহাপুরুষ এ পথ নিয়ে উল্লেখ করে গেছেন । পথ সবার জন্য নয় ।
যার আত্মবিশ্বাস আছে; নিজেকে সমর্পণে সক্ষম, ইন্দ্রিয় সকলের প্রতি সহজাত নিয়ন্ত্রণ আছে; সেই এই পথে এগোতে পারবে । তাই সকলকে এই পথে ধরে আনা হয় না। এপথ যেহেতু সাধারণের নয়, এপথে ভুলের ক্ষমা হয় না । শাস্ত্রে তিন ভাবে পূজার কথা বলা আছে । পশুভাব; বীরভাব দিব্যভাব । পশুভাব-যে ভাবে অজ্ঞানী অবস্থায় ক্রিয়া করা যায় এইভাবে সকলেই পূজা করতে পারে তাতে কোন ভয় থাকে না ।
সে তার শুদ্ধ চিত্তে এই ভাব থেকে জ্ঞানের প্রকাশ ঘটিয়ে নিজেকে বীরভাবে প্রবেশ করাতে পারে । নিজেকে বীরভাবে প্রবেশ করিয়ে ইন্দ্রিয় সকলের পরিচালক হয়ে সকল আহারই গ্রহণ করে, বীরত্বের সঙ্গে নিজেকে জানার লক্ষ্যে সাধনার পথে লিপ্ত হয়ে এগিয়ে চলে খাদ্যের দ্বারা নয়, জ্ঞানের দ্বারাই নিজেকে পরিচালনা পারেো করতে ১৭৯।
মুদ্রিত পাতা 180
দুধ যে প্রাণীজ আহার, তা সে আমিষ আহার গন্যেই গ্রহণ করে এই বীর ভাবে থেকে বহু সাধকই তাদের থাকে সাত্বিকতার নির্দশন দেখিয়ে ভগবানে মিলিত হয়ে অতি মানবের আখ্যা নিয়ে আজও এই পৃথিবীতে পূজা পান এই পৃথিবী যতকাল থাকবে; এই পৃথিবীতে তারা অমর হয়েই থাকবেন । তুমি মনে রেখ তুমিও সাধারণের মত দীক্ষা গ্রহণ করে এ জীকা কাটাতে আসনি নিজের ভেতরে আগুন জ্বালিয়ে নিজের জাগতিকতা কে পুড়িয়ে অজাগতিক উৎসে মিলিত হতেই পথে পা দিয়েছ।
যা তোমায় এ জীবনচক্র থেকে উদ্ধার করতে পারে । তুমি এবার শৈবাচারে প্রবেশ করবে । এই আচার থেকে জীবআত্মার সম্বন্ধে তুমি জ্ঞান প্রাপ্ত হবে । এই ভাবে এক-এক আচারে এক-এক জ্ঞান প্রবেশ করিয়ে, বীরভাবে প্রবেশ করে প্রাপ্ত জ্ঞানকে সংরক্ষণ করে সেই জ্ঞানে বীরাচারী সাধক হয়ে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাবে দারিদ্রতা ছেড়়ে রাজসিক ভাবে রাজ-রাজেশ্বরীতে মিলিত হবে বনে থাকা আকার ও শক্তিতে বড় গণ্ডার বা হাতি রাজা সিংহকেই হলেও বনের বলা হয় ।
যে রাজাকে বাহন করে দুর্গা তার জগতের সমতা দশভূজা দেবী রক্ষা করেন। অনুযায়ী তাই আমরাও আচার খাদ্যের তালিকা রাখি । এবং ভেবে, তার চরণেই গুরুকেই আমাদের নিয়ন্ত্রক আত্মসমর্পণ করে গুরু মেনে এপথে চলতে হয় আজ্ঞাই বেদ বাক্য" কেউ পর্বত পরিক্রমা করতে যায়, দেখেই আনন্দ আর পর্বতের শান্তি শিখর নিচ থেকে পায় আবার ছুঁতে পর্বতে চড়তে চায় কেউ কেউ পর্বতের শিখর তাই ভাব এক হলেও ক্রিয়া এক নয় । ১৮০।
মুদ্রিত পাতা 181
আর সেই ক্রিয়া অনুযায়ী ফল নিয়ম আলাদা হয়ে থাকেো বুঝলে শাশ্বত? শাশ্বত ঃ হ্যাঁ বাবা বুঝেছি। পর্বতের শিখর ছুঁতে গেল আত্মবিশ্াস নিয়ন্ত্রণ দুটিরই প্রয়োজন হয় তার সসে ওুরুর আশীর্বাদ ! তানা হলে সময়ের ক্ষয়ে পর্বত পরিক্রমারও সুযোগ নষ্ট হয়ে যায়, বলে পাগলাবাবাকে প্রণাম করে পাগলাবাবা ঃ (শাশ্বতকে তুলে ধরেন) নাও, অনেক বেলা হল, তুমি তোমার কাজ সেরে নাও । বলতে না বলতেই প্রশাস্ত তার গিন্নী সঙ্গে তার ছেলেকে নিয়ে প্রবেশ করে ।
শাশ্বত ও গুরুজীকে কথা বলতে দেখে তিনজনই কুটিরের ছোট গেটের কাছে দাঁড়িয়ে পড়ে। (যেন অসময়ে তাদের আগমন ।) অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করার চাহিদায় প্রশান্ত (শাশ্বত বলে গেটের বাহরে থেকেই ডাক দেয় ।) শাশ্বত ৪ (ফিরে দেখেই) এসো, এসো, (বলেই গেট খুলতে এগিয়ে যায়) E তারা তিনজনই একসাথে কুটিরে প্রবেশ করে ।
পাগলাবাবা দালানে দাঁড়িয়ে আছেন প্রশান্ত তার গিন্নী ছেলে পাগলাবাবাকে প্রণাম করে পাগলাবাবা তোমরা বসো, অনেক দূর থেকে এসেছ একটু জল খেয়ে জিরিয়ে নাও । তোমরা আবার খুব অসুস্থ বলেই শুনলাম / শাশ্বত; তুমি আগে একটু জল দাও । না, না বাবা আমিই নিয়ে নেব, ওকে আর কষ্ট করতে হবে না / প্রশাস্ত ঃ নিজেই নিয়ে নেবে তবে থাক। পাগলাবাবা ঃ ও, প্রশান্ত : এই হল আমার গিন্নী, বাবা ' ১৮১।
মুদ্রিত পাতা 182
আসার লোক নও তা সে আমি পাগলাবাবা তুমি যে অন্যের বউ নিয়ে কোন কোন ঠাকুর তবে বল বউমা তোমায় আগেই বুঝেছি । দর্শন দিলেন? পেরে) ঠাকুর দর্শন বাবা; খুব বেশি হ্য় বউমা ৪ (তেমন কিছু বুঝতে ন মন্দিরে ঠাকুর দর্শন করেছি নি । তবে এই হরিদ্বারে বেশ কিছু আগে পাহাড়ের দিকে যেতাম সেখানকারও কিছু আর আগে বেশি নয় আর এখন তো ছোট বড় মন্দির দর্শন হয়েছে । তার বাবা শরীর একেবারেই দেয়না, তাই আর পেরে উঠি না । তো পারার কথাও নয় ।
শিব-দুর্গা-কালী তোমরা তো পাগলাবাবা ঃ না আর জ্যান্তই দর্শন লাভ করেছ । সে নাকি আবার তোমাদের আবার সেই ভবিষ্যৎ বাণী কী এই রকমই ভবিষ্যৎবাণীও করে দিয়েছেন ছিল? যে যতকাল বাঁচবে; চোখ খোলা রেখে মরা হয়ে থেকো । আর নড়াচড়া করলেই চোখ টাও বুঝি বন্ধ হয়ে যাবে । তাই তো নড়াচড়াও করা যাবে না । আর অনিমেষ তোমায় তো আবার ভগবান হাত ধরে ছিলেন তাই তুমিও ত্রিকালদর্শী হয়ে উঠেছ। কী বল অনিমেষ বাবু । অনিমেষ না বাবা, আমি তো কোনো কালই দেখতে পাইনা।
পাগলাবাবা ঃ তা দেখবে কী ভাবে, তোমার মুখেও তো দেখছি দুটোই চোখ আছে । যা দিয়ে শুধু এক কালই দেখতে পাবার কথা আর যে ভগবান তোমার হাত ধরেছিলে তার কী তিনটে চোখ দেখেছিলে? তা সে কেমন তিন চোখ দেওয়া দেবতা ছিলেন? শিব ঠাকুর না মা কালী। অনিমেষ ঃ (ভয়ে ভয়ে) না উনি তো কোনো দেবী দেবতা ছিলেন না । খুব বড় একজন জ্যোতিষী । পাগলাবাবা ঃ যিনি জ্যোতি দর্শন করেন নি; তিনি জ্যোতিষী নন আর যিনি জ্যোতিদর্শন করেছেন, তিনি তো অন্যকে আলোরই পথ ১৮২।
মুদ্রিত পাতা 183
দেখান; জ্যোতি ঈশ = জ্যোতিষ জ্যোতি মানে আলো; ঈশ শব্দের অর্থ পথ অর্থাৎ আলোর পথা তা সে কেমন জ্যোতিষী, তিনি তো তোমায় আলোর পথই দেখাবেন তীনা করে অন্ধকারই ধরালেন তাই বোধহয় উনি তোমার কাছে শুধূ জ্যোতিষী নন । অনেক বড় জ্যোতিষী / যিনি অন্ধকারও দেখিয়ে থাকেন / তিনি জ্যোতি দর্শন ছেড়ে পাতাল দর্শনেই সিদ্ধিলাভ করেছেন । আর সেই সিদ্ধি দিয়ে তোমাকেও পাতালে প্রবেশ করিয়ে দিয়েছেন । তুমিও বুঝে উঠেছ পাতালে তো আর ভবিষ্যতের চিত্তা থাকে না ।
