পাঠপর্ব — সম্পাদকীয় বিভাগ, লেখকের অধ্যায়নাম নয়
অন্বেষণ
মুদ্রিত পাতা ১০৮–১৬১।
জাগতিক অজাগতিক · প্রথম খণ্ড · মুদ্রিত পাতা 117–170
মুদ্রিত পাতা 108
টের পাচ্ছিলাম । সেই সময় একাই ঘরে ছিলাম ঘরে পাতা খাটের উপর বসে পড়লাম । আর মাথার উপরে হঠাৎই যেন স্পষ্ট টের পেলাম কেউ মাথায় একটা ধাক্কা দিল ফিরে উপরে তাকাতেই দেখি একটি কমবয়সি মেয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে সিলিং ফ্যানে ঝুলছে । সুমন ঃ সে কি! দড়ি খুলে নেমে আসেনি তো? এত ভয়ঙ্কর ব্যাপার তারপর হল? শাশ্বত ৪ আমি সঙ্গে সঙ্গে ঘর থেকে বেরিয়ে আসি / আর যে ঘরে অসুস্থ মেয়েটি ছিল সেই ঘরে চলে যাই, ঘরে ঢুকেই মেয়েটির হাত ধরতেই মেয়েটি লাফিয়ে ওঠে।
আর আমার রক্ত খাবে বলে । তখনই ভয় পেয়ে সবাই ঘর থেকে পালিয়ে যায় । তখন ঘরে শুধু আমি আর সেই ভয়ঙ্কর মেয়েটি দুজনে থেকে যাই । সুমন : ওরে বাবা, খুব সাহস আছে তোমার শাশ্বত ঃ আমি তখন আর করব ভাবতে থাকি / আর তখনই কে যেন আমার ভেতর থেকে আমাকে 'জয়গুরু' বলে আমি এগিয়ে যেতে বলে । একহাতে মেয়েটির একহাত ধরে অন্যহাতে ওর কপালটা জোরে বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে টিপে ধরি । সুমন : আর মন্ত্রগুলো বলনি?
শাশ্বত ঃ তো মনে মনে বলতেই থাকছিলাম বিছানায় পড়়ে যায় তারপর দেখি মেয়েটি আর শিশুর মত ঘুমিয়ে সুমন : পড়ে । তাহলে মেয়েটি মম্তের সত চাপটা আর নিতে পারে নি । তাই তখনকার ঘুমিয়ে গেছে । শাশ্বত : তারপর আমি ঘর থেকে বেরিয়ে আসি ওর ঘাড় থেকে নেমে শুধু মনে হল ওর দিদি হাসপাতালে গেছে । খুব দুর্বল হয়ে পড়েছিল । কিছুদিনের জন্য ভর্তি তাই করাতে বললাম ১০৮।
মুদ্রিত পাতা 109
সুমন : কার দিদি? ও, যে মেয়েটি ঘরে ওর দিদি? সেই গলায় ফাঁস দিয়েছিল ও-ঐ ওকে ধরেছিল? কিদ্ভ একটা জানান দিয়ে ভূত ছাড়লে তো বিছ যায় তবেই ভূত গেছে বাঝা দেখেছিলে? য্রায় । তেমন বিছু শমত না, অতটা তো আমার শেখা হয়নি বাবাই তাই সব তো এবার আমাদের বলবেন । শশ্বত : (পাগলাবাবার দিকে ফিরে) বাবা, এবার তো আর আপনি বলুন, আনি কিছু জানি না । পাগলাবাবা (এতক্ষণ মন দিয়ে সব শুনছিলেন) । শশবত : (আবার বলে ওঠে) বাবা এরপর কি হল আমিও জনতে চাই।
সুমন অবাক হয়ে শুধু দুজনের দিকে চেয়ে চেয়ে দেধে । পাগলাবাবা ঃ হ্যাঁ, শাশ্বত তুমি ঠিকই দেখেছ আর বাড়িতেই ভূত এখনও বার নিi ৫ আছে। ওর দিদির আত্মঘাতী উদ্ধার মৃত্যু; এত সহডে সে হতে পারবে না । ওর আয়ুকাল পর্যত্ত ওকে প্রেতলোকেহ থাকতে হবে / আর অনেক কষ্ট পেতে হবে । ওর দিদির ওপর ওর বাবা ও সং মা অনেক অত্যাচার করেছে অসুস্থ মেয়েটি ওর বাবার দ্বিতীয় পক্ষের মেয়ে এই বোন আসার পর থেকেই ওকে কষ্ট দেওয়া শুরু করে দেয় ।
ওর বাবার চোখের আড়ালে ওর সং মা বাড়়ির যাবতীয় কাজ দিদিকে দিয়েই করাত ওর কথায় কথায় অপমান করত । খাওয়া দাওয়াতেও নানারকম ছোট বড় বিচার করে মেয়েটির পাতে তুলে দিত ওর সং মা । দিনের পর দিন এই যন্ত্রণাদায়ক ঘটনা ওর সঙ্গে চলতে থাকে তাই একদিন রাগে দুঃখে সে তার নিজের জীবনই বিসর্জন করে দেয় যে জ্বালাবন্ত্রণার হাত থেকে বাঁচতে নিজেকে শেষ করল; তার থেকে অনেক বেশি জ্বালা এখন তাকে নিতে হচ্ছে আর এভাবেই ১০৯।
মুদ্রিত পাতা 110
চলতে থাকবে নিজের শরীরটা শেষ করে দেওয়াই শেষ কথা নয় মানুষ ভুলে যায় জেগে থেকেও যেমন দিন পার করে এই পৃথিবীর বুকে; ঘুমিয়ে থেকেও তেমনই রাত পার করে একই জায়গায় থেকে । জেগে থেকে মানুষগুলো নিজের সংসার নিয়েই থাকে আর সুখ-দুঃখ ভাগ করে একে অপরের সাথে । আবার তেমনই ঘুমিয়ে থেকে সারা ব্রহ্মাণ্ডে স্বপ্নে বিচরণ করতে থাকে । আর সারাদিনের উপার্জিত জ্ঞান ঘুমিয়ে থেকে স্বপ্নে ভোগ করতে থাকে ।
যতক্ষণ শরীর থাকে এই জাগতিক অজাগতিকের মেল বন্ধনে চলতে থাকে আর যখন শরীর ছেডে দেয় তখন জাগতিক ভাব ছেড়ে অজাগতিকেই বিচরণ করতে থাকে । তাই জাগতিক অবস্থায় কর্ম থাকে আর অজাগতিকে সেই কর্ম অনুযায়ী যে জ্ঞান লাভ হয় সেই জ্ঞানকেই সঙ্গে নিয়ে শুধু তারই ফল ভোগ করতে থাকে । তাই শাস্ত্র বলেছে আত্মঘাতী মহাপাপ । তা সে যে কারণেই হােক না কেন । সুমন তাহলে বাবা এখন হবে? মেয়েটার তো তেমন কোনো দোষই ছিল না ।
তার ঐ সং মায়ের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এই কাজ করল । ভগবান তবে তাকে ক্ষমা করবে না । পাগলাবাবা তোর মতো বিচার যদি ভগবানের হতো তাহলে তো ওর সৎমারও কোনো দোষ ছিল না অপরের মেয়েকে সহ্য করতে না পেরেই ওকে কষ্ট দিয়েছিল ।
তাহলে তো দোষী নয়; কী বল দুজনের কেউই সেভাবে আসলে এই কর্মময় জীবনে কর্ম করেই যেতে হয় ভালো ভালো কর্মের ফল পাওয়া যায়, আর খারাপ কর্মের খারাপ ফল সময়ের আর সাথে সাথে নিজের সঠিক কর্ম কী; তা কর্মের পথ বদলাতে জেনে নিয়ে তয যেমন জাগতিক হাতে নিয়ে জীবনে পরীক্ষার ফল চাকরীর লাইনে দাঁড়াতে হয়, তেমনই আবার ১১০।
মুদ্রিত পাতা 111
জাগতিক তাজাগতিক অজাগতিকে সারাজীবনের কর্মের ফল হাতে নিয়ে তজাগতিক স্তরে গিয়ে দাঁড়াতে হয় আর যে যেমন স্তরে দাঁড়়ায়, সে সেই সরের নিয়ম অনুযায়ী ফল ভোগ করতে থাকে। তাই মানুষ দুটি জীবনই নিয়ে চলে । একটা কর্ম করায়, আরেকটা ফল ভোগ করায় আসলে মানুষের মৃত্যু হয় না, শুধু নামের মৃত্যু হয় যেমন পরিবার বর্গের কারও মৃত্যু হলে; পরিবার থমকে দাঁড়ায়, নিজের প্রিয়জনের চলে যাওয়ায় কাতর হয়ে পড়ে ।
আবার সময়ের সাথে ব্যথা-বেদনা ভুলিয়ে হাসি আনন্দে মেতে ওঠে; তেমনই জীবনটা একটা বৃত্তের মধ্যে শুধু পাক খেতে থাকে তর আত্মার রূপান্তর ঘটিয়ে আবার নতুন জীবন শুরু করে দেয় । এইভাবে পাক খেতে থাকাকেই জীবনচক্র বলে যাকে কোনো ভাবে ধ্বংস করা যায় না / তাই আত্মারও মৃত্যু নেই । শুধু জাগতিক আকার ধারণ করে নাম বদলায়় বুঝলি কিছু সুমন? সুমন শাশ্বত অবাক হয়ে পাগালাবাবার কথাগুলো শুনছিল ।
সুমন ঃ বাবা, যা বোঝালেন, আর আমি কী বুঝলাম, তার জন্য একটু সময় নিয়ে আমায় ভাবতে হবে । কিছু তো আমার মাথায় ঢুকল, কিছু মাথার উপরে ঘুরে বেড়াচ্ছে তবে এসব ঠিক ঢুকিয়ে নিতে হবে পাগলাবাবা ঃ যেগুলো মাথায় ঢুকল সেগুলোকে আগে ঠিক করে রেখে দেখ;, আর তোর মাথায় জায়গা আছে কী না / তারপর যেগুলো মাথার উপর উড়ছে সেগুলোকে ঢুকিয়ে নিস : তা নাহলে যা ঢুকলো তাও বেরিয়ে যাবে । শাশ্বত ঃ বাবা আমার একটা প্রশ্ন ছিল? পাগলাবাবা হ্যাঁ বল ।
শাশ্বত ওখানে আমি মেয়েটির দিদির অস্তিত্ব দেখলাম বা জানতে পারলাম কীভাবে? আমি তো তাকে স্পষ্টই দেখতে পেলাম যার দেহ ১১১।
মুদ্রিত পাতা 112
জাগতিক তাজাগতিক নেই তাকে আবার অন্য কেউ দেখবে কীভাবে । আর তার পাওযা; সে কোথায় থাকত আমি কীভাবে জানতে কয্ পারলাম । এসব আশIর দারী কীভাবে সম্ভব হল?
পাগলাবাবা যেমনা কাচের গ্লাসে ভরে রাখা জল তোমার ঘরের সেেতে ছড়িয়ে দিলেও বোঝI যায় এটি তোমারই গ্লাসের আকার ধারণ করা জন] ছিল চোখ বুজে আবার ভাবতে পারলেই দেখা যীয় ছড়ানো জলটা গ্লাসের মধ্যেই আবার আকার ধারণ করে আঢে আর তখনই বোঝা যায় আকার হারানো জলটার আকার সঘবঙে আর জলের আকার বোঝা গেলেই জলের ভাবও বোঝা যায় জলের ধর্ম হল জল আগুন নেভায়, আর কতটা আগুন নেভাতে কতটা জল লাগে তা জলের পাত্রের আকারই বোঝায় তেম্ট যে আত্মা আকার ছেড়ে ছড়িয়ে পড়ে তাকে আবার আকারে ফিরিয়ে আনতে পারলে তখনই তার আকার ও ভাব বুঝে নিতে পারা যায় আর সেই ভাবে নিজেকে মেশাতে পারলেই তখনই তার ক্রিয়া কলাপ সম্বন্ধে সব জেনে নেওয়া যায় / আর সেহ ক্রিয়া করতে হলে নিজেকে খালি করে অন্যের ভাবে নিজেকে প্রবেশ করাতে হয় ।
আর তখনই তার সব কিছু অতি সহজেই বলে দেওয়া যায় প্রশ্ন হল, তুমি জানলে কীভাবে? এতক্ষণ যা বলে গেলাম তা তো তুমি কিছুই করনি, তাহলে তুমি কিকরে সব কিছু দেখতে বলতে পারলে? তবে শোন, গুরু শিষ্যকে গুরুতে ভক্তি ও সমর্পন করতে শেখান গুরু নির্দেশিত পথে চলতে বলেন । শিষ্য যদি নিজেকে সমর্পন করে গুরু আজ্ঞা মেনে চলতে পারে তখনই গুরু তার ভাব ।শিষ্যের ভাবে মিলিয়ে শিষ্যকে তার চোখ দিয়েই অনেক কিছু দেখাতে পারেন ।
তোমার কাজ ছিল শুধু গুরুকে স্মরণ করে গুরুর ভাব কে প্রবেশ করানো যা তুমি প্রতি পদে পদে গেছ করে তাই অতি সহজেই এসব তোমার সঙ্গে ঘটে গেছে । ১১২।
মুদ্রিত পাতা 113
আসলে গুরুর কোন আকার হয় না, অনেকটা জলের মতই । যেমন জন্মদাতা মাতী পিতাও হলেন গুরু, আবার বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকাও হলেন গুরু । আবার আধ্যাত্মিক দীক্ষা প্রদানকারী গুরুও হলেন একজন দীক্ষা গুরু / যিনি অজানাকে জানান দিতে পীরেন তিনিই হলেন গুরু ।
যেমন একজন অন্ধ তার হাতের লাঠিকে পথ পীর অবলম্বন করে উঁচু নিচু করে লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে নিজেকে তেমনই শিষ্যের অঙকত রেখে, অন্ধত্ব ঘুচিয়ে আলোর দৃষ্টি প্রদান করতে পারেন ওরু অন্ধ যেমন লাঠিকেই একমাত্র অবলম্বন করে পথে বেরিয়ে পরে, শিষ্য তেমনই গুরুকে একমাত্র ত্রান কর্তা ভেবে নিজেকে ছেড়ে দিতে পারে আর যে এই কাজ করতে পারে সেই শিষ্য হবার যোগ্য। সেই আবার জ্ঞানে মিলিত হয়ে জ্ঞানরূপী গুরুর আকার ধারণ করে নিজ শিষ্যকে পথ দেখাতে থাকে।
এই হল তোমার প্রশ্নের এখনকার মতো উত্তর এরপরে এপথে ঠিকঠাক এগোলে আরও জানতে পারবে বুঝলে? সুমন : আচ্ছা বাবা, আমি কি করলে আপনি আমার মধ্যে মিলে যাবেন? পাগলাবাবা ঃ (একটু হেসে) তোের মনে হয় আগের কথাগুলো সব জায়গা হারিয়েছে? গুরুতে মিলিত হয়ে গুরু হবার কথাটা বেশ জায়গা করে নিয়েছে । আসলে আমি তো তোর আমি যখন মধ্যেই মিশে আছি ।
তাের বযসি ছিলাম তখন নাকি তোর মতই খুব খেতে ভালবাসতাম, আর যখন তখন ঘুমিয়ে পড়তাম আমার মা বলতেন খাওয়া আর ঘুম ছাডা আমি নাকি কিছুই ভালভাবে জানতাম না । তাই তুই দেখ আমি তোের সাথেই মিশে মতো আছি । তোর বয়সে তোর আবার আমার বয়সে যখন তুই আসবি আমার যাবি । মতোই হয়ে নে, আর কথা না, এখন একটু বয়স বারাবার নেI আর আমিও কাজ গুলো করে একটু বয়স বারাবার কাজ গুলো করে নি তা ১১৩।
মুদ্রিত পাতা 114
নাহলে তুই আবার আমায় ছুঁয়ে ফেলবি । (বলে পাগলাবাবা প্রবেশ করেন ।) কুটিবে শশ্বত মনে মনে ভাবতে থাকে আরও অনেক প্রশ্ন ছিল, যাক; আগে বললেন সেই গুলোকে জায়গা করে দিই 7 তারপর নয় প্রশ্ন করে জেনে নেওয়া যাবে আবার (সুমনকে) কি বলো ভাই? কিছু জানা গেল বলত চেত আর এই সব জানতে গেলে গুরুর পড়ে থাকতে হয় কাছেষ তা নাহলে বই পড়ে এইসব বোবা (বলেই যাবে জয়গুর 7।।
জয়গুরু' বলে হাততালি দিয়ে উঠে মনে শে বেশ তৃপ্তি অনুভব করছে ।) (সুমনকে জাড়িয়ে ধরে বলে) প্রশ্নগুলো যেন আমার শরীরে ভার এতসব হয়েছিল; লাগছে । এখন অনেকটা হাল্কা সুমন আর কত হাল্কা হবে ভাই, পাগলাবাবা তো তোমার ঢুকছেন আর বেরোচ্ছেন । ভিতরে শাশ্বত : ওটাই তো মুশকিল বেরোবেন কেন? এবারে দরজা জেনে দরজায় খিল এঁটে ঢুকলে বেরোবার দেব সুমন : একি তাহলে আমরা পাব ভাবে? শাশ্বত তোমার আর চিত্তা আছে বল ।
বললেন উনি তোমার পাগলা বাবা তো নিজেই ভিতরেই আছেন । সুমন : ওত রসিকতা, আমি এসব নিলাম আর বুঝি না । এত বড় বড় কথা কোনটা রসিকতা সেটা বুঝব না । উনি বুবে শুধু_খেলে আর ঘুমলে এত আমার বয়সে পারতেন সব ভূত প্রেতদের দেখলে না আর কথা বলতে দাঁড়ালেন ছেডে চলে গেলেন । না, তাড়াতাড়ি করে আমায় পাছে আমি জানি, উনি আমি আবার চেপে ধরি অনেক ছোট থেকেই অনেক আসলে নিয়েছেন ।
শশ্মান সাধন সাধন, চিতা টাধন করে ভুত সাধন প্রেতদের সম্বন্ধে এই সব না করলে কি আর বলা করে নিয়েছেন । যায় । এইসব অনেক আগেই পাগলাবাবা ১১৪।
মুদ্রিত পাতা 115
জীগতিক অজাগতিক শাশত বুঝলাম । তা তুমি এডসব সাধনের কথাী জানলে কীভাবে? সুমন গয়] পড়েছি । এই লছিনে আমার ছিল । তাই প্রচুর ছোট থেকেই খুব আকর্ষণ পথের নিয়েই তবে তো পড়ে নিয়েছি। আর সেই জ্ঞান এপথে নেব এসেছি । এসব আমিও একদিন করে ৩ই পডে কি জনলে হয় তা ৩ই ভাই? কেমন করে এসব সাধন করতে সব বই গুলোতে বলী আছে?
স্মন ৪ হ্যাঁ সব বলী আঢে প্রথমে কিভাবে কেমন করে কি মস্ত্র জপ করতে হবে, শশ্মানে বা শবে বসতে হবে, কতক্ষণ জপ করতে তারপরে কী কী মন্ত্র হবে, সবই লেখা আছে অনুযায়ী চলতে আর পারলে সেহ নিয়ম সিদ্ধি হয়ে যাবে । শাশ্বত ৪ তবে তুমি করে দেখলে না কেন? গুরুর কাছে প্রয়োজন কী ছিল? ওতেই আর আসার তো সিদ্ধি হতে পারত। সুমন ৪ হ্যা পারত ।
কিত্তু সেই বইতেই সব নিয়ম অনুমতি বলার নিয়ে পরে নিজ গুরুর তবেই করতে হবে বলে লিখে নিজে নিজে বইয়ের নিয়ম দেওয়া আছে । অনুযায়ী শুধু করে গেলে তার মানে হবে না । তাই তো পাগলা বাবার কাছে দীক্ষা নিলাম কবে কী করান? দেখি, উনি গাশ্বত ? তুমি পাগলাবাবা কে জানিয়েছে তোমার মনের ইচ্ছার সুমন ৪ কথা?
না, তবে আমার পাগলাবাবার উপর বিশ্বাস আছে উনি নিজেই আমার মনের ভাব জেনে আমায় যেদিন সেই দিনই এই ক্রিয়া আদেশ করবেন আমি করে নেব এমন পাগলাবাবার মত অনেক গুরু ভাগ্য করেই পেয়েছি । এখন বুঝতে পারছি আমায় আরও বেশি করে গুরু সঙ্গ করতে হবে শুধু বাড়ি বসে ক্রিয়া করলে হবে না / আসলে আমি আরও অনেক গুরু দেখেছিতো যাদের দেখলে আমি কেমন গুরু পেয়েছি বুঝতে পারতাম না । ১১৫।
মুদ্রিত পাতা 116
"ত তার মানে আগে কোথাও দীক্ষা নিয়েছিলে নাকি? সুমন ? (হাসতে হাসতে) না ভাই, এত টাকা পয়সা পাব যেখানেই যাবে টাকা পয়সার কোথায় গ।ম্প অমায়িক হয়ে শুনবে, আর দেখবে বলবে গশুরুরা আমি আমার কিছু চাই না আমি ভোগী গুরু গরিব দুঃখীদের দান ধ্যান করি নই । একটু বেশি তাই আশ্রমে করে; প্রথমবারে পরে প্রতি মাসে দিয়ে কিছু যেতে কিছু হবে করে টাকা পয়সা তবে সে সব গুরুদের সাধক মনে হবে ।
দেখলেই কেমন বড় সব সময় বড় কেমন যে সেজেগুজে থাকেন দেবদেবীদের সতত আর কথায় দেবী যেন মধু ঝরে । তাই আমিও দেব পেয়েছি মনে করে এনাদের থেকে দীক্ষা ঠিক করে ফেলেছিলাম নেব ভেবে সব শাশ্বত তারপর নিলে না কেন? সুমন ঃ সেই গুরুর শিষ্যরা দীক্ষা নেবার জন্যে একটা ফর্দ আমার তুলে দিলেন । বেশ লম্বা হাতে সোনা-রূপার ফর্দ_অনেক কিছু লেখা ছিল । এমনকি গয়নাও গুরু বরণে দিতে হবে । হিসাব টাকা যোগাড় করতে পারিনি করে অত তাই আর দিক্ষা নেওয়া হয় নি।
কিন্তু সে আর এক জ্বালা হল, হাতে যেহেতু একবার দীক্ষার ফর্দ আমার দেওয়া হয়েছিল, তাই বারবার ডাকাডাকি আর একবার গুরুর করতে সামনে লাগতো । এত খরচা গেলে সেই গুরু বললেন করতে না পারলে এখন একবারে দিয়ে দিও । আমি কিছু দিয়ে বাকিটা পরে পরে কথা আমি সাবমি তোমাকে খুব বিশ্বাস করি । তোমার মনের ইচ্ছার দিচ্ছি । বুঝতে পারি! তাই তোমায় এই সুযোগ করে আর তখনই আমি বুঝে গেলাম আমি মনে মনে ব্যপারটা কি ।
আসলে সে সময়ে লোকেদের দীম্ষন দড়া বছিলাম এরাতো ভালই ব্যবসা খুলেমছেয় দেয় মত আর দেবীদেবী সেজে গীতা - ব্যখ্যা করে বহাল সুখ ভোগ পুরাণকে নিজের করে আরে গীতা পুরাণ শুনতে ১১৬।
মুদ্রিত পাতা 117
৩।গতিক ৩।6।গ8িক (গ।(, । (৩lম।ল ক।ঢে তসব কেণ? আমি অশিক্ষিত নাকি? যে ৩।;1 এসব বIড বাডে ভাবনাই ৩।ণ1।4 %৬৩ প।ণ1 ণI ৩।ম।;1 ষ(। ৩"। চলি[ । ৩ার সেচ গুকু পলে কিনা আমার খলেে:্ ৬াব সে ুশে নিযেছে । আাামIয় খুব বিশাসও করে ফেলেছে । 4।^0 তান্নপ:1 তুশি বি শললে? সুমন ৪ ৩ুমি তে জান ভাই আমি সৌজা বথী বলতে ভালবাসি । সোজা বলে দিলাম আপনি ৩মকে একদম' বোঝেন নি ।
আমি আপনাকে ৩ঐ মানি না বলে বেরিয়ে গেলাম ওনার শিব্যরা আমাকে ভয় দেখাত; আমার নাকি অনেক ক্ক্ষতি হয়ে যাবে এমন দেবতুল্য ওরুকে অপমান করায় / তিনি অভিশম্পাত করবেন তারপর যা হল ওনাদের অভিশাপ গুলো আমার কাছে আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়াল ! সব শেযে এগার টাকায় দীক্ষা হল আর এমন পাগলাবাবার চরণে ঠাই করে দিল । শাশ্বত তুমি তো অনেক ঘাটের জল খাওয়া দেখছি তা এত ঘাট ঘুরে শেষে এগার টাকায় দীক্ষা নিলে ।
সুমন ৪ নারে ভাই, আমার তো হঠাৎ করেই দীক্ষা হয়েছিল / আমি অমলদা কে অনেক দিনই চিনতাম তার তার মুখেই পাগলাবাবার কথা শুনি । একদিন অমলদা আমায় পাগলাবাবার কলকাতার বাড়িতে নিয়ে গেলেন / তারপর থেকে মাঝে মাঝে সময় করে আমি একাই সেখানে চলে যেতাম অমলদা বলেছিলেন আগে কিছুদিন আমার ওরু বাড়িতে যাতায়াত করতে থাকো,তারপর তোমার দীক্ষার কথা আমার গুরুদেবকে জানিও । সেই কথামত আমিও যাতায়াত করতে লাগলাম । আরে ভাই অনেক দেরি হয়ে গেল তো ।
এখন রান্না করতে হবে । সন্ধ্যা তো অনেক আগেই পার হয়ে গেল পরে শুনো আমার দীক্ষার কথা এখন চলো দোখ করতে হবে । শাশ্বত ও হ্যাঁ তো অনেকটা সময় কথা বলতে বলতেই পার হয়ে গেল ১১৭।
মুদ্রিত পাতা 118
জ।গিক তজগতিক 31।গ।ল।।4।4।৩ তো। কিছু বলছেন নI চলেো দেখি তজ রান্নার কখ। বলেন? (দুজনে কুটিবের দরজার সামণে এলে পাগলাবাবা ভেতর (থকে দরজী বন্ধ করে কিছু করছেন ।) শাশ্বত, সুমন কেউই সাংস করে দরজী ধাকী দিতে পারঢে না সুমণ ঢেডে দও যা পারি করে নেব উনি এখন বোধ হয় জপ তপ ফর৮েন এই সময় ডেকেও লাভ নেই শুনতেও পাবেন না । (দুজনেই রান্না ঘরে ঢুকলে দেখে সব চাপা দিয়ে রাখা ।) শাশ্ত ৪ তাই তো দেখছি । চাপা তুলে দেখ তো ভাই সুমন আছে ।
সুমন : (চাপা খুলে) আরে ভাই পরোটা, আর এক পাত্রে ডিমের কবা । একি কোথা থেকে এল এসব, আর কখনই বা এল? শাশ্বত : ম্যাজিক নাকি? পাগলাবাবা (কুটির থেকে দরজা খুলে বেরিয়ে দালানে এসে দাঁড়ান) কইরে তোরা? কোথায় গেলি? বলে ডেকে ওঠেন । সুমন; শাশ্বত হ্যা বাবা, বলে বাইরে বেরিয়ে আসে পাগলাবাবা : খাবার দাবারের ব্যবস্থা কর আজ তো তোদের রান্না নেই । শাশ্বতর পছন্দের খাবার আছে । (ৈ তাড়াতাড়ি বসে পড়। সুমন ঃ কিন্তু বাবা এগুলো কোথা থেকে এল ?