তাই তোমারও ভবিষ্যৎ চিত্তা নেই । পড়াশোনা ছেড়ে পাতালবাসী হয়েই রয়েছ । দু-চোখ খুলে দেখতে শেখো । অপরের চোখে শুধু স্বর্গ-নরকের গল্প শুনে আনন্দ বা দুঃখই পাওয়া যায়, নিজে দেখা যায় না । বিশ্বাস করো কিন্তু কারও প্রতি অন্ধ বিশ্বাসী হয়ো নাI বিশ্বাস শব্দের অর্থের মধ্যেই নিজের যতটুকু জ্ঞান আছে তা দিয়েই আনতে হয় । অন্ধবিশ্বাসী হলে কোনো জ্ঞানের বিচার থাকে না । তাই বিশ্বাস অটুট থাকে; অন্ধবিশ্বাসী হলে একদিন ঠিক ভেঙে যায় ।
তবে তার মাঝেও অনেক মূল্যবান সময় ক্ষয় করিয়ে নিয়ে যায় আর সে সময় ফিরে আসে না । মৃত্যু সে যে কাল আসবেনা, তাও কেউ বলতে পারবে না । দেখো এই পৃথিবীতে ছোট থেকে বড় বড় জীব সবাই একই সাথে জীবনযুদ্ধে পা মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে ।
কিন্ত সকলেরই জানা আছে, একাদন তাকে এই দেহ ছাড়তেই হবে তাতে তার কোনো হাত নেই / যিনি এই দেহ তোমায় প্রদান করেছেন, তিনিই একমাত্র জানেন তোমার আয়ুষ্কাল কী; তিনি তোমাকে যে আয়ুষ্কাল দিয়েছেন; তা দিয়ে এই দেহটাকে অমর করা যায় না ! বরং এই দেহটাকে কাজে লাগিয়ে দেহের নামটাকে অমর করতে পারা যায় ১৮৩।
মুদ্রিত পাতা 184
জগতক 9 ৬7 তাই সময় পাওয়া যায় তাকে কাজে লাগিয়ে নানান যতটুকু জ্ঞান লাভ করতে থাকো তার ফল স্বরূপ মরণ যখন আসবেই, তখন হয়তো মরণ কী হয় তা জানা হয়ে যাবে তাই মরার আগে মরা হয়ে থেকো না মরলে কী হয় জানতে এই দেহটাকে কাজে লাগাতে শেখো ভয় তাকে পেয়ে কোনো লাভ নেই যে একদিন আসবেই । তার চেয়ে ভয়কে জয় করে বাঁচতে শেখো যাও এখন থেকে জানতে বাঁচো মরতে বেঁচো না; বুঝলে অনিমেষ ।
অনিমেষ ঃ হ্যাঁ বাবা, বুঝেছি, এখন থেকে মরার আগে আর মৃত্যুকে ভয় পাবো না তাই আর সময় নষ্টও করব না / আপনি ঠিকই বলেছেন; তাকে আমি বিচার না করেই অন্ধের মতো বিশ্বাস করেছিলাম । তার কথা মেনে মরার আগেই মরা হয়ে রযে গিয়েছিলাম ।
এখন বুঝতে পারছি, সে কোনো জ্যোতিষী নয় একজন ভেকধারী ঠকবাজ পাগলাবাবা ঃ তোমার এমন সুন্দর চেহারা; এত সুন্দর দুটো চোখ ভগবান তোমায় দিয়েছেন, তা দিয়ে শুধু সুন্দরই দেখতে শেখো; আর সেই সুন্দরের আনন্দে অপরকেও মাতিয়ে রেখো । মা ভবতারিণীর কাছে কামনা করো সে যেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তোমায় এক সুন্দর মনের অধিকারী করে রাখেন । দেহের সৌন্দর্য হারালেও মনের সৌন্দর্য হারাবে না ! সুন্দর হয়ে সুন্দরেই মিলিত হবে ।
অনিমেষ ঃ আবার (পাগলাবাবাকে প্রণাম করে,) আমায় আশীর্বাদ করুন, আমি যেন আপনার উপদেশ অনুযায়ী জীবনে চলতে পারি পাগলাবাবা ৪ আমি তোমায় আশীর্বাদ করি তুমি যেন তোমার লক্ষ্যে পৌঁছতে পার, এখন থেকে মন দিয়ে পড়াশোনা থাকবেই তাতে করো । জীবনে বাধাবিপত্তি থেমে যেতে নেই, মনের শক্তি বাড়িয়ে নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হয় । এবার এই যে একটু এদিকে দেখি তোমার মায়ের হল । এসো তো বউমা কী নাম তোমার? ১৮৪।
মুদ্রিত পাতা 185
অনিমা, মানে অনিমা ব্যানার্জী । পাগলাবাবা এখন তোমার বয়স করত ডব অনিমা? অনিমা তা তো বাবা সঠিক বলতে পারব না মনো হয় বিয়াল্লিশ থেকে তেতাম্মিশ হবে পাগলাবাবা ঃ মহিলাদের বয়সের হিসাব সঠিক থাকে ন যাক তাও কত বললে? তেতাল্লিশ। যাক ঠিক আছে; আমি পঁযতালম্লিশই ধরে নিলাম ।
(হঠাৎই আবার শাশ্বতর দিকে ফিরে) তুমি আর দাঁড়িয়ে থেকো না; তুমি তোমার কাজে চলে যাও আমি না থাকলে দেখছি তোমার কাজে যাওয়াই হবে না শ্রাশ্বত ৪ হ্যাঁ বাবা, এখনই যাব আর আপনার সঙ্গে থাকলে কোথাও যেতে মন চায় না / শুধু মনে হয়, আপনাকে ছেড়ে গেলেই খড়কুটোর মতো বানের জলে ভেসে যাব । পাগলাবাবা ঃ আর দেরি না করে যাও না ভেসে বানের জলে শুধু মনটা রেখো এই পথে ো দেখবে আবার ভাঁটার টানে ফিরেছ আবার আমার কাছেই ।
শাশ্বত আর কথা না বাড়িয়ে প্রণাম করে বেরিয়ে পড়়ে। পাগলাবাবা তাহলে অনিমা;, পঁয়তাল্লিশ হলো তবে তোমার পায়ের রোগটা বরাবরই ছিল অনিমা হ্যা বাবা, ছোটবেলা থেকেই খুব ভুগেছি । অনেকদিন হোমিওপ্যাথী ওষুধও খেয়েছিলাম তারপর অনেকটা ঠিক হয়ে গিয়েছিল ।
তাহলে সেটা ফিরে এল বাবা পাগলাবাবা শুধু সেটা নয় আমাদের শাস্ত্রে অনেক সিদ্ধ মন্ত্র থাকে যাকে নিয়ে তেমন সাধনা না করলেও কিছু প্রয়োগ বিধি মেনে ক্রিয়া করলে, তিথি নক্ষত্রের সঙ্গে মিলন ঘটিয়ে অজান্তেই কার্যকরী ওঠে । হয়ে তোমার তাই-ই হয়েছে সাধারণত তোমার মনের জোর ১৮৫।
মুদ্রিত পাতা 186
আছে । কিত্তু এক্ষেত্রে মানসিক ভাবে তুমি ভেঙে বেশ , পড়েছিসে; তাই-ই এত চেপে ধরেছে । হবে বাবা? আমি আবার ঠিক হয়ে সাব অনিমী এখন তৈ? ? এই তো তুমি ঠিকই হয়ে গেছ এই ঘটি থেকে পাগলাবাবা কদাক ঢোব জল খেয়ে নাও আর পূজার প্রসাদ আছে খানিকটা মুখে দিয়ে নাও তুকতাক ছয় মাস, কপালের গেরো বারোমাস । তোনাব তো ছ মাস বারোমাস সবই হয়ে গেছে ।
এখন থেকে তুমি পুে যাও এবারে রান্নাটা করে নাও পাঁঠার মাংস এনে সুস্থ র।; আছে; যা অনিমেষ তোমার হাতে খেতে ভালোবাসত আমরাণ দেখি অনিমেষ রান্না বোঝে; নাকী যা পায় তাই-ই ভালো খেয়ে নেয় অনিমেষ ঃখাওয়ার ব্যাপারে আমাদের পরিবারের বেশ ভালোই নাম আড়ে আত্মীয়রা সবাই বলাবলি করত আমরা নাকী খাওয়া আর ঘোহা ছাড়া তেমন কিছু বুঝি না / তাই মায়ের রান্নার খুবই প্রশংসা হত।
একবার তার হাতের রান্না খেলে নাকী অনেকদিন মনে থাকে] পাগলাবাবা তাহলে তো বেশ ভালোই হবে লোকে বলে আমিও নাবী খুব খাদ্যরসিক । আর মনে রাখার ব্যাপারটা; সে তো এমনিতে থাকবে । অনেকদিন রান্নাবান্নার অভ্যাস নেই তো; তাই খারাপ হলেও মনে থাকবে তবে অনিমা একটু দেখো, মনে রাখাটা ফে ভালোর দিকে যায় । অনিমা ৪ আপনি কিছু চিন্তা করবেন না / আমি এখন একদম সুস্থ আগে মতোই, আর আমার এই একটাই গুন ।
এই সুযোগে আজ সকলকে খুশি করে দেব, আর আপনাকে আমার গুনের পরিচয় দিযে আপনার থেকে মন্ত্র দীক্ষাটা চেয়ে নেব তারপর রেবার ভাইবে একটু কচু সেদ্ধ করে খাইয়ে আসব । এই কোমরে আঁচল গুজলাম/ এখন আমায় বলুন তো কোথায় কী কী রান্নার সরঞ্জাম আছে ১৮৬।
মুদ্রিত পাতা 187
পাগলাবাবা প্রশান্ত তুমি তোমার গিন্নীকে একটু সব দেখিয়ে দিয়ে এসো আমার আর ওর সামনে থাকার সাহস হচ্ছে না । অনিমা, প্রশান্ত তোমায় দেখিয়ে দেবে । আর তুমি খুত্তিটা তরোয়াল, আর মাংসের টুকরো গুলো রেবার ভাই মনে করে ভালো করে কষিয়ে দিও । তাহলেই দেখবে আর তাকে কচু সেদ্ধ খাওয়াবার ইচ্ছাটা থাকবে না; (বলে পাগলাবাবা কুটিরে প্রবেশ করেন ।) এদিকে শাশ্বত একটু দেরি করেই ডাক্তারখানায় পৌছে যায় রোগীরা ভিড় করে লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে ।