আমরা তো কিছুই বুঝলাম না । পাগলাবাবা ভূতে দিয়ে গেল । আর বলল কেমন হয়েছে রান্না গুলো তোকে জানাতে । তোের বন্ধু তো সবাই তোরা যখন বাসন ধুতে গেলি তখনই বুড়োকার বৌ এসব নিয়ে হাজির হল আর বললে আজ আর আপনাদের রান্না করতে হবে না / তবে বেশিক্ষণ না দাঁড়িয়ে খাবারটা রেখেই চলে গেল তোরা গল্পে এত মগ্ন ছিলিস তাই তাকে দেখতে পাসনি নে এবারে আসন পাত । সুমন শাশ্বত আসন পেতে খাবার নিয়ে আসে ১১৮।
মুদ্রিত পাতা 119
গপলাবাবা ঃ নে তোরাও বসে পড় আর শুনেই হয়ে গেল? সুমন তোর সন্ধ্যা আজ কথা ওুরুর প্রাতঃকৃত্য, সন্ধ্যা সাথে থাকলে এই এক সুবিধে আছে । না করলেও গুরুর সম্মুখে চলে সেটা তুই ভালই বুঝে গেছিস । পূজা, জপ করতে গরঢ় আজ্ঞায় নেই, সেকথী শুরুগৃরহে শাম্তে বলা থাকলেও থেকে গুরুর কিস্তু তোর মতো অনুমতিতে সবই করা যায় । হয়ে শাস্ত্রে পথই শুধু খুঁজে আগে কোথায় ছাড় আছে সেই বেড়ালে আর সাধন হবে নী ।
সমঢ না বাবা, ভূল হয়ে গেছে এখন থেকে রোজই করে নেব !
পরীগলাবাবা ঃ না কিছু ভুল হয়নি গুরুর নিলে সম্মুখে থেকে গুরুকে প্রণাম সেরে প্রাতঃকৃত্য, সন্ধ্যা পূজার ফল পাওয়া যায় প্রণাম দ্বারা তোর সেই ফল সেহেতু গুরু হয়ে গেছে তবে সবসময় আশ্রমে বা গুরুগৃহে থেকে শুধু গুরু প্রণামের নিজের আর ক্রিয়ার দ্বারা ক্রিয়া সম্পূর্ণ করলে অভিজ্ঞতা বাড়ে প্রণাম দ্বারা না / তাই সবসময় প্রাতঃকৃত্য, গুরুকে সন্ধ্যা না সেরে, গুরুর ক্রিয়া করে গুরু প্রণাম অনুমতি নিয়ে করে নিস ।
নে এবার খাওয়া শেষ করে ভূতেদের জানিয়ে আয় রান্নাটা কেমন ছিল । (পাগলাবাবা খাওয়া শেষ করে দালান থেকে নিচে নেমে কুটিরের চারপাশ উপর-নীচ এদিক-ওদিক দেখে কুটিরে প্রবেশ করতে যাবেনপ সুমন ? (কৌতূহলবশতঃ) বাবা কী দেখলেন? গগলাবাবা ঃ না কিছু না, কাটামুণ্ডুটা কোথায় আছে তাই দেখছিলাম । সুমন শাশ্বত একসাথে কোথায় আছে বাবা দেখতে পেলেন?
দাগলাবাবা কুটিরের মাথায়, চালের উপর বসে করবে না আছে তবে তোদের কিছু আর ওখান থেকে গড়িয়ে গেলেও দালানের বাইরেই পড়বে । তোদের শরীর ছুঁতে পারবে না / হ্যা বাবা ওটা তো গড়িয়ে যেতে পারে একটা দড়ি দেব বাবা? ১১৯।
মুদ্রিত পাতা 120
একটু চালেই বেঁধে দিলে হত না? ঘুমের ঘোরে খুব ব্যথী লাগবে । গড়িয়ে : পডলে পাগলাবাবা ৪ ঐ দড়ি দিয়ে তোর চোখ তাহলে আর থেকে পুরো শরীরটাই বেঁধে ভয় লাগবে নী, যা ক্না শযে করেন /) পড (বলেই কুটিবে প্রবেশ শাশত ৪ পাগলাবাবা চলে গেলে হবে বলে তা ভাই, আজ রাতেও বেশ মনে হচ্ছে আজ অসুবিধে ঘুমিয়ে পড়ব কী বল?
আর বেশি রাত জাগব না, তাড়াতাড়ি সুমন ঃ হ্াঁাঁ, তার আগে এক কাজ করব; এক বালতি জল রেখে দিই জল এনে নিচে খাবার হলে নিজেই খেয়ে নেবে ডাকাডাকির দরকার পড়বে না । আব শাশ্বত কী জানি, তুমি যা ভালো বোঝো, কিত্তু নেই । তোমাকেই তার তো আবার হাত পী খাইয়ে দিতে হবে বলে মনে সুমন : হয় । ধুর ধুর আমি এই এক বালতি জল জায়গায় রেখেছি রেখে দিলাম । আর এয়ল জল যে গড়িয়ে এই বালতির ভিতরেই খাবার খেতে থাকবে পড়বে ।
যত নাও এবার শাশ্বত : শুয়ে পড়ি (শাশ্বত সুমন শুয়ে শুয়ে ।) ভাই তোমার দীক্ষার নাও । তারপর ঘুমিয়ে কথাটা শেষ করে পড়ব । সুমন : হ্যাঁ ঠিক আছে । অমলদার কথা মতো প্রায়ই যেতে থাকি । এইভাবে পাগলাবাবার কাছে দু-মাস কেটে যায় সাথে বেশিক্ষণ কথাও সেখানে বলা পাগলাবাবার আসা যাওয়়া যেত না I কারণ করত । অনেক লোকজন শুধু প্রণাম করে তারপর কিছুক্ষণ প্রণাম সেরে আবার উঠে বসে থাকতাম । বেশ ভালই লাগত ।
আসতাম তবু ওখানে যেতে এমনই একদিন ঠিক করলাম বলব আজ সেইমতো পাগলাবাবাকে সন্ধ্যা বেলা দীক্ষার ওনার কথা বাড়ি চলে গেলাম সেখানে ১২০।
মুদ্রিত পাতা 121
জাগতিক তজাগতিক গিয়ে দেখি, অনেক শিষ্য শিষ্যা দলবেঁধে হাজির আমি ঢুকেই পাগলাবাবাকে প্রণাম করতেই পাগলাবাবা বলেন, বোসো, তোমার সাথে কিছু কথী আছে " আমি তো ভয়ই পেয়ে গেলাম । ভাবলাম বলবেন কে জানে; আমি ঘরের একটা কোণ ধরে চূপ করে বসে পড়লাম পাগলাবাবা সবার সাথে একথা সেকথী বলতে বলতে আমার দিকে ফিরে বলে ওঠেন এই গাধা এই দিকে আয় দেখি, তোকে ঘোড়া করা যায় কীনা?
তারপর মানুষ করব কাল রবিবার ঘরের কাজকর্ম বাদ দিয়ে, কিছু না খেয়ে একটা নতুন ধুতি আর চাদর নিয়ে চলে আসবি। আর পকেটে পয়সা থাকলে একটু ফুল-মালা-মিষ্টি, আর কয়েকটা কাঁচা টাকা নিয়ে আসতে পারলেই চলবে কাল তোকে দীক্ষা দেব । আমি বলে উঠলাম আর গুরুবরণের কী কী জিনিস লাগবে তার যদি একটা লিস্ট করে দেন, এখনই তবে আমি সেগুলো কিনে নিই ।
আসলে দীক্ষায় গুরুবরণের কথা আমার আগেই জানা ছিল তাই জিজ্ঞেস করেছিলাম কিন্তু আমাদের পাগলাবাবা উত্তর দিলেন, `কেন রে যুদ্ধে যাবি নাকি' যে ঢাল তরোয়াল কিনতে যাবি? দীক্ষা নেবার আগেই তো সব জেনে গেছিস, ওরে ওকে কেউ বোঝাও বই পড়ে পণ্ডিত হয়ে উঠেছে । আমি তো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যাই । তখন সামনে গুরুমা ছিলেন ।
উনি বলে উঠলেন আরে ও তো বাচ্চা ছেলে তো ঠিকই পড়েছে; তুমি বাবা এদিকে এস বলে আমাকে অন্য ঘরে নিয়ে আসেন আর বলেন দেখো তুমি যা পড়েছ বা জেনেছ তা হয়তো ঠিকই, কিন্তু যে বইতে পড়েছ সেই বইতে আবার এই কথাটাও লেখা আছে; গুরুদেব যে নিয়ম বলে' দেবেন; সেটাই মানতে হবে । তোমাকে উনি যা বলে দিলেন, তাই করো তাহলেও তোমার শুরু বরণের কিছু বাদ যাবে না / আর শুধু মনে মনে একটু ভেবো, গুরুকে আমার কিছু দেবার মতো ক্ষমতা নেই ।
কারণ জগতে যা তুমি দিতে যাবে, তা তাঁর কাছ থেকে নিয়েই দিতে হবে । তাই ১২১।
মুদ্রিত পাতা 122
নিজেকেই তাঁর পায়ে সমর্পণ করে দেবে আগে এটা শেখো; তারপর দেখবে একই হয়ে গেছ । যাও ভাবতে তুমি এখন যাও; আর কিছু চিত্তা করো না / বাড়ি আমি গুরুমাকে প্রণাম করে বাড়ি ফিরে আসি । পরদিন সকাল নিজেকে উপোস সকাল রেখে আবার গুরু বাড়িতে চলে তারপর যা ঘটেছিল, তা তো তোমায় আসি কানে আগেই বলেছিলাম ।
যখন মন্ত্র দিলেন, শুধু বললেন "এগার টাকা দে" আর আমি কিছু বলিনি ভয়ে ইচ্ছে ছিল আরও কিছু দিই কিত্তু এখানে টাকা- দেখলাম পয়সা দিয়ে ভালো হওয়়া যাবে না । তাই আর বেশি কিছু দিই'নি । তাহলে বুঝলে আমার দীক্ষা পড়ো নেওয়া, এখন ঘুমিয়ে এদিকে বেশ ঠাণ্ডা হওয়া বইছে দুজনে গায়ে চাদর জয়গুরু জয়গুরু বলে মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে! বেশ খানিকবাদে কানে ঝপাং করে জলের শাশ্বতর বালতিতে কিছু পাড়ার শাশ্বত শব্দ আস্তে আসে । করে সমুনকে ডাকে ।
`ভাই কিছু শুনলে?" সুমন : হ্যাঁ, শুনেছি, আর বুঝেও গেছি কী পড়েছে । চুপচাপ শুয়ে চোখ খুলনা । থাকো, পাগলাবাবা ৪ ওরে ওঠ আবার শুবি কীরে ভোর হয়ে গেছে । কোনো তোর জলের বালতিতে পড়েনি আমি মুণ্ডু জলে মগ মুখ ধোয়ার জন্য বালতির ডোবালাম । শাশ্বত, সুমন ঃ হ্যাঁ বাবা, বলে উঠে বসে সুমন ঃ চা খাবেন বাবা, করে দেব? পাগলাবাবা তুই করে দিবি? তা একটু আর শাশ্বত নড়ে চড়ে দেখ, পারলে করে দে তুমি আর সুমন দুজনে নদীতে এখানকার স্নান করতে যাও।
কাজ সেরে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়ো ১২২।
মুদ্রিত পাতা 123
শাশ্বত, সুমন নিজেদের কাজ সেরে; গুরুকে প্রণাম করে নদীর দিকে বেরিয়ে পড়ে ভোরের আমেজে; হালকা আলোয় সহজেই নদীর পারে চলে আসে দুজনে । ছোট নদীর শাখা বয়ে চলেছে । চারিদিকে গাছপালায় ভরা, মানুষ যাতায়াতের জন্য কিছু গাছ কেটে ফেললেও; তবুও বেশ ঘন হয়ে আছে জায়গাটী সে সময় নদীর পারে আর কেউ নেই ।
দুজনে নদীর দিকে এগোলে, শাশ্বতর নদীর ওপারে চোখ যায় আরে সুমন দেখো দেখো, সুমন নদীর ওপারে দেখল একটা বাচ্চা ছেলে নুড়ি-পাথর নিয়ে কী যেন করছে শাশ্বত আরে ওপারে গেল করে? ওখানে তো বেশ ঘন জঙ্গল; লোকবসতি আছে বলে তো মনে হয় না । ঐ জঙ্গলে তো হিংস্র জীবজত্তু থাকতে পারে বাচ্চাটা বিপদে পড়বে চলো দেখি ভাই । সুমন : কী চলতো দেখি? ওপারে যাবার রাস্তা আছে নাকী? পার করে তবেই ওপারে যাওয়া যাবে আর আমি সাঁতার জানি না । তাই আমি যেতেও পারব না ।
শ্রাশ্বত : তুমি সাঁতার জানো না? খুব বেশি বড় নদী তো নয়? তাহলে আমি একা গিয়েই দেখি কী হয়েছে? বেশি দেরি করলে বিপদ হতে পারে কী বল? সুমন ঃ তুমি পারবে যেতে? শাশ্বত ঃ এই দেখো কেমন চলে যাই (এই বলেই নদীতে ঝাঁপ দেয়) আর কিছুক্ষণের মধ্যেই সাঁতরে ওপারে গিয়ে উঠে পড়ে । শাশ্বতকে দেখেই ছেলেটা উঠে দাঁড়িয়ে পড়ে আর হাত-পা ঝাড়তে থাকে । এই তুমি এখানে কী করে এলে? দেখছ না এখানে কীরকম জঙ্গল?