লাইন দিয়ে এক এক রোগী প্রবেশ করছে আর বেরিয়ে যাচ্ছে । আজ আবার গুপ্তাজী হাতে একটি সাদা খাম নিয়ে রোগীদের ভিড় কমার আশায় অপেক্ষা করছেন শাশ্বত বাবুর সঙ্গে একটু দেখা করতে চায় । শাশ্বত রোগী দেখা শেষ করেই তাড়াতাড়ি ব্যাগ গুছিয়ে নেয় আজ আবার গুরু মা আসবেন / তাঁকে দেখর আকুলতাও অনেক দিনের । শাশ্বত চেয়ার ছেড়ে উঠতেই গুপ্তাজী প্রবেশ করেন ।
মুখে একগাল হাসি কী ডাক্তারবাবু আপনাকে মনে হয় এখন থেকে বিকেলবেলাও একবার আসতে হবে দিনের পর দিন রোগীর চাপ তো বেড়েই চলেছে শাশ্বত ঃ তাই তো দেখেছি দরকার পরলে বিকেলেও আসা যাবে আর গুপ্তাজী আজও আমার বেশ তাড়া আছে; কলকাতা থেকে গুরুমা আসবেন তাই আমাকে এখনই বেরোতে হবে । গুপ্তাজী ঃ ও, ঠিক আছে আজ তাহলে আপনাকে আর দেরী করাবো না ।
শাশ্বত আসি গুপ্তাজী (বলে বেরতে গেলে) গুপ্তাজী ৪ আরে আমিতো ভুলেই গিয়েছিলাম আপনার একটা জিনিস আমার কাছে রযে গেছে । এই নিন আপনার একটি প্রশংসাপত্র । এই বলে একটি মুখ বন্ধ সাদা খাম শাশ্বতর হাতে তুলে দেন । ১৮৭।
মুদ্রিত পাতা 188
শাশ্বত (খাম হাতে নিয়ে) কই খামের উপর তো কিঢু পাঠিয়েছে এই প্রশংসাপত্র? লেখা নেই । কে গুপ্তাজী জানি না, একজন ভদ্রমহিলী, এসে বললেন এটি দিতে । খামের আপনাকে দিয়ে ভেতর কি আছে জচাতে বললেন চাওয়ায, -ওনার প্রশংসাপত্র । আগে কখনও ওনাকে শুধু আপনি কে? দেখিনি । তাই জানতে চাওয়ায় উনি বললেন আমি ওনার পরিচিত । খুব শুধু ওনাকে বলবেন অর্কের মা এটি দিয়ে গেছে আপনার জন্য তাহলেই উনি বুঝে যাবেন । শাশ্বত ঃ তারপর চলে গেলেন ।
(চমকে ওঠে) কে অর্কের মা? গুপ্তাজী ঃ হ্যাঁ, আপনি চেনেন তো? শাশ্বত : হ্যাঁ, হ্যাঁ, খুব ভাল ভাবে তিনি আবার জানিয়ে গেলেন । কবে আসবেন? কিছু গুপ্তাজী না / আবার আসবার কথা ছিল তো কিছু জানান নি । কেন খুব দরকার ওনার সাথে আপনার? শাশ্বত : হ্যাঁ, মানে ঠিক আছে । আমি এখন আসি ! (বলে বেরিয়ে পড়়ে) । পথে যেতে যেতে শাশ্বত খামের একটি মুখ খুলে ফেলে । ভেতর থেকে লম্বা কাগজ বের করে কাগজের প্রথমেই লেখা ।
শাশ্বতবাবু আপনাকে আগাম শুভেচ্ছা জানাই । আপনার দীক্ষার জন্য । তারই সাথে আমাদের পথের মিলিয়ে পথিক হয়ে একসাথে পা চলার জন্য আহ্বানও জানাই / আর আপনার জানাতে চাই যে এ কদিনে প্রশংসা করেই ঘটেছে । আপনার এপথের জ্ঞানের বেশ উন্নতি তাই আপনি শুধু শৈবাচারী হচ্ছেন না শাক্ত করার আপনার গুরু আপনাকে ভাবনাই ভাবছেন বিদ্যাতত্ত্বের যা দিয়ে শুধু জীব আত্মাই নয়, সাধন একই সাথে করতে পারবেন ১৮৮।
মুদ্রিত পাতা 189
আপনার গুরু আপনার প্রতি অগাধ বিশ্বাস রেখে আপনাকে এই সাধনের পথ খুলে দিচ্ছেন তাই আপনিও সেই বিশ্বাসের মর্যাদা দেখিয়ে আর একটু এগোলেই আমাকে পেয়ে যাবেন তখন আমাদের দুজনারই দুজনকে প্রয়োজন হবে তমার সঙ্গে আবার দেখা করাটা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষী । ঠিক সময় হলেই দেখবেন দেখ হয়ে যাবে ।
আপনার মত আমিও আর একবার দেখা করার জন্য অধীর আগ্রহে পথ চেয়ে রইলাম আশা করি আমার এই পত্রের কথা আপনি আর কাউকেই জানাবেন না শুধু দেখে যান আমি সব ঠিক ঠিক জানালাম কিনা ভালো থাকবেন এখন তাহলে আসি । ইতি সিদ্ধা (আপনার পরিচিত অর্কের চিঠি পড়ে শাশ্বত কুটিরের সামনেই দাঁড়িয়ে পড়ে । মাথাটা কেমন গোলমাল হয়ে গেল কি বলতে চাইছেন এই সিদ্ধাদেবী ।
ওনার নামটাও যেন কেমন নামের মধ্যেই রয়েছে; আমি যা চাই, তাই পেয়ে থাকি / তাই আমার জন্যে ওনার পথ চেয়ে অপেক্ষা করাটাও যেন সিদ্ধ হয় । আমিও ভগবানের কাছে কামনা করি সেই সময় যেন তাড়াতাড়িই আসে কারণ এপথে এগিয়ে যাওয়াটাই আমার একমাত্র লক্ষ্য আর এগোতে পারলেই সিদ্ধা দেবীকে ধরা যাবে । উনি কে? আমার সম্বন্ধে এত কথা জানেনই বা কি ভাবে? আমার কি মন্ত্রদীক্ষা হবে তারও ভবিষ্যৎবাণী করছেন ।
কিন্তু সে ভবিষ্যৎবাণী হয়ত মিলবে না / কারণ পাগলাবাবা তো আমাকে আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, এখন কি মন্ত্রে আমার দীক্ষা হবে । তা যাই হোেক কিন্তু এটা সত্য আমি ওনার সাথে আর একবার দেখা করতে চাই । তা তিনি ঠিকই টের পেয়েছেন আসলে যতক্ষন ১৮৯।
মুদ্রিত পাতা 190
দেখা হচ্ছে ততক্ষন সবের না ওনার সাথে আর একবার উত্তর পাওয়া যাবে নী / ভাবতে ভাবতে কুটিরে ঢুকতে গেলে মনে পড়ে যায় এই চিঠির কাউকে না দেখাবার কথা শশত তারাতারি চিঠিটা ব্যাগে ভরে নেয় তারপর কুটিরে প্রবেশ করে প্রশাতত : এই তো শাশ্বত ফিরে এসেছে। (অনিমেষ ডেকে) শাশ্ত কাকুকে জল এনে দেl শাশ্বত (জলের গ্লাস হাতে) তুমি কেমন আছ? পাগলাবাবা কি কোথাও বেরিয়েছেন? অনিমেষ না উনি ঘরেই আছেন শাশ্বত ঃ বৌদি কোথায়? তাকে তো দেখতে পাচ্ছি না ।
প্রশাত্ত : গুরুজী বললেন, আজ তুমিই রান্না কর / তাই সে রান্না করছে । গুরুজির কথা শুনে অনিমা এখন আগের মতই সুস্থবোধ করছে] কোমরে কাপড় গুজে সোজা রান্না ঘরে চলে গেল যেন একেবারে ম্যাজিক । শাশ্বত ঃ না, না ম্যাজিক ট্যাজিক নয় । উনি নিশ্চই কছু বুল আর কযেক ঢোক জল খাইয়েছিলেন ওই বুলি আর জল পেটে মাথায় গেলেই সব অসুখ সেরে যায় প্রশান্ত : কিন্তু কোন বড়ি-টড়ি খাওয়ান কয়েক ঢোক জল অবশ্য খাইয়েছিলেন । শাশ্বত ঃ হ্যা বুঝেছি ।
বড়ি মানে ওনার কিছু বুলি । আর ঘটির জল । যা দিয়ে দিলেই সব আবার আগের জায়গায় চলে যায় এখানে থেকে এসব আমি অননেক দেখেছি তো । তবে ছাড়; এখন দুজনেই সুস্থ ১৯০।
মুদ্রিত পাতা 191
অনিমেষ দেখুন তো একবার আমার দিকে; আমায় দেখে আপনার কেমন মনে হচ্ছে? শাশ্বত ডাক্তারের চোখ দিয়ে দেখলেও তোমায় সুস্থ বলে মনে হচ্ছে তা তুমিই বল কেমন বুঝছ? অনিমেষ গুরুজী একেবারে ঝাড়ু দিয়ে আমার ভেতরের ভুত ছাড়িয়ে দিযেছেন এখন তো পুরো চনমনে হয়ে উঠেছি । ভাতের থালা আর পাঁঠার মাংস আসছে তখনই বুঝে যাবেন, আমি কেমন সুস্থ হয়ে উঠেছি । শাশ্বত ৪ বাঃ, বাঃ এইতো সাবাশ চলো দেখি রান্নাটা কতদূর হল !