এখানে বাঘ-ভাল্লুক থাকে; তোমায় ধরে নিয়ে যাবে। হাত ঝাড়তে ঝাড়তে দশ এগারো বছরের ছেলেটা বলে না।
মুদ্রিত পাতা 124
জাগতিক ৩জ গতিক আমায় কিছু করব না, ওরl তমাকে ঢেনে; তুমি এখানে ৮(: থেকো না তোমায় ওরl খেয়ে ফেলবে 7।৬, 9; ছোট থেকেই আসি ৩মি তো এগাচ এখ।[ কিও তব ৩[েক খুব ভয়ঙ্কর ওরা । দিনেও ভগ ৩]0। এখানেই থাকে । তুমি তাড়াতাড়ি শাশ্বত ঃ পণেঙ তাই, তুমি দেখেছ বোধ হয় । তুমি এগ জঙ্গের থাক? এখানেই তোমাদের ভেঙ৩ বাড়ি ছেলেটি এখানে থাকার জায়গা নেই এখাে মাণুশ থাকে মতো গম্ভীর হয়ে না। (বেশ বলে ।) পডদেগ শাশ্বত তবে তুমি এখানে করছ? তুমিও তে মানুব ।
একা একা ভয়ঙ্কর ভূত-প্রেতের জঙ্গলে? এ ছেলেটি ঃ না আমি একা আসিনা, একা এখানে আসা আমার বারণ মায়ের সাথে মাঝরাতে আচেো আসি / অন্ধকারে যখন তখন আমরা কেউ জেগে দুজনে থাকেন সাঁতার কেটে এখানে চলে আসি যখন ছোট ছিলাম তখন আরও মায়ের পিঠে তো নিজেই চড়েই চলে আসতাম । এখন সাঁতার কাটতে পারি । শাশ্বত সে কী মাঝরাতে তোমার মা তুমি এখানে এসে কী তোমাদের ভয় লাগেনা? কর?
ছেলেটি ঃ না লাগে না, আমাদের সব জীব জত্তু, তারা পাশে ভূত প্রেতেরা চিনে থাকলেও নিয়েছে । কিছু করে না । শাশ্বত : সব যাতা বলছ ? তবে তোমার মা পাচ্ছ না । কোথায়? তাকে তো দেখতে ছেলেটি ঃ ছেলেটি বা দিকে বলে ঘুরে;, জঙ্গলের দিকে আঙুল তুলে দেখায় আর জঙ্গলের ভিতরে আছে । শাশ্বত ফিরে দেখতেই একজন মাথায় ত্রিশ-বত্রিশ বছর জটা, গায়ের বয়সের মহিলা রং ফর্সা, দোহারা চেহারার ভদ্রমহিলা = একবস্ত্রে ১২৪।
মুদ্রিত পাতা 125
জাগতিক অজ্াগতিক বেরিয়ে এলেন আর বললেন 'এই যে অর্ক এদিকে এসো, দেরি হয় গঢঢে। ফিরতে হাব ।" শাগত (মহিলাটির দিকে ফিরে) 9র্ড তপনার ঢেলে? মহিলা মহিলাটি (হেসে) কেণ? আমার কথী এতক্ষণে কিছু বলেনি আরও বেশি কিছু জানতে গেলে আরও ভোররাতে এখানে আসতে ঠবে তবে এখন আসি পরে আবার দেখী হবে বলেই ঢেলের হাত ধরে নদীর দিকে একটু এগিয়ে যীয় শাগত : আপনি কে? মহিলা এবার মহিলা (একটু জোরে জোরে হেসে) কেন আমার কথা কিছু বলে দেননি? তবে থাক পরেই জানবেন ।
এখন শুধু দেখা হল; পরে আবার আলাপ হবে আজ আসি শাশ্বত বাবু আপনিও তাড়াতাড়ি যান নাহলে আপনার রোগীরা সব বসে থাকবে । বলেই ছেলের আরেক হাত ধরে জলে ঝাঁপিয়ে পড়ল । শাশ্বত : কী ব্যাপার হল? আমাকে তো উনি চেনন ? এনারা কারা? কোথায় গেলো? ফিরে জলের দিকে চেয়ে ঐ তো এখনও দেখা যাচ্ছে; ঐ তো জলেই আছে । তাড়াতাড়ি যাই । বলেই জলে ঝাঁপ দেয় তাড়াতাড়ি করে সাঁতরে পারে উঠে এদিক ওদিক দেখে । সুমন : আরে ভাই এত দেরি করলে? কী এত কথা বলছিলে?
শাশ্বত : কোথায় গেল বলো তো? সুমন : কারা? ছেলেটি আর ওর সাথে কে যেন একজন ছিল? শাশ্বত ঃ হ্যা হ্যাঁ ছেলেটির মা; কোথায় গেল বলতো? সুমন : না, ওদের দিকে আমি তেমন দেখিনি তবে সাঁতার কাটতে দেখেছিলাম । তারপর কোন দিকে উঠল দেখিনি, আমি তো তোমার দিকেই তাকিয়ে ছিলাম শাশ্বত কী ভয়ঙ্কর ! অর্ক আর অর্কের মা / আচ্ছা সুমন তুমি ওদের একবারও ভালো করে দেখেছিলে তো? ১২৫।
মুদ্রিত পাতা 126
জীগতিক তজগতিক সুমন ঃ হ্যা, কেন? ভালো করে দেখতে না পেলেও দুজনকেষ দেখেছ । হয়েছে তোমার এত বিচলিত U৩ পো শাশ্বত ঃ ও, ওরা তবে মানুষই ছিল বলে নদীর পারে বসে গড়। সুমন ঃ চলো কুটিরে চলো পরে কথা বলব, তুমি একটু বিশ্রাম নাও । ক শাশ্বত ঃ হ্যা চলো, বলে (উঠে পড়ে) । কুটিরের দিকে হাঁটা দেয় কুটরে ফিরে এলে তারা দেখে পাগলা বাবা আর একজন বাউল সম্যাসী দালানে বসে কথা বলছে।
সুমন শাশ্বত পাগলা বাবাকে থরণা করে পাগলাবাবা তোমরা এনাকেও প্রণাম করো, ইনি একজন তত্ত্বজ্ঞনী শুরু। (শাশ্বত-সুমন সন্ন্যাসীকে প্রণাম করেন ।) বাবাজি (মাথায় হাত রেখে) সুখ চেনো, সুখ চেনো বলে আশীর্বাদ করেন । শাশ্বত বাবাজী সুখে থাকো, সুখে থাকো, একথা তো বহু শুনেছি, সুখ চেনার কথা তো কখনও শুনিনি । তাই যদি একটু বুঝিয়ে বলেন ।
বাবাজী (একটু হেসে) আসলে সুখে থাকতে চায় মানুষ, আর বাবা যারা অতি মানব হতে চায়, তারা আবার সুখ কী সেটাই চিনতে চায় তোমরা তো বাবা সুখে থাকতে এখানে আসনি? সুখ কী চিনতেই পথে এসেছ । তাই যে যা চায় সাধু তাকে সেই আশীর্বাদই করে থাকেন তাই না বাবা? পাগলাবাবা : তোমরা আগে তোমাদের ভিজে কাপড় ছেড়ে নাও; পরে আবার কথা হবে ।
(হ্যাঁ বাবা, বলে দুজনেই কাপড় বদলাতে চলে যায় কাপড় বদলে ফিরে এলে শাশ্বত তুমি তোমার কাজ সেরে ডাক্তারি করতে চলে যাও; সুমন তোর তো আজ রান্না থেকে ছুটি । রান্নাঘরে গিয়ে দেখ কে রান্না করছে । সুধাদিও এসেছেন । বাবাজীর সহধর্মিনী ১২৬।
মুদ্রিত পাতা 127
আজ তো দারুণ মজী মাছ, মাংস সব একসাথে রান্না হচ্ছে । তুই বরং একটু যোগব্যায়াম করে নিজেকে তৈরি রাখ সুমন তাই, একবার দেখে নিই বলেই রান্না ঘরের দিকে চলে যায় । সুধামা কাঠের পিড়িতে বসে মন দিয়ে রান্না করছেন সুমন মুখে কোনো শব্দ না করেই পিছন থেকে হাত বাড়িয়েই সুধামাকে প্রণাম করতে যায় সুধামা এই কে রে? কেরে বলে চেঁচিয়ে ওঠে । সুমন না মা; আমি সুমন, বাবার শিষ্য ।
মাথা মস্ত জটা, গলায় অনেক গুলো মালা, কপালে চন্দনের বড় বড় তিলক আঁকা, পরনে লাল পার সাদা শাড়ি, পঞ্চাশ ছোঁওয়া বয়স । সুধামা : ঘুরে তাকিয়ে সুধামা; ও, তাই বল, আমি তো ভাবলাম ইঁদুর নাকী, তা একবার ডাকতে নেই বাবা; বোকা ছেলে, প্রণাম করে নে, বলে উঠে দাঁড়ান । সুমন প্রণাম সেরে নেয়, শাশ্বতও সুমনের পিছনে চলে আসে আর সুধামাকে প্রণাম করে সুধামা তোমরা বাবা একটু বসো আমি হাতের কাজটা সেরে নিই ।
শাশ্বত ৪ হ্যা হ্যাঁ, আমরা প্রণাম করতেই এসেছিলাম; আপনি আপনার কাজ করুন, আমরা বাইরে আছি (এই বলে বাইরে বেরিয়ে আসে ।) পাগলাবাবা ঃ হল তোমাদের? দেখলি সুমন তোর সব ব্যবস্থা? আয় আয় এদিকে আয়, দুজনে একটু দালানে বোস । বাবাজী : বাবারা তোমাদের এখানে ভালো লাগে তো? তোমাদের গুরুদেবকে আমি অনেকদিন চিনি। একটু হেঁয়ালি করে কথা বলেন কিন্তু তোমরা একটু খেয়াল করে শুনো কোনো কথা ১২৭।
মুদ্রিত পাতা 128
হালকা ভাবে ধরো না দেখবে যা খেলার ছলে আবার ঘটেও যায় বলে যান ৩ শাশ্বত তা আমি বেশ ভালোই টের পেয়েছি । পাগলাবাবা ৪ যাক্ তুমিও টের পেয়়েছো? দেখো বাবা টের পেতে অনেকে আবার ঢের হয়ে যায় গেতে আসলে অনেকেট টের পায়, অনেক তারপরই অনেক জ্ঞানী হয়ে ঢেরও হয়ে কিছ একটু সাবধানে টের যায় । তাহ পাওয়া ভালো বাবাজী গুরুকে সবসময় স্মরণে রেখো, তাহলেই সব কিছু ঠিকঠাক চলবে। গুরুর অনুমতি ছাডা কোনো সাধন করতে যেওনা যেন, তা মনে যতই টের পাও ।
বড় প্রলোভনের তোমার পথ । মনে হবে আমি একাজ পেরেই যাব, আর পেরে গেলেই তে এবার ফল ক্রিয়ার তো পাবেই কিত্তু মনে রেখো ফল বাবা ফল জীবন দু প্রকার হয়, এক যন দান করে, আরেক ফল জীবন শেষ করে পেতে গেলে গুরুর দেয় । তাই ফল হাত থেকেই ফল নিতে হয় । তার বিষফলও হাতে অমৃত ফলদানকারী হয়ে ওঠে । তাই গুরুর আশীবাদ স্বরূপ কাজ করে । ভর্ৎসনাও পাগলাবাবা আচ্ছা শাশ্বত তুমি এখন যাও, শাশ্বত : তা না হলে দেরি হয়ে যাবে ।
হ্যাঁ বাবা আমি তাহলে এখন আসি বলে বেরিয়ে ডাক্তারখানার উদ্দেশে । সেখানে পৌঁছেই গুপ্তাজী পড়ে "আসুন দাঁড়িয়ে আছেন । ডাক্তার বাবু, সকাল নিতে থেকেই অনেকে এসেছিলেন, আপনার খোঁজ তাদের মধ্যে আমি দুজনকে বসিয়ে শাশ্বত ঃ আচ্ছা রেখেছি " গুপ্তাজী অনেক ধন্যবাদ ।
আপনার আগে রুগিদের সাথে কথা বলব দেখে তারপর (শাশ্বত রুগি দেখার পর) চেয়ারে হেলান দিয়ে রুগীরা একে একে বেরিয়ে গেলে ভাবতে থাকে অর্ক যেমন নাম অর্ক আর তার মায়ের কথা তার যেন তেমনই তেজ এতটুকু ছেলে কেমন ১২৮।
মুদ্রিত পাতা 129
জ।গতিক ৩ত্াগতিক প৬[বিণ ৬lবে ভয়ঙ্গর জগ্গলে একা একাই নির্ভয়ে কাটাতে থবে । তার় ৩য ম; একজন গইল হয়ে ঐটুকু শিশুকে নিয়ে ;1।/৩;1 (6।।?। জগলে কি করে? এরা মানুষ তো, নাকি অন্য কিতু । ৩বে দুজনের যা রূপ কিছুতেই চোখের সামনে থেকে স17ে ন। । আামাকে জানতেছ হবে কে তারা? আমাকে চিনলই বা শেমন ৭ 7;? ওদদে: দুজনের কথাগুলো যেন এখনও কানে বাজছে । শ ৩ম]ে বলে (4H fি ৩ীর কথা তবে কি পাগলাবাবার বথাই বলতে চাইছিলেন?
"গ6।ব71 তাহলে সব জেনেই আমাকে নদীতে স্নান করতে পাঠিয়েছিলেন? ওহঃ মাথী আরা কাজ করছে না, কখন যে একটু পাগলাবাবাকে একা পাব? নাকি কাল আবার ভোর রাতে অর্ক আর অর্কের মায়ের সাথে দেখা করতে যাব? গুপ্তাজী ডাক্তার বাবু আসব? শবত ? হ্যাঁ, আসুন না । গপ্তাজী : ভালো আছেন তো ডাক্তার বাবু? শাশত : হ্যা, আমাদের আর ভাল না থাকার কারণই বা কি আছে? ভালই আছি । গুপ্তাজী ঃ না আজ কেমন আপনাকে দেখে খুব চিন্তায় আছেন বলে মনে হচ্ছে ।
তাই জানতে চাইলাম আসলে আপনাকে আমার খুব ভালো লেগেছে। আপনার কোন অসুবিধা হলে আমাকে নিজের একটু মনে করে জানাবেন / আমি যদি আপনার কোন উপকারে লাগতে পারি তাহলে আমারই সত্যিই খুব ভাল লাগবে । গাপত ? ধন্যবাদ গুণ্তাজী । তেমন কিছু আমার হয় নি । হলে অবশ্যই জানাব । কিম্তুর আপনি ঠিকই ধরেছেন আমি আজ সত্যিই চিত্তায় আছি । কারণ আমি যা জানতে চাইছি তা এখনও ন। জেনে উঠতে পারছি আর যা জানতে চাই তা আমার গুরু ছাড়া আর কেউ জানাতে ১২৯।
মুদ্রিত পাতা 130
পারবে না আসলে আমরা সাধারণ মানুষ হয়তো একটু বিচলিত হয়ে পড়ি আর মনকে সান্তনা দিতে গিয়ে একার কি চিতেই চিত্তিত হয়ে পড়ি তাই তার প্রকাশ মুখে চোখে ফুটে ওঠে । গুপ্তাজী ঃ ডাক্তার বাবু আপনার কথা শুনলে মনে হয় আপনিও যেন কোন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষ ।
আমাদের মতো সাধারণ নন মানুষ কাল আপনি আমাকে যা বলে গেলেন তাতে এইটুকু বুঝলাম আমরা ধর্মের নামে নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির কথাই ভাবি / আর কি পেয়েছি না_ দেখে কি পাব তার দিকেই ছুটে বেড়াই । আপনার কথাগুলো আমার চোখ খুলে দিয়েছে । আমি যাকে গুরু মেনে ছিলাম হয়তো তারই, আমার এই ভাবনার পথ খুলে দেবার কথা ছিল, কিন্তু তিনি তা করেন আপনার সাথে কথা বলে এখন বুঝলাম সেও আমারই মত সাধারণ একটি লোভী মানুষ তাই নিজের পথে আমাকেও চলতে শিখিয়েছে ।
শাশ্বত ঃ (এবার জয়গুরু জয়গুরু বলে ওঠে ।) আর বলে আমি আসলে খুব ভাগ্যবান যে এমন গুরুর সঙ্গে সঙ্গ করি কাল আপনার উপর আমার খুব রাগ হয়েছিল আর আমি মনে মনে আপনাকে খুব খারাপ লোক বলেই বিচার করে ছিলাম আসলে আপনি আপনার ধর্মে ঠিকই ছিলেন আমি আমার ধর্মে আপনাকে এনে বিচার করে ফেল সেটা আমার ভুল ছিল, আমার সেই ভুল ঐ সাধারণ দেখতে অসাধারণ লোকটাই ভাঙিয়ে ছিলেন, যার সত্যতা আজ আপনি বহন করে নিয়ে এলেন, তাই এমন অসাধারণ থাকতে পেড়ে গুরুর পায়ে পড়ে নিজেকেও অসাধারণ ভাবতে বা শুনতে আর লাগে না ভয় আমি খুব খুশি হলাম আপনার সাথে আপনার কথা বলে আর আমার প্রতি খারাপ ভাবনার জন্য আমাকে ক্ষমা তাহলে আসি গুপ্তাজী ।
করবেন আজ আবার কাল দেখা হবে ১৩০।
মুদ্রিত পাতা 131
শাশ্বত বেরিয়ে পড়ে কুটিরের পথে। কুটিরে ফিরে এলে । পীগলাবাবা ঃ শাশ্বত তুমি তাার সুমন তাজ একটু দেরি করেই খেতে বসো আমরা আজ তিনজনেই ঘরে খাওয়া দাওয়া করব । আমাদের খাওয়া শেষ হলে তারপর তোমাদের ডেকে নেব । শাশ্বত ঃ হ্যা বাবা; কোন অসুবিধা নেই । আপনাদের ঘরেই আসন পেতে দেব?
সুধামা ঃ না; না, আমি তো আছি, তোমাদের কিছু করতে হবে না / আমি সব করে নেব তোমরা একদম চিত্তা করো না বলে (তিনজনই কুটিরে প্রবেশ করে ভেতর থেকে কুটিরের দরজা বন্ধ করে দেন ।) শাশ্বত ঃ সুমন দালানেই বসে থাকে । খানিক বাদেই ঘরের ভেতর থেকে কেমন মন্ত্র পাঠ করার আওয়াজ কানে আসতে থাকে । শাশ্বত ৪ ভাই, ওনারা ভেতরে পুজো করছেন না কি? সুমন ঃ হ্যাঁ, পুজোই করছেন তাই তো দরজা বন্ধ করে দিলেন ।
শাশ্বত ৪ কেমন পুজো, খাবার নিয়ে গেলেন আর দরজা বন্ধ করে দিয়ে পুজো হচ্ছে । সুমন ঃ এই পুজাকে চক্র অনুষ্ঠান বলে যা সাধারণের সামনে হয় না ! সাধারণ দীক্ষিতদের প্রবেশ নিষেধ, তাই দরজা বন্ধ করে এই পুজো করতে হয় । শাশ্বত ও, ওনারা তাহলে পূজা শেষ করে খাওয়া দাওয়া করবেন । সুমন ৪ হ্যাঁ, তাই হবে । পূজা শেষ করে খাওয়া দাওয়া করে তারপরই দরজা খুলবেন । এমন আমি আগেও দেখেছি । শশ্বত ঃ কেমন করে এই পূজা হয়, তুমি তা জান?
সুমন ঃ না, কিছু জানতে চাইলেও বলেন না রমাদিকে একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম উনি বলেছিলেন একদিন তো সবই জানবে এত ১৩১।
মুদ্রিত পাতা 132
উতলা হচ্ছো কেন? তোমাকেও এই চক্রে বসতে হবে আর চক্রের স্বামী হয়ে চক্র এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে । শুধু এইটুকুই বলেছিলেন তাতে আমি তেমন কিছু বুঝিনি । শাশ্বত : তার মানে দীক্ষা অনুযায়ী অধিকার হবে; আর সেই অধিকার অনুযায়ী সাধন করতে হবে তাই কেউ ঘরে, কেউ বাইরে, কেউ পাহাড়ে, কেউ বা জঙ্গলে সাধন করে থাকেন তার মানে অর্কর মাও এনাদের মত দীক্ষিত; তাই হয়ত অন্ধকারে সাধারণ লোকের চোখের আড়ালে রাতের বেলায় ঐ জঙ্গলে সাধন করেন ।
আর আমার সাথে কথা বলেই তার ঐশ্বরিক ক্ষমতা দিয়ে আমার সম্বন্ধে সব জানতে পেরে যান । এবার বুঝতে পেরেছি । সুমন ঃ হয়েছিল বলত ওখানে? তুমি কেমন যেন হয়ে গিয়েছিলে । ওরা কারা ছিল? শাশ্বত তা বলতে পারব না । তবে এইটুকু বুঝেছি ঐ গভীর জঙ্গলে অর্কর মা সাধন করতে আসেন রাতের বেলা আর অর্ক অনেক ছোট থেকেই এসব দেখে আসছে তাই ওর আর একা ভয় লাগে না । সে ভূতপ্রেত জন্তু জানোয়ারকে নিজের বন্ধুই ভাবে । এখন জানতে হবে ঐ জঙ্গলের ভেতরে এমন আছে?
কেন অর্কর মা ঐ গভীর জঙ্গলেই সাধন করতে যান? সেখানে কি আরও কেউ আছেন? এমন অনেক প্রশ্ন আমার বেড়াচ্ছে । আর আমাদের মাথায় ঘুরে পাগলাবাবা কি ওনাকে দেখাতেই আমাকে নদীতে স্নান করতে পাঠিয়েছিলেন? সুমন : হ্যাঁ, তুমি ঠিকই ধরেছ । পাগলাবাবাও ওনাকে আমাদের নিশ্চয়ই চেনেন হয়তো আলাপ করতে পাঠিয়েছিলেন । যাক এখন ছাড়ো । এদিকে সময়ও এসব চিত্তা হয়ে গেল তো অনেক হল ।
দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যে ক্ষিদেতে পেটে চড়া পড়ে গেছে খাবো বলত আর আমরা কথন শাশ্বত ঃ ঠিকই তো অনেকক্ষণই হল । ভেতর থেকে তো আর কোন শব্দও ১৩২।
মুদ্রিত পাতা 133
কানে আসছে না/ ওনারা পূজায় বসে আমাদের কপা ভুলেই গেলেন? সূমন আমারও তাই মনে হয় / আবার পুজোয় ঢোকার আগে আদেশ করে গেলেন কিছু না খেতে; এই দিকে সকালে বলেছিলেন মাছ মাংস সবই হয়েছে একটু ব্যায়াম করে নে / ভাগ্যিস ব্যায়াম ট্যায়াম করিনি । পাগলাবাবার কথা শুনে যৌগ ব্যায়াম করে নিলে এখন হয়তো শবাসনে শুয়ে ক্ষিদের জ্বালায় শবই হয়ে যেতাম] গাবত হারিকেনটা জ্বালিয়ে নাও ভাই অন্ধকার তো ভালই হয়ে এলI ওনারা যে কখন দরজা খুলবেন তা বোঝা মুশকিল ।
সুমন ৪ হ্যাঁ; ভাই চল (বলে হ্যারিকেনটা জ্বালিয়ে নেয় ।) এমন সময় সুধামা দরজা খুলে বেরিয়ে আসেন তার হাতে এক্টা বাটি দুহাতে চাপা দিয়ে ধরে রেখেছেন শাশ্বত ৪ (সুধামাকে প্রশ্ন করে) আপনাদের পুজো হয়ে গেছে?
সুধাীমা মুখে কোন উত্তর না করেই দালান থেকে নেমে সোজা কুটির থেকে বেরিয়ে নদীর পারের দিকে চলতে থাকেন শরাস্বত; সুমন কি করবে বুঝে উঠতে না পেরে সুধামা কে বেরিয়ে পড়ে অনুসরণ করে সুমন হ্যারিকেন হাতে চলতে থাকে] সুধামা খুব দ্রুত গতিতে জংলী রাস্তা পেরিয়ে মানিয়ে এগিয়ে অহ্ধকারকে হার চলে নদীর পারের দিকে শাশ্বত সুমনও মুখে কোনও কথা না বলে এগিয়ে চলে । সুধামা হঠাৎই নদীর পারে জঙ্গলের ভেতর প্রবেশ করেন ।
শাশ্বত ও সুমন থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে না পেলেও অন্ধকারে সুধামাকে দেখতে জঙ্গলের ভেতর থেকে তার কণ্ঠস্বর কানে থাকে । সে যেন অন্য কারোর আসতে বিকট কণ্ঠস্বরে সাথে কিছু কথা বলছেন আয়, হঠাৎই আয় বলে চিংকার ভেতর থেকে করে ওঠেন । জঙ্গলের কয়েকটা জীবজত্তুর ছোটাছুটি করার শরব্দ কানে ১৩৩।
মুদ্রিত পাতা 134
আসতে থাকে শাশ্বত কি হল একটু দেখর চেষ্টা করতে গেলে সুমন থামিয়ে দেয় সুধামার ভয়স্কর চিৎকার শুনে সুমন, শাশ্বত ভয় পেয়ে যায় সুমন : (শাশ্বতকে বলে) চল আমরা ফিরে যাই, এখানে এখন থাকাটা মনে হ্য় ভাল হবে না/ আর উনিও ঠিক চাইছেন না আমরা এখানে থাকি । শাশ্বত হ্যাঁ, তবে চলো ফিরে যাই । কিত্তু এই অন্ধকারে সুধামার কোন অসুবিধা হবে না তো কথা শেষ হতেই পাশের লম্বা গাছ থেকে হঠাৎ একটা ডাল ভেঙে সুমনের গায়ে পড়ে ।
সুমন আর কিছু না দেখেই শাশ্বতর একটি হাত ধরে দৌড়ে কুটিরের দিকে ফিরতে থাকে শাশ্বতও খুব ভয় পেয়ে যায় ছুটে কুটিরে ফিরে এলে পাগলাবাবা দালানে দাঁড়িয়ে-তোমরা কোথায় গিয়েছিলে? সুমন সুধামাকে একটু পথ দেখাতে অন্ধকারে উনি নদীর পারের দিকে গেলেন তাই ভাবলাম হ্যারিকেনটা একটু নিয়ে যাই । পাগলাবাবা ঃ তোকে কে পথ দেখয় তার ঠিক নেই । তুই গেছিস ওনাকে পথ দেখাতে?