শশ্বত ৪ (রান্নাঘরে ঢুকে) বৌদি, হাতে হাতে কিছু করে দেব? অনিমা বৌদি ঃদাঁড়াও ঠাকুর পোঁ, আমি এখন যুদ্ধ করছি আর আমি যখন যুদ্ধ করি তখন আবার কারোর সাহায্য নিই না I তোমায় কিছু করতে হবে না / আমার রান্না শেষ হয়ে গেছে । আজ খেয়ে দেখ রেবার ভাইকে কেমন তেলে জলে রগরে দিয়েছি মসু বড় সাধু সেজে বসেছিল যমের বাড়ি গরম তেলে পরার আগেই আমি এখানেই গরম তেলে ভেজে নিয়েছি। চল, এখন বাইরে ঢল ।
শাশ্বত এই রেবার ভাই নামি পাঠার মাংস সঙ্গে নিয়ে এসেছিলে না কি? প্রশান্ত ঃ না ভাই এখানেই তো ছিল আমি তো ভাবলাম তুমিই এনে রেখেছ বোধ হয় । শাশ্বত না, আমি না / আমি যখন নদীতে গিয়েছিলাম সেই সময় পাগলাবাবাই হয়ত এনে রেখেছেন যাতে বৌদি তাকে নাকানি চোবানি খাওয়াতে পারে! তাই তিনি আজ আমাকে রান্না করতে বারণ করেছিলেন । সবই ওঁনার আগে থেকে জানা ছিল তাই কিছু লুকাতে চাইলেও জানি ১৯১।
মুদ্রিত পাতা 192
কোন লাভ দেবে না / তিনি ঠিক বুঝে নেবেন আমি লুকাতে চাইছি অনিমা বৌদি ঃকেন তুমি আবার কিছু লুকাতে চাইছ নাকি? শীশ্বত হ্যাঁ, যেমন ধরুন, আপনি আমি এখানে ঠাট্টা করছি । আর আপনি আমাকে বললেন ওনাকে যেন আমাদের এই ঠাট্টার কথা বলবে না / আমি হয়ত জানালাম না / কিছুদিন বাদে বা এখনই উনি বলে উঠলেন কই, তোমরা কি বলাবলি করছ বা লুকাচ্ছ তা আমার জানা নেই । তবু আপনার না বলায় আমি হয়ত কথা রাখলাম, তারপর সেই জানেন কি করা উচিৎ।
অনিমা বৌদি ঃএবার বুঝেছি তোমার অসুবিধাটা তোমার আমার ঠাট্টাটা নয় লুকিয়ে দিলে, কিত্তু যদি অন্য কিছু হয় যা সবসময়় বলা মুশকিল তা নিয়েই তো সমস্যা বল? শাশ্বত আমি আসলে ওনাকে কোন কিছুই লুকাতে চাই না । বা তার ইচ্ছাও থাকে না । কারণ উনি আমার সবটাই জানবেন সেটাই আমার একমাত্র কামনা । নিজেকে শূন্য করে গুরুকে সমর্পণ করা আমার অস্তিত্ব আমার ভালো; আমার খারাপ; আমি সব কিছু তার পদতলে অঞ্জলি দিতে চাই ।
যা তিনি নিয়ে আমার এই ভার কমিয়ে দেবেন আর আমি তখনই হাল্কা হয়ে তাঁরই সঙ্গে মিলিয়ে যাব পাখিরা যেমন ডানা পেয়ে আকাশ ছুঁতে চায় পেয়ে মাটি আত্মা তেমন আকার আঁকড়াতে চায় যেমন পাখিরা কোন দিন আকাশ ছুঁতে পারে না / তেমনই আত্মা মাটি আকারেও সারাজীবন থাকতে পারে না । তাই দুজনেই নিজেদের লক্ষ্যে বৃথা চেষ্টা করে সফল হতে পারে না। জীবনটাকে অসফলতা অজানা রেখেই চলে যায় । আর এই ক্ষোভের ভার হয়ে দাঁড়ায নিজেকে হাল্কা হতে দেয় ১৯২।
মুদ্রিত পাতা 193
না / আবার সেই মাটিতেই নতুন নাম নিয়ে ফিরে আসে / নিজেকে মুক্ত না করতে পেরে এখানেই পাক খেতে থাকে। আমি এই চক্র থেকে মুক্তি পেতে চাই । আমার ক্ষোভ, দুঃখ, ভালবাসা, আনন্দ, যিনি আমাকে প্রদান করেছিলেন আমি তাঁকেই ফিরিয়ে দিয়ে নিজেকে হাল্কা করে আমরই সেই আদিতে মিলিত হতে চাই । আর সেই উৎসের ঠিকানা আমায় আমার গুরুই একমাত্র দিতে পারেন । প্রশান্ত ও অনিমা এতক্ষণ অবাক হয়ে শাশ্বতর কথা গুলো শুনছিল ।
অনিমা বৌদি ঃবাঃ সুন্দর তোমার কথা গুলো তোমার কথা শুনে মনে হয় আমরাও যদি তোমার মত করে এমন ভাবতে পারতাম । তুমি তো দেখছি দীক্ষা নেবার আগেই সাধু হয়ে গেছ ।
এখন বুঝতে পারছি কেন তোমায় গুরুজী এমন আঁকড়ে নিজের কাছে রেখেছেন শাশ্বত এভাব আমার নয় তাঁরই শেখানো কথা আমি তো শুধু আউড়ে গেলাম আর তাতেই কেমন সাধু হয়েছি, বাহবা পেলাম যাক ছাডুন এখন এসব আমাদের পাগলাবাবা করছেন একটু দেখে আসি অনিমা বৌদি ঃযেমন সুন্দর তোমার চেহারা, তেমনই সুন্দর তোমার মন তোমায় ভাই বলতে পেরে নিজেরই ভীষন গর্ববোধ হয় । এতদিনে আমার এই লোকটা একটি সঠিক কাজ করেছে ।
তোমায় আঁকড়ে ধরেছে যেখানে কিছুই দেবার নেই শুধুই অনেক পাওযা শাশ্বত আমি শুধু আমার গুরুর মহিমার কথাই ভাবি কখন যে কাকে দিয়ে করিয়ে নেন আমি কেমন প্রশান্তদা কে ধরে নিলাম । আর প্রশান্তদা আমাকে আমার হারিয়ে যাওয়া আমিকে পাইয়ে দিলেন তাই তোমরা আমায় অনেক দিয়েছ । ভাবলেও এর চেয়ে বেশি আর কিছু দিতে পারতে না । এবারে আমার পালা সারাটা ১৯৩।
মুদ্রিত পাতা 194
জীবন যেন তোমাদের কাছে কৃতজ্ঞ হয়েই থাকতে পারি / তবেই আমার এই তোমাদের থেকে পাওয়াটা সফল হবে পাগলাবাবা ঃ (ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন) কই অনিমা তোমার আগুন নেভানো হল । অনিমা হ্যাঁ বাবা অনেকখন হল । এবারে আপনি আদেশ করলেই পরিবেশন করে দেব / পাগলাবাবা ঃ হ্যাঁ; তাই কর ।
চল দেখি শাশ্বত, অনিমার গুন বিচার করে দীক্ষাটা দেওয়া যায় কিনা দালানে আসন পাতা হলে সকলে একসঙ্গে আসন গ্রহণ করে আর অনিমার সত্যিই রান্নার গুণে সকলেই দুপুরের খাবারটা উপভোগ করে পাগলাবাবা ঃ শাশ্বত রান্নার গুণটা কেমন বুঝলে? শাশ্বত নিজের হাতের রান্না খেয়ে জীভটা প্রায় অসাড় হয়ে পড়েছিল । আজ যেন আবার প্রাণ ফিরে এল, অপূর্ব । পাগলাবাবা হ্যাঁ ঠিকই বলেছ ! তুমি দাঁতের ডাক্তার হলে ভাল হত ।
তোমার হাতের রান্না খাইয়েই দাঁত তুলে ফেলা যেত । কষ্ট আর ইনজেকশান করে ফোটাতে হত না । অনিমা, এবার তোমার দীক্ষাটা দিতেই হবে । তুমি এক কাজ কর, থেকে যাও এখন থেকে এখানেই পরশু দিনই একসাথে দীক্ষা দিয়ে দেব অনিমেষ বাবা, আমিও দীক্ষা নিতে চাই । পাগলাবাবা ঃ হ্যাঁ, তোমাকেও দিয়ে দেব কুটিরের চারপাশটা এখন তোমরা সকলে মিলে পরিষ্কার করে রাখ । অনিমা এই কাজেও আমার গুণ আছে বাবা / আমি একবার গুণ দেখবার একাই সব করে নেব ।
সুযোগ পেয়েছি আর একটু দেখিয়ে নিI ১৯৪।
মুদ্রিত পাতা 195
পাগলাবাবা ঃ এই পরিষ্কার করার গুনটা দীক্ষা নেবার পর আরও বেশি করে কাজে লাগবে তখন আবার নিজের মনটাকে পরিষ্কার করতে এই গুনটা কাজে লাগিও। তাই এখন পুরো গুনটা না দেখিয়ে কিছুটা জামিয়ে রাখ । এখন সবাই মিলেই একসাথে পরিষ্কারটা করে নিও । শাশ্বত ঃ হ্যা, বাবা আমরা সকলে মিলেই পরিষ্কার করে ঢোব । আপনি ঘরে গিয়়ে বিশ্রাম করুন । পাগলাবাবা ঘরে বিশ্রাম করতে চলে গেলে । সকলে মিলে কুটিরের চারপাশটা বেশ পরিষ্কার করে নেয় ।
প্রশান্ত : ভাই শাশ্বত; গুরুমাকে কেউ নিয়ে আসবে? শাশ্বত : তা বলতে পারব না / তবে আমার মনে হয় গুরুমার সঙ্গে আরও কেউ নিশ্চয়ই আসবেন । বলতে বলতেই সুমন কুটিরে প্রবেশ করে / শাশ্বতকে দেখেই জড়িয়ে ধরে । শাশ্বত ঃ হঠাৎ তুমি? সুমন ঃ মাকে নিয়ে এলাম শাশ্বত ঃ মা এসে গেছেন? কোথায় তিনি? কই তাঁকে তো দেখতে পাচ্ছি না? সুমন : অত উতলা হচ্ছো কেন । পিছনেই আসছেন রমা বৌদি অমলদার সঙ্গে । শাশ্বত কোন কথা না বলেই গেটের বাইরে বেরিয়ে যায় ।
আর সামনেই গুরুমা । গুরুমাকে দেখেই শাশ্বত গুরুমাকে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করে । ১৯৫।
মুদ্রিত পাতা 196
৩া।গ[৩ ৩।জ।গ।৩4 ৩;ম।। (শশতর মথIয় হা৩ রেখে)। তুশি তে শশ৩? কেম ৩I।ো তোমার পাগলা ৩৯ ক 1িয? শশ৩ ৪ খুবই ভাল আঢি মI ৩র ওণকে নিয়ে; তেমন কোন অসুবিধা হ্য় নি। গুরুমা তবে এখনও জ্বালাতন তেমন টের পওনি । আগে দেখ সে কোথায় আছে ।
বলে ছেলের হ৩ ধরে ভেতরে প্রবেশ করেন ।) দাদা-বৌদি পাগলাবাবার ছেলে দালানে বসে পড়ে বৌদি ঃ শাশ্বত এই হলো আমাদের গুরুপুত্র শাশ্বত হাসিমুখে গালটা টিপে ধরে নাম তোমার?" গুরুপুত্র "আমি হলাম তোমাদের গুরুর ছেলে, আমার নাম দুষ্টু, আর স্কুলের নাম ঐশিক মুখার্জী, আর আমি এখন ক্লাস ফোরে পড়ি । তুমি এখানে কোন ক্লাসে পড়ছো?" শাশ্বত : আমার তো ক্লাসের নাম গুলো জানা হয়নি, তাই কীসে পড়ছি তা এখনই তোমায় বলতে পারছি না, তবে আমার নাম শাশ্বত ।
দুষ্টু : তা তো আমি আগেই বুঝে নিয়েছি । তুমি হলে ডাক্তার শাশ্বত। তবে তোমার কোন স্টেজে দীক্ষা হয়েছে সেটা শোনা হয়নি । শাশ্বত ? তুমি তো দেখেছি, অনেক কিছু বুঝিয়ে দিও। জানো আমাকেও একটু শিখিয়ে দুষ্টু : হ্যা, আমি তোমায় সবই শিখিয়ে দেব, দেওয়াটা শিখিয়ে দিও আমায় একটু ইঞ্জেকশন ধরতে দিও আহর তোমার ডাক্তারির জিনিসগুলো একটু আমায় হাত দিতে দেবে শাশ্বত : তো?