তা আর একটু দাঁড়ালেই তো পারতিস, তাঁর সঙ্গেই ফিরে আসতিস, দেখতিস কেমন তোকে সবাই কাঁধে করে নিয়ে আসত । যাক যখন তখন না বলে আর কাউকে এপথে পথ দেখাতে যাস না / ভাগ্যিস পালিয়ে এসেছিস তা না হলে তোদের এমন কিছু দেখেত যে নিজেরাই আর পথ দেখতে পেতিস না আমাকেই যেতে হত তোদের পথ দেখিয়ে ফিরিয়ে আনতে। শাশ্বত ? না বাবা ভুল হয়ে গেছে ।
এমন হবে ঠিক বুঝি পাগলাবাবা ঃ ঠিক আছে নাও, এখন তোমরা প্রসাদ খেয়ে নাও আর এখনি য়া খাবার খেয়ে নিও রাতে কিন্তু আজ আবার আলাদা করে খাওয়া চলবে না বুঝলে ১৩৪।
মুদ্রিত পাতা 135
সুমন, শাশ্বত ঃ হ্যাঁ বাবা, বলে কুটিরে প্রবেশ করে ভোগের থালায় খিচুরি মাছ; মাংস, বেশ কয়েক রকমের ভাজা; পরমান্ন সবই রাখা আছে । সুমন শাশ্বত নিজেদের মত করে থালায় বেড়ে নেয় এইদিকে সুধামা কুটিরে ফিরে আসেন, আর বলেন কই তারা? কোথায় গেল? ওরা কি ফিরে এসেছে? বাবাজি হ্যা ফিরেছে; ভেতরে প্রসাদ গ্রহণ করছে বেচারারা খুব ঘাবরে গিয়েছিল ।
ওদের যা বলার সব বুঝিয়ে বলা হয়েছে তুমি আর কিছু বলো না এখন তাড়াতাড়ি সব গুছিয়ে নাও আমাদের আবার ফিরতে হবে সুধামা : হ্যা যাই, কাজগুলো এগিয়ে সুমন শাশ্বত ভোগ গ্রহণ করে বেরিয়ে আসে । সুধামা : বাবাজিরা ভোগ গ্রহণ করে ভাল লেগেছে তো? সুমন : অপূর্ব খুব ভালো, এমন রান্না অনেক দিন খাইনি পাগলাবাবা ঃ আসলে অনেকক্ষন খালি পেটে ছিলিস আর তো তাই তোর জিভ স্বাদ বুঝতে পারে নি । কারণ ভোগের রান্না তো ছাড়াই করা হয়েছিল বুঝিসনি নুন ঝাল তো ।
শাশ্বত কিন্তু বাবা ভোগের রান্না নুন ঝাল ছাড়া কেন করা হয়? পাগলাবাবা রান্নায় নুন ঝাল দিলেই তো বিচার রান্নার গুণ বিচার হয়, আর হলেই ভাল খারাপের মান পায় তাই ঝাল না দিয়ে ভোগের ভোগের রান্নায় নুন বিচার আর হয় না / যার উদ্দেশ্যে মানুষের হাতে ছেড়়ে দেওয়া গুনি ওই ভোগ রান্না করা হয় সে আবার যে তার ছোঁয়া দিলেই যা নেই এমনই কি কম আর কি বেশি তা ভোগে মিশে যায় । তাই তোর ক্ষিদেটা ভোগ গ্রহণে বোঝা যায় না ।
আজ নিশ্চই ভোগ তবে সুমন দিকেও তুই কিছু বুঝিস নি । গ্রহণই করেছিল / তাই শেষের কি বল? ১৩৫।
মুদ্রিত পাতা 136
সুমন ঃ না সত্যিই কিছু বুঝি নি। শুধু ভোগ গ্রহণ করে মন প্রাণ যে শাস্তিতে জুড়িয়ে গেল । পাগলাবাবা মন প্রাণ যাতে জুড়িয়ে যায় তাইতো এতক্ষণ না খাইয়ে তােদের রেখে দিয়েছিলাম । তা না হলে মন চাইত খাই খাই । আর পেট চাইত একটু শুই । তাই দুই ভাব এক না হলে ভোগ গ্রহণের ফলও পাওয়া যেত না । বাবাজি কথাটা শেষ হতেই গান ধরলেন মনে তে মন মিশলে পরে, নুন ঝাল সব মিশবে জলে । শরীরে মন মিশলে তখন মিলন চাইবে প্রাণ সকল ।
মিলনে নদী ভাঙবে বাঁধ, সৃষ্টি তখন আর এক তার চলবে নদী আপন বেগে মিশবে আবার সাগর জলে । জীবন কই ভাঙছে বাঁধ, মাটি তুমি বাড়াও হাত। খুঁজব না আর সোেনার ঘর মিশলে মাটি সবই তোের । গঙ্গা যমুনা সরস্বতী মিছে কেন খোঁজে যে মন, তিন নাড়িতেই খেলা করে আপন ভবেতে হংস চড়ে ছয় রিপু তে চক্র গড়ে, বছর কেমন বাড়ছে ভবে দেনা এবার উল্টো করে, হংসে চড়ি সোহং বলে ১৩৬।
মুদ্রিত পাতা 137
পাগলাবাবা বুঝলে শাশ্বত, যা আছে এই ব্রহ্মাণ্ডে তাই থাকে এই চিৎপিণ্ডে । বাবাজি কেমন কথার জালে শরীর তত্ত্টা বলে গেলেন । শাশ্বত কি অপূর্ব, মুখে আর আমার কোন ভাষা নেই । সুধামা হ্যা, ঠিকই বলেছ উপলব্ধির কোন ভাষা থাকে না! শুধু মধুর স্বাদে নিজেকে মধুময় করে তোলে / তাই তো বলি সব ছেডে শুধু সাধন করো আর মৌমাছি হয়ে মধু পান করতে থাকো । গুরুই দেবেন ফুলের হদিশ তার চরণেই মধুর ঘড়া । আমরা এবার আসি পাগলাবাবা ঃ হ্যা আজ আর দেরি করাবো না ।
এই দুটিকে আশীর্বাদ করো যাতে ওদের কার্য সিদ্ধ হয় । শাশ্বত সুমন গুরুকে প্রণাম করে বাবাজি ও সুধামাকে প্রণাম করে ওনাদের পথ ছেড়ে দেয় বাবাজি সুধামা আবার দেখা হবে বলে এগিয়ে যান । পাগলবাবা সুমন শাশ্বত তোমরা তাহলে এখন আমার বিছানা নিজেরা শুয়ে করে দিয়ে পড়। শাশ্বত : পাগলাবাবার বিছানা গুছিয়ে দেয় । সুমন দালানে নিজেদের বিছানা পেতে নেয়় । পাগলাবাবা কুটিরে প্রবেশ করলে শাশ্বত : আজ টর্চটা মাথার কাছে নিয়েই শুই ।
সুমন : হ্যাঁ তাই ভাল । আর কিছু বুঝলে এনাদের কথা শাশ্বত হ্যাঁ, শুধু এইটুকু বুঝলাম এখানে না এলে এ জীবনটাই যেত । ভগবান আমায় এবার বৃথা হয়ে সুযোগ দিয়েছেন ছোঁবার । তাদের উপলব্ধি এমন দয়ালুদের পা এক কণা বুঝেই কেমন কোথাও হারিয়ে যাচ্ছি । এ যে কি নিজে যেন অন্য নিতে পারছি । এখন পথ তার স্বাদ একটু একটু করে বুঝি কেন এমন লোকগুলো সব ছেডে এভাবে ১৩৭।
মুদ্রিত পাতা 138
জগতিক অজাগতিক জীবন যাপন করেন । আসলে এনারা এত কিছু পেয়ে থীকেন কি বাদ গেল সেটা নিয়ে ভাবার আর তাদের ( কাছে অবকাশ থাকে না / আমরা আসলে যা নিয়ে থাকি তাকে গোছাতেছ আমাদের সময় চলে যায় সুমন : তব ভাই এনাদের মত এত কিছু জানতে গেলে এ জীবনটাই তৈ মনে হয় কম হয়ে যাবে আমার তো এনাদের দেখেই ভয় লাগে। কি ভাবে সম্ভব? আমরা কোন দিন পারব এমন পাগলাবাবা হতে?
শাশ্বত জানি না, তবে এইটুকু বুঝে গেছি সোনার খনি তুলে হয়ত ঘরে রাখতে পারব না; তাই বলে সোেনার খনি ছেড়েও পালিয়ে যাব না / তবুও জানব সোনার খনি নাইবা হলাম ধুলি কণা তো গায়ে মাখলাম নাও ভাই এবার ঘুমিয়ে পড় কাল আবার ভোরে উঠতে হবে সুমন ঃ হ্যা তাই ভাল এসব কথার কোন শেষ নেই (বলে চাদরটা টেনে নেয় /) আর দুজনেই পাশ ফিরে ঘুমিয়ে পড়ে ভোরের পাখির ডাক আর পাগলাবাবার প্রাতঃকৃত্যের মন্ত্র কানে আসতে থাকে । শাশ্বত উঠে বসে আর সুমনকে ডেকে তোলে ।
সুমন : ওহ, আজ ঘুমটা বেশ ভালই হল । শাশ্বত ঃ আমারও এক ঘুমেই সকাল । সুমন : না, চা টা করেই নিI রোজ ঘুম ভাঙতে দেরি হয়ে যায় পাগলাবাবা প্রাতঃকৃত্য সেরে বাইরে এসে প্রাণায়াম করে নেয় । সুমন চায়ের কাপ পাগলাবাবাকে এগিয়ে দেয় পাগলাবাবা চা হয়ে গেল, তা তোরা এত সকাল সকাল উঠলি যে । রাতে ঘুম হয়ণি নাকি? ১৩৮।
মুদ্রিত পাতা 139
ঊ] " ৩৮0৬^।0 ৩।14। ৩1 '।(,4। 9।;।;।5। 4।5। সুমন ন। বাব; খব ৩ন 'I ৩০l(৬ যাতে মেI। ^।৫;।(+। ৩।।()[ ।[/ সে কিরে; কাল #l৩' ৩েl ]ু৬; ৬০ খ1 4।শ।।4।।"। পীগলাবাবা করল, তৌদের জলে; ৩টি ঊষ্ট দে । শ ৩;প T0 (;1।9।।;। ফেলে দিল ৩Iর তো:I ঢেঙ (ণি ;I (েখ(৩। *।।43 '। আর ট৮টা (ক+HIHI (cle? পোরিবেনয সগ়ে "ঙ হ্যারিকেন হাতে সুমন শাশত সরতি্যহ তে দালাবে 4ঠি## বদুু মাথার কাছেই তো রাখা ছিল ক্ণায় ( ?
সুমন : ওই তো কুটিরের পেছন দিকে পণে ৩৫ে শশ্বত ঃ একি এখানে গেল কি করে? পাগলাবাবা ঃ ওহ তোদের যা ঘুম যাক যা হবার হয়েছে ৩ামি পরেে (দে;খে নিচ্ছি শাশ্বত তোমরা এখনই নদীতে সনান করতে ঢলে যও আর ঘর থেকে একটা নতুন কাপড় সঙ্গে নিয়ে যও শাশ্বত ৪ নতুন কাপড় পরে যাব বাবা? পাগলাবাবা ঃ না, স্নান করে নতুন কাপড়টা পরে নিও তার দেখো এ সময একজন বাবাজীকে নদীর পারে দেখতে পাবে আর তিনি যদি তোমাকে ডেকে কিছু আদেশ করেন তা তুমি পালন করো ।
শাশ্বত কেমন বাবাজী বাবা? মানে আমাকে উনি কেনই তদেশ করবেন পাগলাবাবা তা তিনি যদি তোমাকে ডেকে নেন, তার কারণ তিনিই তোমায় জানিয়ে দেবেন এখন আর দেরি করো না / তাড়াতাড়ি চলে যাও । সুমন : আমিও বাবা নতুন কাপড় কিনে নিয়ে আসব? ১৩৯।
মুদ্রিত পাতা 140
পাগলাবাবা : থাক্ তোর আর নতুন কাপড় লাগবে না ! তোকে যদি বাবাজী কিছু জিজ্ঞেস করেন, বলবি আমি তো নিজেই পুরনো তাই নতুন কাপড় আর আনিনি যা, আর বকাস না। সুমন শাশ্বত তাড়াতাড়ি করে বেরিয়ে পড়ে নদীর পথে । সে সময় আর কাউকে দেখ যাচ্ছে না নদীর পারে দাঁড়িয়ে শাশ্বতর চোখ নদীর ওপারে যায কই অর্ককে ও তো দেখা যাচ্ছে না । একটু এদিক-ওদিক চোখ ঘুরিয়ে নদীতে নেমে পড়ে! সুমন স্নান ক্রিয়া সেরে 'কই বাবাজী?