নিশ্চই দেবো, তুমি আমার গুরুর অমলদা কেমন ছেলে বলে' কথা দেখলে ভাই আমাদের শুরুমাকে । ১৯৬।
মুদ্রিত পাতা 197
শাশ্বত ঃ একেবারে জীবস্ত মা দুর্গা কোলকাতার পাড়ায় পাড়ায় হওয়া দুর্গা পূজার মণ্ডপে যেমন প্রতিমা দাঁড়িয়ে থাকে ঠিক তেমনই চলা ফেরা করা মা দুর্গার প্রতিমা বলেই মনে হল । এখন গুরুমার সঙ্গে কথা বলে আমার দীক্ষার কি নিয়ম আছে; আর একটা বাজারের ফর্দ জেনে নিতে হবে ।
তার জন্যে একটু ফাঁকায় গুরুমাকে নিয়ে বসতে হবে রমাবৌদি ঃ মাকে এখানে একা পাওয়া মুশকিল তোমার যা জানার সবার মাঝেই মায়ের থেকে জেনে নিও তা না হলে তোমার সারাদিন কেটে যাবে তাঁকে একা পেতে। তুমি ঠিকই বলেছিলে; আমাদের মা সত্যিই মাটি দিয়ে গড়া যেমন রূপ, আর তেমনই মাটির মত নরম মায়ের মনটা । কারও কষ্ট দেখলেই যেন নিজেই গলে যান ! দেখনা, তোমার কথা শুনে মা আমাদের কত চিন্তা করছিলেন ।
তুমি পাগলাবাবার সঙ্গে একা আছ, তাই বলছিলেন ছেলেটা নতুন এসেছে আর এমন পাগল গুরুর সাথে একা রযে গেছে । বেচারাকে হয়ত কত খাটাচ্ছে । তোমায় তো তিনি চোখেও দেখেননি । শ্রাশ্বত আমার এখানে একা থাকতে তেমন অসুবিধে হয় নি । তবে একদম একা এমন লোকের সঙ্গে থাকাটা সেটা তো তোমরা ভালই বুঝবে । তবে আ নতুন বলে হয়ত; খুব বেশি ভয় দেখান নি অমলদা ঃ তোমার তো এবার মনের আশা পূর্ণ হবে কারণ দীক্ষার দিন তো এসেই গেল ।
শাশ্বত ঃ হ্যাঁ একদিকে আনন্দ আর এক দিকে একটু ভয়ও পাচ্ছি কারণ আমার উপর তোমাদের অনেক আশা আর সেই আশা অনুযায়ী নিজেকে দাঁড় করাতে পারব তো । পাগলাবাবা গুরুমা ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন পাগলাবাবা গুরুমাকে সবার সাথে আলাপ করিয়ে দেন তারপর ১৯৭।
মুদ্রিত পাতা 198
পাগলাবাবা ? এই যে শাশ্বত এই দিকে এস । আর তোমার মার থেকে তোমার দীক্ষার ফর্দটা নিয়ে নাও (গুরুমার দিকে তাকিয়ে) শোন, ওকে কিছু ছাড় দিও না আমার কাপড়, তোমার শাড়ি সব লিখে দিও আর কাপড় শাড়ির পাশে একটু দামী কথাটা লিখ গুরুমা আচ্ছা, আচ্ছা সব লিখে দেব আর কাপড় শাড়ি দামীই এনে দেবে শাশ্বত, তুমি দুটো থানের কাপড় কিনো আর একটাতে জয়গুরু অন্যটাতে জয়গুরুমা লিখে নিয়ে এস / তারপর দেখব এর চেয়ে দামী কাপড় আর কি চান তোমার গুরু গুরুমা ।
আসলে তুমি যেমন গুরু পেয়েছ; তোমাকে তেমনই শিষ্য হতে হবে তবে তুমি কিছু চিন্তা কোের না / আমি ঠিক তোমায় বেগ্য গুরুর যোগ্য শিষ্য করে তুলব । শাশ্বতকে নিয়ে গুরুমা ফর্দ করে নেন শাশ্বত দীক্ষার ফর্দ হাতে। মনে উৎফুল্লতা, এতদিনে মনের সাধ পূরনের ফদ তার হাতে। শাশ্বত : পাগলাবাবাকে প্রণাম করে আমি এখনই এই ফরদের বাজার করে নিয়ে আসব । পাগলাবাবা হ্যাঁ যেতে পার, তবে প্রশান্তকে সঙ্গে নিও ।
সুমন-তুইও একটু শাশ্বতর সঙ্গে চলে যা / কারণ ভাল জিনিসের মান তুই তো খুব ভালই বুঝিস । তাই বিচার করে নিয়ে আসতে পারবি [ তবে দেখিস ভাল জিনিস আনতে গিয়ে বাজার নিয়ে দীক্ষার দিন পার করে ফিরিস না । এখানে তো আবার তোর বিচার মত জিনিস নাও পাওয়া যেতে পারে । তাই একটু কম বিচার করে তাড়াতাড়ি বাজার নিয়ে ফিরে আসিস । সুমন ঃ ;11 বাবা, এখানকার যাই । আর বাজারটা ছোট ।
আমি ভাবছি, হরিদ্বার চলে কাল সকাল পরশুতো দীক্ষা সকালই বাজার নিয়ে ফিরে আসি ।
মুদ্রিত পাতা 199
পাগলাবাবা ঃ তবে তো পরশু ভোরে ফিরলেও হতো তোর বুদ্ধিটা যত দূর দৌড়াতে পারে তোর গুরুমার হাত পা দুটো যদি তোের মত করে চলতে পারত; তবে কাল সব নিয়ে এলেও চলত । তুই এক কাজ করিস, ওদের সঙ্গে গিয়ে একটু চালাকি করে নিজেকে গাধা বানিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকিস তারপর সব কেনাকাটা হয়ে গেলে গাধার মত করে পিঠে চাপিয়ে নিয়ে চলে আসিস । যেখানে তোর বুদ্ধির কদর পাওয়া যায় না সেখানে গাধা হয়ে থাকাই ভাল কি বল? যা আর দেরি করিস না।
গুরুমা (সুমনের মাথায় হাত রেখে) তুই খুব ভাল ছেলে; তোের মনটাও খুব সরল । তুই তো জানিস দীক্ষার আগে কত কাজ থাকে । ওই জিনিসগুলো এলে আমাকে সব গুছিয়ে রাখতে হবে তাই সময় আর বেশি নেই । তুই ওদের সঙ্গে গেলে তিনজনে ধরাধরি করে সব জিনিস একেবারেই চলে আসবে । বুঝেছিস তো বাবা? সুমন : হ্যা মা এখন বুঝে গেছি । আমরা তাড়াতাড়িই সব জিনিসগুলো নিয়ে আসব আর আপনি কাজ গুলো এগিয়ে রাখবেন। বলে তিনজনই গুরু ও গুরুমাকে প্রণাম করে বেরিয়ে পড়ে।
পুজার সামগ্রী কিনতে বেশ রাত হয়ে যায় । খাওয়া দাওয়া শেষ করে সুমনকে পাশে নিয়ে দালানের একপাশে শাশ্বত শুয়ে পড়ে । ভাবতে থাকে কাল একবার ভোর রাতে নদীর পারে যেতে হবে সেখানে হয়ত সিদ্ধা দেবীর সঙ্গে আর একবার সাক্ষাৎ হতে পারে উনি বলতে চাইছিলেন আমার দীক্ষার ব্যাপারে; দেখা হলে সেটা পরিষ্কার করে জানা যেত । ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ে ।
আর ঠিক চারটে বাজতেই ঘুম ভেঙে যায় শাশ্বত উঠে বসে ঘর থেকে গুরুমা বেরিয়ে আসেন শাশ্বত গুরুমাকে প্রণাম সেরে নেয় । ১৯৯।
মুদ্রিত পাতা 200
জাগতিক তজাগতিক সকাল সকাল বিছানা ঢাড়তে গুরুমা তুমি উঠে পড়েছ, ভালই করেছ এখনই নদীতে গিয়ে মানটী সেরে হয় তুমি এখন এক কাজ কর, নাও আদেশ করলেন শাপত উনি বুঝেই ঢাতে টর্চ মনের ভাবটা যেন নিয়ে বেরিয়ে পড়ে ।
অন্বধকারে টর্চের আলোয় পথ দেখতে দেখড়ে যায় / নদীর পারে দাঁড়িয়ে নদীর ওপারে দেখতে নদীর পারে পৌছে গেলে অন্ধকারে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না / শাশ্বত নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে ওপারে উঠে পড়ে ঘন ডঙ্ন কিছুই চোখে পড়ছে না / জোৎস্নার আলোয় শাশ্বত জঙ্গলের দিকে এগিয়ে যায় যে পথ দিয়ে জঙ্গলের মধ্য থেকে সিদ্ধা দেবী বেরিয়েছিলেন।
শাশ্বত সেই পথে প্রবেশ করে আর একটু একটু করে এগোতে থাকে / মাঝে মাঝে জীবজত্তুর চলাফেরা করার শব্দ শাশ্বতর কানে আসতে থাকে। শাশ্বত মনকে শক্ত করে আর একটু এগিয়ে দেখতে চায় । এই ঘন জঙ্গলের ভেতরে সিদ্ধা দেবী কি করেন আশেপাশের ছোট বড় গাছগুলো মাঝে মাঝে কেমন, মানুষের ঘুম ভাঙার পর শরীরের আড়মোরা ভাঙার মতো করে নিজেরা কেঁপে উঠছে । অজানা ভয় থাকলেও জানার চাহিদায় শাশ্বত থামতে চায় না ।
আর একটু এগোলে জঙ্গল একটু পরিষ্কার হয় চাঁদের আলোয় জংলী রাস্তা যেন বঁদিকে ঘুরেছে । শাশ্বত সেই পথে এগোলে একটা ফাঁকা ছোট মাঠের মত জায়গা দেখতে পায় । সেই মাঠেরই কোণে একটা কুটির নজরে পড়ে । গাছের মোটা মোটা কাণ্ড কেটে দাঁড় করানো, কাণ্ডের ওপরে একটা মাঁচার মতো করে কুটির বানানো । শাশ্বত কুটিরের সামনে ২০০।
মুদ্রিত পাতা 201
গেলেও কুটিরে পৌঁছবার কোন সিঁড়ি দেখতে পায় না / কুটিরের ডানপাশে ঘুরলে একটা ঝুলস্ত দড়ি দিয়ে সিঁড়ি নিচে নামানো শাশ্বত (শাশ্বত দড়িতে পা দিয়ে) এবার বুঝেছি, এখানেই সিদ্ধাদেবী আসেন হয়ত এখনও কুটিরেই আছেন ভেবে তাড়াতাড়ি করে দড়ি বেয়ে ওপরে উঠে পড়ে কুটিরের দরজা বন্ধ । বাইরে থেকে হাল্কা ধাক্কায়় দরজা খুলে যায় শাশ্বত কুটিরে প্রবেশ করে কই? ভেতরে তো কেউ নেই । একটা মাটির বড় প্রদীপ জ্বলছে ।
পাশে রাখা দক্ষিণাকালীর বেশ বড় করে কাঠের ফ্রেমে বাঁধানো ছবি । তারই পাশে রাখা নরমুণ্ডর খুলি সেই খুলির কপালে লাল তিলক টানা । আর সেখানেই কেমন অদ্ভুত দেখতে নারকেলের পাত্র রাখা । ঘরের মধ্যে একটা খুব সুন্দর গন্ধ পুরো ঘরটাকে মাতিয়ে রেখেছে। শাশ্বতর মনে অনেক কৌতূহল নিয়ে ঘরের চারপাশটা আর একটু দেখতে গেলে) হঠাৎই একটা দমকা হাওয়া এসে প্রদীপটাকে নিভিয়ে দেয় । শাশ্বত-চমকে ওঠে ।
আবার কেমন কুটিরটা হঠাৎ কেঁপে ওঠে I কুটিরের মাচায় থাকা একটি মাটির হাঁড়ি শাশ্বতর পাশে পড়ে ভেঙে যায় । এমন কাণ্ড হওয়ায় শাশ্বত পেয়ে যায় বেশ ভয় এবং তাড়াতাড়ি করে কুটির ছেডে বেরিয়ে পড়়ে । ঝুলন্ত সিঁড়ি ধরে তাড়াতাড়ি করে নামতে গেলে মাঝপথ থেকে যেন ধাক্কা দিয়ে শাশ্বত কে মাটিতে ফেলে দেয় শাশ্বত নিজেকে সামলে নিয়ে বেগতিক বুঝে দৌড়ে পালাতে থাকে নদীর দিকে শাশ্বতর গায়ের কাপড়টাকে ছোট ছোট গুলো যেন আঁকড়ে গাছপালা ধরে রাখতে চায় ।
শাশ্বত পেছনে না ফিরেই প্রাণপনে পড়ে ছুটে গিয়ে নদীতে সাঁতরে ঝাঁপিয়ে ওপারে উঠে মাটিতে বসে পড়ে ২০১।
মুদ্রিত পাতা 202
সবে সকাল হয়েছে। একজন লোক নদীতে স্নান করছে নদীর পারে মানুষ দেখতে পেয়ে শাশ্বতর ভয় কিছুটা কমে এই ভয়ঙ্কর অনুভূতি থেকে নিজেকে বের করে কুটিরের পথে ফিরতে থাকে । অর্ক হয়ত ঠিকই বলেছিল । ওখানে ভূত থাকে । আর অচেনা লোক দেখলেই তাদের ভয় দেখায় নাঃ এভাবে আর ওখানে একা যাওয়া যাবে না / ভাবতে ভাবতে কুটিরে ফিরে আসে সে সময়ে সকলেই উঠে পড়েছে । আর যে যার কাজে ব্যস্ত হয়ে আছে ।
পাগলাবাবা দালানে দাঁড়িয়ে আছেন শাশ্বত-প্রণাম করে পাগলাবাবাকে । পাগলাবাবা আজ খুব ভোরে উঠে স্নান করতে গেলে? তা ভালো সকাল সকাল কাজ সেরে নেওয়া তবে মনে রেখ অনেক কাজ এমনও থাকে যা সময়ের আগে করা যায় না / তাই সেই কাজ করলে কিছু বোঝার আগেই বিপদ চলে আসে । এখন যাও তোমার সময়ের কাজ গুলো করে নাও শাশ্বত হ্যা বাবা এখন থেকে সময়ের জন্য অপেক্ষাই করব আর সময় হলেই জেনে নেব গুরসমা শাশ্বত তুমি এদিকে এস !
তুমি পূজার গোছানো গুলো এখানে দাঁড়িয়ে শিখতে থাক। কারণ এ কাজ না শিখলে পূজাই করতে পারবে না । শাশ্বত ? হ্যাঁ, মা আমাকে দেখিয়ে দিন আমি আপনার সাথে হাতে হাতে একটু কাজ এগিয়ে দিই । সুমন : কি ভাই আমাকে না ডেকেই তুমি নদীতে স্নান করতে চলে গেলে । গুরুমা যে কাজটা একা করতে হয় সেই কাজে একাই যেতে হয় আর তোকে ডেকে নিয়ে যেতে ওর অনেক সময় চলে যেত ২০১।
মুদ্রিত পাতা 203
রমাবৌদি ঃ শাশ্বত তুমি তো দেখছি খুব ভাল ভাল জিনিস নিশ্নে এসেছ । মায়ের শাড়ি, বাবার কাপড়টাও খুব সুন্দর হয়েছে । তোমার পছন্দের তারিফ করতে হয় । শাশত (একটু হেসে) সে ব্যাপারে আমি এখন খুব আত্মবিশ্বাসী হয়নে উঠেছি । শাড়ি জামা কাপড় তো লোকে রং তর সুতো ধরে, যে যার মতো করে পছন্দ করে আমি যাদের উদ্দেশ্য এই গুলো নিয়ে এলাম তাঁরা আবার যে কোন রং আর যে কোন সুতোকেই নিজের মত করে রাঙিয়ে নিতে পারেন ।
তাই দোকানে গিয়্নে এক দেখাতেই এই গুলো তুলে নিলাম রমাবৌদি বা যাহা করিবে গুরু করিবে আমি তো শুধু নিমিত্ত মাত্র । শাশ্বত ঃ না সে ভাবনাও দূর হয়েছে । আমি যার চরণ দাসত্ব লাভ করেছি । তাতে নিজেকে মহান ভাবতেও কুণ্ঠিত বোধ করি না। সঞ্জীবনী বুটি খুঁজে না পেলে জয়গুরু বলে পুরো পাহাড়ই তুলে নেরব । যে হয়েছে চরণ দাসী সে শোনে মরণবাঁশি? চরণ সেবায় মত্ত থাকে চরণ ধরেই মহান ভাবে ।
আত্মহারা আনন্দ লাভ চরণ পাওয়ায় অহং ধূলায় ধূলায় মাখা চরণ তাঁর সেহ ধূলাতেই আমার বাস পরবে তিলক জ্ঞানী গুনি আমার অংশও মাথায় নিলি নিমিত্ত কি আর ভাবনা থাকে রাজা লুটায় আমার পরে জয়গুরু জয়গুরু বলে রাখ না মাগো আমায় তোমার ধূলা করে । । ২০৩।
মুদ্রিত পাতা 204
গাইতে গাইতে গুরুমার চরণে লুটিয়ে পড়ে শাশ্বত । গুরুমা শাশ্বতকে জড়িয়ে ধরে 'এসো তোমায় ধরাই সে চরণ চরণে আমার যন শিব যেখানে শব হয়েছেন হৃদ পদমে বসাও তাঁরে ইষ্ট রূপী মা যে তোমার দিও গো তাঁরে পঞ্চ আহার পূর্ণ হবে জীবদেহ তোমার তার নামেতে জপো মালা রেখো তারে গোপন করে প্রকাশ হবে তাঁর তোমার ৩রে আসবে তরী তোমার কাছে; নিয়ে যাবে সেই জ্ঞান সাগরে । আলোয় আলোয় করবে খেলা পরবেন মুণ্ডমালা । ।
দেহ ছাডা মুণ্ড কাটা মায়ের খড্গে অজ্ঞান হারা দুই বাহুতে বর অভয় ধ্যানে দেখ তাঁরে আপন হৃদয় থাকবে না আর কোন সংশয় মোহিনী কাঞ্চন সবই ধূলায় । । গুরুমা গান শেষ করে শাশ্বতর মাথায় দেখে আমি হাত রেখে-তোমার ভাব মুগ্ধ, তুমি এ কদিন গুরুসেবা করেই উন্নত নিজেকে অনেক করতে পেরেছ । তোমায় আমি বেশি দায়িত্ব দিতে তাই এখনই আর একটু চাই । যা দিয়ে তুমি দুই স্তরকে এক একের মধ্যেই দুই সাধন করতে পারবে । করে, ২০৪।
মুদ্রিত পাতা 205
জগতিক অজাগতিক পাগলাবাবী গুরুমার পাশেই দাড়িয়েছিলেন। শাশ্বত গুরুমাকে প্রণাম করে পাগলাবাবার পায়়ে শুয়ে পড়ে পাগলাবাবা (শাশ্বতকে তুলে ধরে) প্রকৃতির ইচ্ছাই জীবের ইচ্ছা " কাল তোমায় আমি শক্ত করব। তোমার অভিবেক গাতাভিবেক একই সাথে হবে জীবরূপী শিব ও শব রূপা শিব, দুড় সাধনের অধিকারী হয়ে শক্তি সাধন করবে । এখন থেকে গুরুশক্তিকে ইষ্টরূপী মাতৃশক্তি মনে করে আগেই প্রণাম করবে তারপর আমাকে ।
আর এই শত্তিসাধন করতে গেলে কখনই শক্তিকে অবহেলা করতে নেই । সে গুরুশতিহ হােক বা নিজ শক্তিই হোেক । এরুমা (শাশ্বতকে) যাও আনন্দ কর তুমি একেবারে শাক্ত হচ্ছো। শাশ্বত ৪ সব তো আপনারই কৃপা / আপনি কৃপা করেই আমার এই পথ খুলে দিলেন ওরুমা আমার মত কত শক্তিই তো কৃপা করছেন তুমি এগিয়ে এস, সেটাই তো চাইছেন ।
এখন যাও তুমি তোমার ডাক্তারখানায় গুরুমা গুরুকে প্রণাম সেরে শাশ্বত ডাক্তারখানায় পৌছে রুগিদের চাপ সামলে প্তাজীকে তার দীক্ষার আনন্দের খবর জানায় গুপ্তাজী ঃ তাহলে শক্তিসাধন । শুনেছি খুব ভয়ঙ্কর এই সাধন । পাহাড়ে, শশ্মানে, নির্জনে রাতের বেলায় অন্ধকারে একাই এই সাধন করতে তয আর কোন রকম ভুল হলেই চারিদিকে থেকে ভূত প্রেত এসে তাকে নাকি ছিঁড়ে খায় । দেখবেন খুব সাবধানে চলবেন । শাশ্বত ?