কাউকেই তো দেখ যাচ্ছে না ' শ্রাশ্বত বাসি কাপড় বদলে, তাহলে কী আমাদের দেরি হয়ে গেল? চলো, একটু এগিয়ে দেখি) বাবাজীর দেখ পাওয়া যায় কীনা /" সুমন : (হাঁটতে হাঁটতে) বা গাছ গাছালি, কেউ থাকলেও মনে হয় দেখ যাবে না! উত্তরের দিকে আর একটু এগোলে কারও শব্দ যেন কানে আসতে থাকেো শাশ্বত : ঐ ডানদিকের জঙ্গল থেকে মানুষের কথা বলার আওয়াজ আসছে । চলো এগিয়ে দেখি ! আরেকটু এগোলে স্পষ্ট হরিনাম সংকীর্তন শোনা যাচ্ছে।
দুজনেই শব্দ অনুসরণ করে পৌঁছলে বাবাজীকে দেবতে পায় সঙ্গে আরও তিনজন, দুজন মহিলা, একজন পুরুষ বাবাজী বেশ বৃদ্ধ, মাথায় লম্বা সাদা চুল, গায়ে নামাবলী, গাল বেয়ে বুক অবধি নামা সাদা দাড়ি, গলায় অনেক মালা; বসে একসঙ্গে নামকীর্তন সকলে করছেন । শাশ্বত সুমন দুজনে কাছে গেলে বাবাজী ইশারায় বলেন । ভোরের দুজনকেই বসতে আমেজে; তাদের কণ্ঠস্বরে ভাবাচ্ছন্ন নামকীর্তনে দারুণ এক পরিবেশ হয়ে রয়েছে ।
শাশ্বতও বাবাজী হাত গলা মেলাতে গেলে তুলে থামিয়ে দেন বাবাতী, নিজেদের কহ দেবি নামকীর্তন শেব হলে বাবা, কাছে এসো' বলে শাশ্বতকে ডেকে নেন ১৪০।
মুদ্রিত পাতা 141
মুখটা দেখি বলে , বাবাজী তোমার শাশ্বত বাবাজীর কাছে গেলে বলেন বেদ পাঠের শাশ্তর ফপালের চুল গুলো তুলে ধরেন কুমণ্ডুলের জল অধিকার গাওনি? সংস্কার করতে হবে) বলেই একটু করে লেপে দেন, ছিটিয়ে কিছুটা মাটি কপালে, গলায় একটু মস্ত্র বলে সারা শরীরে ফুঁ দেন । এবারে তারণর তিনবার কিছু শাশ্বতকে জিজ্ঞেস করেন হরিনাম নিতে ভালো লাগে? শN৩ হ্যাঁ বাবাজী; আপনাদের সাথে হরিনাম কীর্তন করতে ইচ্ছা করছিল তাই গলা মেলাতে চেয়েছিলাম ।
বাবাজী তাতো ভালো কথা, কিন্তু হরি বীজ না পেলে হরিনাম নিয়ে কোনো লাভ নেই! মুখে হরি হরি বলবে; কিন্তু হরি কোথায় আছেন তা কী কোনোদিন জানবে? তাই হরি বীজ নিয়ে আগে হরিকে স্থাপন করে তারপর হরিনাম করলেই অন্তরে হরির অবস্থান খুঁজে পাবে / আর এই হরিই তোমায় পথের হদিশ এনে দেবে তাই এসো আমি তোমার কর্ণশুদ্ধি করে দিই । গুরু দক্ষিণা হিসেবে তুমি আমায় এক গণ্ডুষ জল দিও ।
শাশ্বত বাবাজীর কথা শুনে একেবারে সম্মোহিত হয়ে বাবাজীর কাছে এগিয়ে যায় বাবাজী তাঁর ডান ঊরু দুহাত দিয়ে স্পর্শ করতে বলেন আর বাম কানে তিন বার, ডান কানে একবার হরি বীজ প্রদান করেন । কানে বীজ মন্ত্র প্রবেশ করতেই শাশ্বতর শরীরের ভিতর হরিনাম যেন মালা হয়ে পাক খেতে থাকে। শাশ্বত বাবাজীকে প্রণাম করে নদী থেকে এক গণ্ডুষ জল তুলে এনে দেয়। বাবাজী আশীর্বাদ করে বলেন আমার কাজ শেষ । তুমি আমায় আর কোনোদিন খুঁজে পাবে না !
তোমাকে যিনি শিক্ষা দেবেন; তুমি তাঁর ভিতরেই আমায় দেখে নিও, বাকি পথ তিনি বলে দেবেন " সকলে একসাথে উঠে হরিহরি বলতে বলতে নদীর পার ধরে এগিয়ে চলে যান শাশ্বত সুমন কারও মুখে কোনো কথা নেই। শাশ্বতর দু-চোখে শুধু জলের ধারা ১৪১।
মুদ্রিত পাতা 142
সমন চলো; কুটিরে ফিরি / বলে শাশ্বতর হাত ধরে তুলে নেয় সুমন কুটিরে ফিরে এলে । শাশ্বত গাগলাবাবা এসো শশ্ত; বাবাজীর সঙ্গে দেখা হয়েছিল? আর উনি তোমার কানে কিছু দিলেন?
শথত : হ্যাঁ বাবা; আমায় বললেন, তোমার কর্ণশুদ্ধি আমিই করে দেব; বলে আমার কানে হরিনাম বীজ প্রদান করলেন, আর বাকি আপনার থেকে জেনে নিতে বলেছেন গাগলাবাবা ৪ (খুব খুশি হয়ে) বাঃ বাঃ সিদ্ধ বৈষ্ণবের কাছে তোমার কর্ণশুদ্দধি হলো এবার এপথের যাত্রা শুরু হল এখন থেকে তুমি তিনদিন সকাল সন্ধে হরিনাম জপবে, স্বপাকে নিরামিষ ভোজন করবে, কারও উচ্ছিষ্ট গ্রহণ করবে না । কপালে কণ্ঠে খড়িমাটি মেে থাকবে ।
যাও ঘরে খড়ি মাটি এনে রাখা আছে; তিলক ঢেনে নাও শাশ্বত : হ্যাঁ বাবা, তাই করব কিত্তু আমার কিছু প্রশ্ন ছিল। উনি ছিলেন? কোথা থেকে এলেন? আর আমার সাথে কোনোদিন দেখা হবে না বললেন কেনই বা উনি আমাকে কর্ণশুদ্ধি করালেন? পাগলাবাবা ঃ উনি একজন সিদ্ধ বৈষ্ণব সাধক উনি তোমার আগেও গুরু ছিলেন, তাই আবার তোমাকে এ-পথে শুরু করিয়ে দিয়ে গেলেন ।
আসলে এ-পথ জন্ম জন্মান্তরের ক্রিয়ার পথ যা এক জন্মে করা পূর্ণ প্রায় অসম্ভব তাই কেউ কেউ জন্মেই শুরু করে থাকে কারোর কারোর আবার অনেক আগের থেকেই শুরু হয়ে থাকে । জন্ম জন্মাত্তরের ক্রিয়া কোন দিন হারিয়ে যায় না । উপর শুধু রূপের আর এক রূপের প্রলেপে আগের সব কিছু ঢেকে যায়, তাই আর কিছু মনে থাকে না । ১৪২।
মুদ্রিত পাতা 143
পথে আবার ঘষতে পারলেই আগের কিছু এক এক করে সব জানতে পারা যায়, এভাবে নিজের আদিতে পৌঁছে যাওয়া যায় / উনি তোমার কর্ণে সেই শুদ্ধতা প্রবেশ করালেন যা দিয়ে তুমি সুক্ষ্ম থেকে সুক্ষ্মতে পৌঁছতে পারো এরপর এক এক বীজ মস্ত্র প্রবেশ করিয়ে নিজের আত্মা পরমআত্মার মিলন ঘটিয়ে নিজের আদিকে জানতে পারবে এজীবন কেন পেলে সেটা ভালভাবে দেখলেই বুঝবে তোমার ক্রিয়া, তুমি কক করতে এসছো আর তুমি করতে পারো মানুষ এই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব কিন্তু অন্যান্য জীবের মতই মানুষের আচরণ হওয়়া উচিত কি?
নিজের ঘর, নিজের বাড়ি, নিজের খাওয়া, নিজের পরিবার তা তো অন্য সব জীব এই একই ধর্ম পালন করে থাকে এটাই মানুষের শ্রেষ্ঠতার পরিচয়? না কি সর্বশ্রেষ্ঠ বুদ্ধিমান জীব হয়ে নিজের জন্মের আদি সূত্র জেনে নিজের প্রথম পুরুষকে ছুঁয়ে ফেলা আর যারা নিজেকে জানতে চায় তারাই নিজের প্রলেপ ঘষতে থাকে ।
আর এক এক করে প্রলেপ সরিয়ে ফেলে তাই এক এক প্রলেপে এক এক গুরু তার ক্রিয়া দিয়ে থাকেন আবার কেউ একের মধ্যেই সবাইকে এনে একজন গুরুই আলাদা আলাদা ক্রিয়া দিয়ে থাকেন তাই উনি জাগতিক ভাবে তোমার কর্ণশুদ্ধি করে গেলেন। আর আমাতেই মিলিত হয়ে গেলেন । তাঁর আর তোমার সাথে দেখ করার প্রয়োজন নেই আমার মধ্যেই তুমি তাঁকে পেয়ে যাবে ।
আশা করি এখানকার মতো তুমি তোমার প্রশ্নের উত্তর পেয়ছো এবারে তুমি তোমার কাজে মনোনিবেশ করো এখন থেকে জাগতিক অজাগতিক দুই ক্রিয়াই সঙ্গে নিয়ে চলতে হবে যাও তোমার রুগি দেখর সময় হয়ে গেছে । ১৪৩।
মুদ্রিত পাতা 144
শাশ্ত ? হ্যা বাবা, বলেই শুরুকে প্রণাম করে বেরিয়ে পরে সুমন ঃ একটী কথী জিজ্ঞেস বাবী পগলাবাবা তুই কিছু জীনতে চাস; তী বল না? সুমন : আচ্ছী বাবী আমারও কি আগের কোন ওুরু ছিলেন? পাগলাবাবা ঃ নিশ্চই ছিলেন, তা না হলে এত বড় হলি কি করে । গুরু ছাড়া কি এমনি এমনিই বড় হয়ে গেলি আর তোর পথেরও কর্ম ছিল তাই তো আবার আমার কাছে এসে জুটলি, আর তোর যারা গুরু ছিলেন তাদের আমার মধ্যেই এনে তোকে শিক্ষা দিয়ে চলেছি ।
আচ্ছা সুমন তুই তো সস্ত্রীক দীক্ষা গ্রহণ করিস নি? সুমন ঃ না বাবা, সে সুযোগ আমার হয় নি / আসলে আমার স্ত্রী সারাদিন সংসারের কাজে ব্যস্ত থাকে; তাই ও সময় করে উঠতেও পারে না / তবে ওর এ পথে বিশ্বাস ভক্তি দুই-ই খুব আছে আমাকে খুব সাহায্যও করে ও বলে তুমি ভালভাবে এপথে এগিয়ে যাও আমি সংসারটা দেখে নিI পাগলবাবা : কেন রে তুই সংসার করিস ন] নাকি? সুমন : না, আমিও করি ।
কিন্তু ওকেই তো সংসারের সব কাজ করতে হয় তাই এখনই ওকে দীক্ষা নিতে আমিও বলিনি কারণ একটী জিনিস নিয়ে তাকে ঠিক মতো পালন না করতে পারলে সেক্ষেত্রে আবার পাপ হয়ে যাবে তাই সময় হলে সব ঠিক হয়ে যাবে । পাগলাবাবা ৪ (একটু হেসে) কত পাপ পুণ্যের হিসাব তোরা করিস । কোথায় পাপ কোথায় পুণ্য সবই তোেদের হিসেবের খাতায় লেখা থাকে । খাতায় আর কোথায় কোথায় পাপ হয় রে?
খাওয়া দাওয়া মানুষের সংসারে আর টুনাটুনির সংসার গুছিয়ে নিতে পারলেই বোধহয় পুণ্য ফল] লাভ করা যায় তাই না? ১৪৪।
মুদ্রিত পাতা 145
জাগতিক তজাগতিক সুমন : জানি না বাবা । আসলে সকলে বলে দীক্ষা নিয়ে তার ঠিক মতো ক্রিয়া না করতে পারলে তাকে অসম্মান করা হয় । আর পাপী হয়ে নরক ভোগ করায় / তাই আমিও আমার স্ত্রী কে কোন দিন জোোর করিনি] পাগলবাবা ৪ তাই তৌ, আর কিছুই নী করলে স্বর্গের সিংহাসনে বসাতো? তাই আর কিছু করার দরকার নেই, কি বল । ওরে গাধী সে তো এমনিই যাবে নরকে, আর তোকেও ছাড়বে না । সাতপাকে ঘুরে সাত জন্মের দাযিত্ব তো তুই ই নিয়েছিলিস ।
ওর খাওয়া পরা সব তুই দিবি তবে তো তোকে নরকে থেঁকেই ওর দাযিত্ব পাল করতে হবে। তুই স্বর্গে চলে গেলে তো আর সে দায়িত্ব পীলন করতে পারবি না / মৃত্যুর পর তোর তো আর কোন ক্রিয়া থাকবে না / যাতে ও তোর সাথে তোকে সাহায্য করতে যাবে তাই তোর বুদ্ধিতে ও নরকে গেলে তোকেও সঙ্গে নিয়ে যাবে ! সুমন ঃ সে তো ভেবে দেখিনি, তাহলে বাবা এখন কি করব?