হ্যাঁ, আমি সেই রকমই অনেকটা শুনেছি তবে ভূত প্রেতরা ছিঁড়ে খেতে পারে তেমন না হলেও; ওই ভূত প্রেতরা ঘাড়ে চেপে বসতে পারে বলে শুনেছি। আর ওদের মত হয়েই ঘুরে ঘুরে ২০৫।
মুদ্রিত পাতা 206
লোকের অনিষ্ট করে বেড়ায় তবে তাতে আমার তেমন ভয় নেই । এমনিতেই তো দু-একটা ভূত চাপিয়ে ভালো খারাপ দেখে বেড়াচ্ছি ভুল করলে আরও দুটো না হয় চাপবে । আর যদি উল্টোটা করতে পারি তবে সব ভূত গুলোই ঘাড় থেকে নামবে তখন আর এর ওর ভালো খারাপের সমালোচনা করতে হবে না / নিজের ভবিষ্যৎই দেখে নেওয়া যাবে তাই নিজের ভবিষ্যৎ তৈরি করতে গুরু যেখানে সাধন করতে বলবেন, তাঁকে প্রণাম ঠুকে সেখানেই চলে যাব / প্তাজী আচ্ছা শাশ্বত বাবু ভালমন্দ দেখ খারাপ জিনিস?
শ্াশ্বত ভাল, মন্দ, জ্ঞানী, অজ্ঞানী দেখে অজ্ঞানী হয়ে, অজ্ঞানীর বিচার করতে নেই । তাতে শুধু মানুষের অহংকারই বাড়ে । আর এই অহংকারেরই ভূত মানুষকে আঁকড়ে ধরে রাখে । জ্ঞানের আলোয় মিশতে দেয়না । তাই যতদিন এই অজ্ঞানী ভূত; মানুষের মাথায় চেপে বসে আছে । ততদিন অন্যের ভাল খারাপ বিচার করতে নেই । শুধু নিজের বিচারই করা উচিত। আমার গুরু বলেন সত্যিই যদি লোকের ভাল করতে চাও, আগে নিজের ভাল করে নাও ।
তা না হলে অপরের কিছু ভাল করে নিজের প্রতি আপশোষ আসবে । সারাজীবন কি করলাম আর কি পেলাম সেই আপশোষের অঙ্ক করতে করতেই এই জীবন পার হয়ে যাবে । আরও বলেন নিজে এক হাঁটু পাঁকে দাঁড়িয়ে অপরের ভার কাঁধে চাপিও না / তাতে নিজেও ডুববে আর অপরকে পাঁকে ফেলবে দুজনের কেউ শক্ত মাটি পাবে না । তাই গুপ্তাজী আমি আগে নিজেকে তোলার কৌশল শিখতে চাই । তারপর সেই কৌশল অপরকে শিখিয়ে তার চাই উপকার করতে ২০৬।
মুদ্রিত পাতা 207
গুপ্তাজী বুঝলাম / আপনার সঙ্গে কথা বলে, আপনার এই কৌশল আমাকে আয়ত্ত করতে হবে আপনি ঠিকই বলেছেন, আমাদের মত সাধারণ মানুষ শুধু আপশোস করেই নিজেকে মহান ভেবে থাকে যাক; আপনাকে আজ আর দেরি করাব না ভগবানের কাছে কামনা করি আপনার লক্ষ্য পূরণ হোেক তাতে আমারও অনেক উপকার হবে শাশ্বত ৪ (উঠে দাঁড়িয়ে) পূর্ণতা যেমন একে আসে; লক্ষে তেমনই আসে । তাই আপনি আমার কথা ভেবে পূর্ণতার কামনা করলে আপনার পূর্ণতা আসবে আজ আসি, আবার দেখ হবে ।
শাশ্বত কুটিরে ফিরে আসে / কুটিরে শিষ্য শিষ্যাদের প্রচুর ভিড় । সুন্দর করে সাজানো চারিদিক । কুটিরে প্রবেশ করতেই যেন এক আনন্দের ঢেউ সবাইকে সবার সঙ্গে মিলিয়ে বেড়াচ্ছে সবাই সবার মত কাজ সেরে রাত পার করতে সকলে শুয়ে পড়ে শাশ্বতর সারারাত একপ্রকার জেগেই কাটে । এই ভোর হল-এই ভোর হল ভাবতে ভাবতে শাশ্বত উঠে বসে পড়ে তখনও শাশ্বতর জীবনের সূর্য উদয় হয় নি । শাশ্বত আকাশের দিকে চেয়ে থাকে নতুন সূর্যে নতুন শাশ্বতকে কখন দেখবে ।
এই সূর্যেই আমি 'শাক্ত' একদিকে যেমন আনন্দ, আর একদিকে অজানা ভয় । গুরুর বিশ্বাস আমার প্রতি, তা যথাযথ পালনে আমার যেন বিচ্যুতি না ঘটে । এই দিকে পাগলাবাবা প্রাতঃকৃত্য সেরে বাইরে বেরিয়ে আসেন পাগলাবাবা ঃ শাশ্বত, তুমি স্নান সেরে নতুন কাপড় পরে নিও বলে উনি নিজে স্নান ক্রিয়া শেষ করে নতুন কাপড় পরে পূজায় বসার প্রস্তুতি নেন সুমন চারিদিকে ফুল দিয়ে কুটিরকে সাজিয়ে তোলে ।
পূজার জায়গায় গুরুমা নিজের হাতে আলপনা দিয়ে ঘট বসিয়েছেন পাশেই হোমকুণ্ড সাজিয়ে রেখে দিযেছেন ২০৭।
মুদ্রিত পাতা 208
জাগতিক তজাগতিক এবারে শঙ্খধ্বনি দিয়ে পূজী শুরু হবে । পাগলাবাবী এবারে পুজ।;। আসনে বসে পড়েন । বাঁপাশে গুরুম। আসন পেতে বসে পডেন একের পর এক পূুজী ঢলতে থাকে সকলে ভিড় করে পূরজা গ চুপচাপ বসে থাকে। এইভাবে বেশ কিছুক্ষণ চলার পর ঘরের পরিবেশটী যেন একেবারে জাগতিকতা শূন্য হয়ে এক অজাগতিক আভাস সকলকে আচ্ছন্ন করে রাখে ।
তারই মাবোে মাঝে পাগলাবাবা ঘণ্টা বাজাতে থাকেন স্তবাদি পাঠ করতে থাকেন রমাবৌদি অনিমা বৌদি ভোগ রান্নার কাজে ব্যস্ত ইশারায় ওরুমা সকলকে একটু বাইরে যেতে বলেন এলে । সকলে বেরিয়ে শাশ্বত : (সুমনকে) কি ভাই তোমারও আজ উপোস নাকি? সুমন : না, আমি কেন উপোসে থাকব দীক্ষা তো তোমরা নেবে তোমরা করবে উপোস । তবে তেমন কিছু সকাল থেকে খাই নি, বেলাও বেশ গড়াল । এখন একটু ক্ষিদে ক্ষিদে পাচ্ছে । শাশ্বত : তবে খেয়ে নাও তোমার তো কোন বারণ নেই ।
দুষ্টু কুটিরের চারিপাশে ছোটাছুটি করে নিজের থাকে । মনেই খেলতে শাশ্বতর কথা তার কানে পৌঁছতেই না, না এখন কেউ কিছু খেও না,এখনও ভোগ নিবেদন হয় নি/ শাশ্বত এই যে দুষ্টু বাবু এই দিকে একটু আসুন । ভোগ নিবেদন ক্ষিদে না হলে পেলেও কি খাওয়া যাবে না? দুষ্টু ঃ হ্যা যেত যদি ক্ষিদেটা তোমার তাঁকে সত্যিই পেত। যে দিলেন ক্ষিদে; না দিয়ে খাবে কেমন করে । শাশ্বত মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়়ে ।
দুষ্টুবাবু আমার হাত হাত দুটো সরিয়ে তোমার একটু আমার মাথায় রাখো ২০৮।
মুদ্রিত পাতা 209
দুষ্টু ঃ আচ্ছা রাখলাম এবার তুমি বল আমার এই হাত রাখায় তুমি কি পেলে । শাশ্বত ঃ তোমার এই হাত রাখায় আমায় ক্ষিদের জ্বালা তো জুড়ালই, তার সাথে জ্ঞানের মালাও বাড়ল । দুষ্টুবাবু ঃ তা না হয় হল এবার আমায় ইঞ্জেকশান দেওয়াটা শিখিয়ে দীও । শশ্বত ৪ সে তো আমি দেব । তুমিই তে আমার গুরু । গুরুকে কি অমান্য করা যায় আর আমার মনে হয় তোমার কথায় গো আছে ইঞ্জেকশান ত] দিলেই আর আলাদা করে সিরিঞ্জ দিয়ে ইঞ্জেকশান তোমায় দিতে হবে না ।
তোমার সাথে মিশলে যে কোন রুগই সুস্থ হয়ে বাড়ি যাবে দুষ্টুবাবু ঃ ওসব বললে হবে না! তোমায় আমি আজ ছাড় দিলাম । কান আমায় শেখাবেই । সুমন ঃ হ্যাঁ, হ্যাঁ দুষ্টুবাবু কাল শিখিয়ে দেবে এখন শাশ্বত কাকুকে ছাড়ো ।
কথা বলতে বলতেই রমাবৌদি ভোগের থালা সাজিয়ে পূজার ঘরে চলে যায় শ্রাশ্বত : এই তো রমা বৌদি ভোগ নিয়ে বেরলেন তার মানে এখনই ভোগ নিবেদন হবে সুমন : হ্যাঁ তারপর তোমাদের দীক্ষা শাশ্বত সকাল থেকে দুপুর গড়িয়ে এল (তার মানে) দীক্ষা দিতে গেলে অনেক পূজাই করতে লাগে । সুমন : পূজা, হোম সবই হবে । আমাদের এখানে তো বাজারী দীক্ষা হয় না । শাশ্বত ঃ তাই তো দেখছি ।
আমরাও যেদিন গুরু হব সেদিন আমাদেরও এমন ক্রিয়া করতে হবে অন্য জায়গায় সবাই দীক্ষা নিয়েই গুরু ২০৯।
মুদ্রিত পাতা 210
হয়ে যায় আর এখানে গুরুর এমন জ্বালা দেখলে তর কেউ গুরু হতেই চাইবে না । সুমন : তা যা বলেছ । তাই দেখছ না আমি দীক্ষাটা এখনই বাড়াচ্ছি না । দুষ্টুবাবু (খেলতে খেলতে) দীক্ষা বাড়লেই গুরু হয় না । জ্ঞান বাড়লে গুরু হয় । তাই সুমন কাকু তুমি ভয় না পেয়ে দীক্ষাটা বাড়িয়ে নাও । শাশ্বত হো হো করে হেসে ওঠে । সুমন এখন আর বেশি কথা বলা যাবে না / পাশে কে আছে দেখছ তো । এক শুরু ঘরে পূজায় বসে আছেন ।
আর এক গুরু বাইরে ঘোরাঘুরি করছেন একটু ভুল ভাল বললেই চেপে ধরছে। এইভাবে আরও ঘণ্টাখানেক চলে যায় । এইবারে ভেতর থেকে রমা বৌদি ডেকে ওঠেন-যাদের দীক্ষা হবে তারা ভেতরে চলে এসো । সকলে তাড়াতাড়ি করে চলে যায় পাগলাবাবা প্রথমে প্রশান্ত অনিমা তারপর অনিমেষের কানে মন্ত্র প্রদান করেন । তারপর শাশ্বতকে শাক্তভিষেক সিঞ্চন করে অভিষেক ঘটিয়ে শক্তিমন্ত্র প্রদান করেন ।
শাশ্বতর কানে মন্ত্রের ধ্বনি বাজতেই শাশ্বত কেমন যেন হারিয়ে যায় গুরু, গুরুমাকে প্রণাম করে অবাক নযনে গুরুমার দিকে চেয়ে থাকে। গুরুমা শাশ্বতকে আর্শীবাদ করে বাইরে গিয়ে বসতে বলেন । শাশ্বত বাইরে বেরিয়ে দালানের এক কোণে চুপ করে বসে পড়ে । তখনও সারা শরীরে মন্ত্রগুলো বর্ণের যান হয়ে পাক খেতে থাকে । রমাবৌদি ঃ শাশ্বত, তুমি ঠিক আছ তো? কোন অসুবিধে হচ্ছে তো? আসলে তোমার সারা শরীরে ন্যাস করা হয়েছে । তাই এখন একটু ২১০।
মুদ্রিত পাতা 211
ক্লান্ত লাগবে তবে আর একটু পরই শাত্তির জল' দেবেন । সেই জল শরীরে পড়লেই সব ঠিক হয়ে যাবে । শাশ্বত ঃ আচ্ছা, বলে আবার আকাশের দিকে চেয়ে থাকে । পাগলাবাবা পূজা হোম শেষ করে সকল শিষ্য শিষ্যাকে শাত্তির জল প্রদান করেন। সময় গড়িয়ে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এসেছে । সকলকেই এবার ভোগ গ্রহণের আদেশ করেন গুরুমা সুমন কাকু চল তাড়াতাড়ি বসে পড়ি তোমার ক্ষিদে মেটাবার সময় এখন এসেছে ।
তুমি যে দীক্ষা না নিয়েও এতক্ষণ খালিপেটে ছিলে; আর তোমার দুঃখ দেখে আমিও খালি পেটেই রয়ে গিয়েছিলাম শাশ্বত ৪ আহারে তুমিও কিছু খাও এইটুকু বাচ্চা এতক্ষণ না খেয়ে। দুষ্টুবাবু ঃ কেমন করে খাই বল দীক্ষা নেবে তুমি উপোস করে, দীক্ষা দেবে মা বাবা উপোস করে, মাঝে আমি থাকব ভরপেটে। শাশ্বত ঃ তুমি এত কথা পাও কোথা থেকে বল তো? দুষ্টুবাবু ৪ জানি না, বাবা বলে জ্ঞান হলেই বুলি আসে । এ জ্ঞানটা আমার দেখে দেখেই বোধহয় এসে গেছে ।
তাই কথাটাও এসে যায় । এদিকে সকলে খাওয়া দাওয়া শুরু করলেও গুরু গুরুমা রমাবৌদি অমলদা এনারা সেই উপোস করেই রযে যান । শাশ্বত ভোগ গ্রহণ শেষ করে রমাবৌদিকে জিজ্ঞেস করে আপনারা তো কিছু এখনও মুখে দিলেন না । রমাবৌদি ঃ না, এখনও আমাদের পূজা একটু বাকি আছে তবে আমাদের নিয়ে চিত্তা করোনা আমরা `ভোগ যোগ' একই সাথে করি । তাই জাগতিক খিদেটাও যোগের দ্বারা সামলাতে পারি এখন আমি যাই । চক্রানুষ্ঠানের জায়গাটা করে নি। ২১১।
মুদ্রিত পাতা 212
পাগলাবাবা ঃ রমা, আজ একটা আসন পঞ্চপাত্র আলাদা করে সাজিয়ে রেখো গুরুমা কি শাশ্বত তোমার খাওয়া দাওয়া হয়েছে তো? অনেক ক্ষণ করে ছিলে কষ্ট হয়নি তো উপোস শাশ্বত : না মা; কিম্তু আমাদের তো সবই হল আপনাদেরই দেখছি কন্ট । গুরুমা (একটু হেসে) কষ্ট? কষ্ট দুর করতেই তো এপথে দেখলে বাইরে থেকে কষ্ট; ভেতরে শুধু আনন্দই আনন্দ । দেখনা, এখনই এক আর পাগলী আসবে । আজ আমাদের তোমার দীক্ষার সাথে অনুষ্ঠানে বসবে খবর পেয়ে সেও খুব খুশি । শাশ্বত : কে মা?
আমি তো কাউকে কোন খবর দিই নি। গুরুমা তাকে কোন খবর দিতে লাগে না । তার কাছে পৌঁছে যায় সে মনে করলে সব খবরই সে তোমায় ভাল ভাবে চেনে এখনও চিনে উঠতে কিত্তু তুমি পারেনি । তখনই কুটিরের ছোট গেট্ পার করে সিদ্ধা দেবী শাশ্বত প্রবেশ করেন । (অবাক হয়ে আরে সিদ্ধা দেবী) ।
গুরুমা আয় আয় সিদ্ধা শাশ্বত-এই এতক্ষণ হল আমাদের সিদ্ধা তোমায় বলছিলাম যার কথা শাশ্বত : হাত জোড় করে প্রণাম জানায় সিদ্ধা (হাসি মুখে) হ্যাঁ, এবারে পরিচয়টা করা আপনার যাবে আমি সিদ্ধা পরিচিত অর্কের মা । অর্ক আমার আর আমি বিবাহিতও পেটে ধরা ছেলে নয় নই অর্ক ছোট থেকেই আমার রয়েছে । তাই সে আমায় মা বলেই ডাকে । কাছে আমার খুবই আর ওর মা পছন্দের ডাক; আপনার গুরু গুরুমার আমি এখনকার স্নেহধন্যা সিদ্ধা মতো পরিচয় । এই হলো আমার ২১২।
মুদ্রিত পাতা 213
আর আপনার পরিচয়টী আপনার সাথে পথে চলতে চলতেই জেনে নিতে চাই কারণ ডাক্তার শাশ্বতকে আর সাধক আমার জানাই আছে, শাশ্বতকে জানতেই আমি আজ এখানে এখ আগে তাড়াতাড়ি ভিতরে যাই তা নাহলে আপনার পাগলাবাবা আমাকে চিবিয়ে খাবেন । এমনিতেই আজ একটু দেরি করেতো এখানে এসেছি । এখন তাহলে আসি বলেই কুটিরে প্রবেশ করে ।
শাশ্বত গুরুমাকে প্রণাম করে মী তমায় আশীর্বাদ করুন বাতে আমি সাধক শাশ্বতর পরিচয় যথাযথ সিদ্ধা দেবীকে দিতে পারি [" (গুরুমা আশীর্বাদ করে) এখন থেকে তুমি আর শুধু ডাক্তার শাশ্বত নও; সাধক শাশ্বতর পরিচয়ই তোমার আসল পরিচয় হবে । এই আশীর্বাদই তোমায় করি । তুমি এখন একটু বাইরে অপেক্ষা করো, আমরা আমাদের পূজা শেষ করে আসি / আশা করি তুমি তাড়াতাড়ি অধিকার প্রাপ্ত হয়ে আমাদের সঙ্গেই ওই পূজার ঘরে উপস্থিত থাকতে পারবে । এখন আসি ।
গুরুমা চলে গেলে গুরুমার আশীর্বাদে সিদ্ধাদেবীর আহ্বানে শাশ্বত আপ্লুত হয়ে ওঠে। .. .. ক্রমশ এবারে এগিয়ে চলা শুরু হবে মা গঙ্গার উৎস জানা সমতল থেকে পর্বতের শিখর, জটায় আবদ্ধ অমৃতধারা ভাসমান প্রদীপ নিয়েছে উল্টোধারা কাণ্ডারী গুরু আজ দিয়েছেন জপমালা সেই মালায় রয়েছে পথের হদিশ বলা আলোকিত হবে যে গোমুখে প্রদীপ । সেই পথে যাব আমি, দেব অর্ঘ্যমালা গুরুদেবের অভয়বাণী, মাগঙ্গার হাতছানি । জীবন ধন্য কর চিরত্তন নামখানি। । তৎসং।
মুদ্রিত পাতা 214
' একের মধ্য দুইয়ের অবস্থানা আমিই সুর আমিই অসুর-সুরের স্থান স্বর্গহলে অসুর যাবে পাতাল ঘরে। সাধন-কর্ম বলে দেবে আমার স্থান কোথায় হবে জাগতিক অজাগতিক' প্রতিটি মানুষের দুই সত্তায়় গঠিত জীবনযাত্রা, যার সঠিক মূল্যায়ন নিজের মধ্যে দেবত্বের আস্বাদ গ্রহণের স্বাদপাওয়ার সহজউপায় ।
ISBN : 978 93 87800 864] SANSKRIT PUSTAKBHANDAR 38 Bicnan Saranl Kolkala 6 Phone ; (033) 2241 1208 sanskisanskeltpueratarennaailt C0m com] 17 893 87//8 0 0 8 6 Rs 295/ Scanned witn CamScanner।