পাগলাবাবা তাই বলি বই পড়ে নিজে নিজেই পণ্ডিত হয়ে যাস নাI দেখিস নি জীবনে কিছু শিখতে গিয়ে পাঠশালা থেকে আনা বই পাঠশালার পণ্ডিত মশাইই বুঝিয়েছেন । তারপর অক্ষর জ্ঞান হবার পর উচ্চবিদ্যালয় গিয়েও শিক্ষক শিক্ষিকাদের কাছেও বই নিয়ে বুঝতে হয়েছে। আর এপথে গুরুরাই বোঝাবেন। এটাই তো স্বাভাবিক তা না করে নিজে নিজের মত করে বুঝে গেলি আর অপরকেও বুঝিয়ে দিলি ।
এবারে শোন বইতে কেন পাপের কথা বলা আছে যে কোন কাজ করতে গেলে তার ভূত ভবিষ্যৎ জ্ঞান না করতে পারলে সে কাজ অসফল হয় আর অসফলতাই মানুষকে সুখ ভোগ করায় না । মানুষ দুঃখী হয়ে থাকে। তাই তার ফলকে পাপ বলা হয় । কারণ দুঃখই পাপ । আর এই পাপ মানুষকে বয়ে নিয়ে বেড়াতে ১৪৫।
মুদ্রিত পাতা 146
ভাগতিত অজাগতিক হরে তার ভার তার ওপরে উঠতে দেয় না / মানুষের জীবন সফতা তার অসহলতা দিয়েই গড়া; তাই মানুষ কখন সুখ কতনও নিয়েই চলতে ধাকে দু8ব জামাদের এ-পথে কোন অসফলতাই নেই । সবটাই সফলতা । কারণ ঐপথে' তোকে যতটুকুই ক্রিয়া দেওয়া হােক তাহাই আবার সার উদেশয ক্রিয়া করানো হয় তাকেই সমর্পণ করতে শেখায় সহ অ্রসফ্জতায় ভয় থাকে নী / আর দীক্ষা নিয়ে যদি তাকে ঠিক মতো পালন না করা হয় তাকে মূর্খ বলা হয় ।
কারণ দীক্ষা এমা বিছু ক্ম দিতে পারে যা দিয়ে তিনকাল-ই এক কালেই দেবতে পাওয়া যায় । তোর টুনাটুনির সংসার করে, হাজার কচকচানির মধ্যে রোগ, দু দুদশা ও দরিদ্রতায় যে ঈশ্বরকে দোষারোপ করিস, তার নামেরে নিয়ম মেনে অল্প কিছুক্ষণ কচকচানি করার সময় পাসনা? ভাগ্য ক্রমে যে সুযোগ পাওয়া যায় তাকে অবহে্জ করভে তরভাগাই হয় সে তাই পাপের কথা বলা হয়েছে!
তোের স্ত্রী বদি তোকে সত্যিই সাহায্য করতে চায় তাহলে তাকে বলিস, এর এর নামে যতটা সময় সমলোচনা করে তার থেকে কিছুটা সময় হে করে একটু নিজের সমলোচনা করে ঈশ্বরকেই সমর্পণ করে দিও । তাহলেই আমাকে সাহায্য করা হয়ে যাবে / তাই তোেদের বংা ভেবেই দেবাদিদেব গৃহী, সন্ন্যাস, নারী, পুরুষ সবার জন্যই আলাদা আলাদা পথ বলে দিয়েছেন । তাই কে কত ব্যস্তু সেবহা না ভেবে গুরুকে জানালেই তিনিই পথ বলে আত্মবিশ্বাস নিয়ে দেবেন।
শুধু একটু গুরুর নির্দেশ অনুযায়ী আসনে কিছু সময়ের জন্য বসে পড়তে পারলেই হল; বুঝলি । সুমন : হ্যাঁ বাবা; বুঝলাম । এবারে বাড়ি গিয়েই বউকে দীক্ষা নেবার কথাটা বলব ১৪৬।
মুদ্রিত পাতা 147
জাগতিক অজ্াগতিক দেখিস বাবা; ঠাণ্ডা তেলেই যেন মাছ ছেড়ে দিস না । তেল গাগলাবাবা গরম হলেই মাছ ছাড়তে হবে তা না হলে পাত্রেই মাছ চেপে বসে যাবে আর মাছ' ভেজে তুলতে পারবি না । সব ভেঙে গুড়িয়ে যাবে যা; এখন তুই তোর কাজে যা; আর বকাস না / বলেই পাগলাবাবা কুটিরে প্রবেশ করেন এদিকে শাশ্বত রুগিদের চিকিৎসা করে কুটিরে ফিরে আসছে সে পাগলাবাবার নির্দেশ অনুযায়ী স্বপাকে নিরামিষ আহার ও 'হরিনাম' সকাল সন্ধ্যে জপতে থাকে।
ভাবে তিন রাত পার করে সকালবেলা গুরুকে প্রণাম করে । শাশ্বত ৪ বাবা, আমার তো তিনরাত পার হল, এখন আমার কি কর্ম হবে আপনি আদেশ করুন পাগলাবাবা ঃ এখনই তুমি নদীর পথে 'হরিনাম' জপতে জপতে চলে যাও নদীতে তিনবার ডুব দিয়ে একটু নদীর মাটি কপালে গায়ে মেখে তোমার যেখানে কর্ণশুদ্ধি হয়েছিল সেখানে চলে যাও এই ভোর রাতে সেখানে একজন বৈষ্ণবী আসেন । ওনার সাথে একটু 'হরিনাম' কীর্তন করে নিও যাও এখনই বেরিয়ে পড় পথে সাবধানে যেও ।
একাই তো যেতে হবে তোমার সঙ্গী সুমন তো বাড়ি চলে গেছে । শাশ্বত ঃ হ্যা বাবা; আমার কোন অসুবিধা হবে না, আমি একাই চলে যেতে পারব বলে গুরুকে প্রণাম করে বেরিয়ে পড়ে এ সময় এখনও ভাল ভাবে আলো ফোটে নিI চারিদিকে একেবারে নিস্তব্ধতা, জনমানবহীন শাশ্বত এগিয়ে চলে 'হরিনাম' জপতে জপতে । নদীতে তিনবার ডুব দিয়ে আর নদীর মাটি কিছুটা তুলে কপালে লেপে নেয় আবার সেই স্থানে চলে আসে যেখানে তার কর্ণশুদ্ধি হয়েছিল । ১৪৭।
মুদ্রিত পাতা 148
যাট ঊর্দ্ধ বৈষ্ণবী দুহাত দিয়ে মাটিতে যেন সেখানে একজন বিড়বিড় করে বলছেন । পরনে সাদা ঘষে চলেছেন আর মুখে কিছু গলায় হাতে খড়ি মাটি দিয়ে তিলক আঁকা, মাথায় শাড়ি কপালে মস্ত জটা / শাশ্বত সামনে দাঁড়ালে বৈষ্ণবী শাশ্তর সাদা পীাকী চুলের ফিরে চান । চৌখের দৃষ্টিতে যেন আগুন জ্বলছে ইশারায় দিকে মাটিতে ঘষতে বলেন শাশ্বত কোন প্রশ্ন নী শাশ্বতকে দুহাত করেই মাটিতে বসে পড়ে আর তাঁর দেখাদেখি দুহাত মাটিতে ঘষতে থাকে আর হরিনাম জপতে থাকে ।
এভাবে বেশ কিছুক্ষণ চলার পর বৈষ্ণবী শাশ্বতর গায়ে তাঁর মাটি মাখা হাত বোলাতে থাকেন তাঁর হাতের পরশে শাশ্বতর শরীর যেন কাঁপতে থাকে । শাশ্বত তাঁর পায়ে লুটিয়ে পড়ে থাকে / বৈষ্ণবী শাশ্বতর মাথাটা তাঁর কোলে টেনে নেন । আর 'হরিবোল' 'হরিবোল' বলে মাথায় হাত বোলাতে থাকেন শাশ্বতর শরীর মন শান্তিতে তৃপ্তিতে জুড়িয়ে যায় মুখে কোন ভাষা নেই । চোখ বুজে শুধু পড়ে থাকে। বৈষ্ণবী ঃ (এবার বলে ওঠেন) হরিনামে দেহ শুদ্ধি) হরিই আত্মা, হরিই অস্থি ।
শাশ্বত ? (উঠে বসে) মা আপনি কে? আপনি আমাকে চেনেন? বৈষ্ণবী ঃ (একটু হেসে) মা ছেলেকে চিনবে না? আর তুমিও আমাকে চেন যে মাকে উদ্দেশ্য করে আমাকে মা বলে ডেকেছ আমি তো সেই মা-ই / আর চেনা অচেনাটা হল তো মাটির ওপরের ভাব আর মাটি খুঁড়লেই পাওয়া যাবে মাটির নিচের তো জলের ভাব / তাই মাটিতে হাত ঘষলে, নোনতা না মিষ্টি জল চেনা তা বুঝে নিলে । অচেনায় ভাব হারায় নিজেকে চিনতেই সময় বয়ে যায় ১৪৮।
মুদ্রিত পাতা 149
"দেখলে নারী ধরলে পুরুষ প্রকৃতি তাই মা স্বরূপ, জানলে পুরুষ নিজের হদিশ প্রথম পিতার পরশ পায় দেখবে কেমন তুমি আমি, হারিয়ে গিয়েও মিলছি খালি আসলে আমরা একই আছি কখনও কৃষ্ণ কখনও রাধা, বাজিয়ে বাঁশি সপ্তধারা কৃষ্ণ রাধা সাথেই বাঁধা । সপ্ত ঋষি সপ্ত স্তর মানুষ বলে সাতটি স্বর । সাতটি নদী সাতটি রঙ মানুষ পেল পাঁচটা ঢঙ । দুজন থাকেন টঙে বসে- মিললে আত্মা শূন্য মন রাধা জয় কৃষ্ণ বল দেহ থাকতেই মিলবি চল, মরা কাঁধে হরি বোল কর্ম করে অন্য জন ।
থাকতে রাধা কৃষ্ণ বল সাত সমুদ্রে মিশবি চল । বল হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে । / জয় রাধা কৃষ্ণের জয় জয় গোবিন্দায় নমঃ জয় বৈষ্ণবায় নমঃ । । বলে তার নাম কীর্ত্তন শেষ করলেন । শাশ্বত তার মন প্রাণ দিয়ে কৃষ্ণ প্রেমে হরিনাম কীর্তন বৈষ্ণবীর পায়ে সষ্টাঙ্গে শুয়ে শেষ করে পড়ে । আবেগে দুচোখে জলের ধারা ১৪৯।
মুদ্রিত পাতা 150
না মা; তোমরা কারা মানুষ শুধু যায় না ভাবা হয়ত আমরা অধম তাই মানুষ কি? হয় নি জানা দেখলে নারী ধরলে পুরুষ প্রকৃতি তাই মা স্বরূপ। । প্রকৃতি রূপী মা আমার বলে শাশ্বত বৈষ্ণবীকে জড়িয়ে ধরে আর মা হারা শিশুর মত মাকে পেয়ে অঝোরে কাঁদতে থাকে।
বৈষ্ণবী মাও তাকে চেপে ধরে, তারও দুচোখে জলের ধারা বইতে থাকে সন্তানের স্নেহে শাশ্বতর দুচোখ মুছিয়ে দেন; আর বলেন যাও বাছা এখন ফিরে যাও এখনও অনেক পথ তোমায় যেতে হবে, আমার আর্শীবাদ সব সময় তোমার সাথে থাকবে তোমার যিনি গুরু, সে তোমায় ঠিক সাত সমুদ্রে ডোবাবেন।
শুধু তার প্রতি বিশ্বাস রেখো তোমাকে তিনি আমার কাছে পাঠালেন আমি যাতে তোমায় বৈষ্ণব আচারের কিছু স্বাদ দিতে পারি আর নাম গান কি তার কি-ই বা প্রাথমিক ব্যাখা সেটি শোনাতে আমাকে বলেছিলেন শাশ্বত : তার মানে আপনাকে আমার কথা উনি আগেই জানিয়েছিলেন । বৈষ্ণবী মা ঃ হ্যা এই তো কয়েকদিন আগেই আমাদের আখড়ায় এসেছিলেন ।
তুমি যে ডাক্তার সে কথাও আমাদের জানিয়েছেন তোমার চিকিতসালয়ের কথা বলেছেন তোমায় যেদিন প্রথম চিকিতসালয়়ে পাঠালেন সেদিনই তো এসব জানিয়ে গেলেন । শাশ্বত : ও এবার বুঝেছি । সেদিন তিন রাস্তার মাথায় দাঁড়িয়ে আমায় ডান দিকের রাস্তায় যেতে বলেন আর উনি তার মানে ঐ সোজারাস্তায় চলে যান । সোজা রাস্তাতেই আপনাদের আখড়া । বৈষ্ণবী মা হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছ ! আর একটু এগিয়ে কিছু মোড় ঘুরলেই ১৫০।
মুদ্রিত পাতা 151
আমাদের ঠিকানা । আসলে উনি তোমায় ছেড়ে ছেড়েই বড় করতে চাইছেন । এই জ্ঞান তিনিও দিতে পারতেন । কিত্তু উনি চাইছেন তুমি আরও দেখ আরও বোঝ । সবাই দেখতে আলাদা, মাটি দিয়ে যেমন 'মা' কালীর প্রতিমা গড়া হয়, তেমনই আবার 'শ্রীকৃষ্ণের' প্রতিমাও সেই একই মাটি দিয়ে গড়া হয় দেখতে 'কালী' নয়ত 'কৃষ্ণ' যাকে পছন্দ তাকেই ভজ। তেমনই আবার গুরু হলে সব গুরুতেই মিলন হবে আলাদা রূপ আলাদা ভাব পৌঁছে দেবে সেই হরিদ্বার ।
উনি তস্ত্র মতে তোমায় বৈষ্ণব আচার ছোঁয়ালেন । কিন্তু) তুমি সাবধানে চল তোমাকে নিয়ে ওনার অনেক স্বপ্ন কারণ-এপথে এদিক-ওদিক করলেই পড়বে শাশ্বত কেমন এদিক-ওদিক 'মা'? আমি তো কিছুই বুঝলাম না / কিভাবে সাবধান হবো? বৈষ্ণবী মা ঃ আসলে পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে গেলে পা পিছলাবার ভয় থাকে নিচে দাড়িয়ে চূড়া দেখতে পাওয়া গেলেও পড়ার ভয় থাকে না । যারা-সেই চূড়ায় পৌঁছতে চায় তাদেরকেই-সেই পাহাড়ি পথ বেয়ে উপরে উঠতে হয় ।
তাই, তার পড়ে যাওয়ারও ভয় থাকে সেই পথে, একটু উঠতে পারলেই মনে হয় আমি তো এবার পৌছেই যাব । তখন গুরু ছাড়া চলতে শুরু করে দেয়, আর নিজের মন গড়া গুরু কে সহস্রারে স্থাপন করে গুরু সঙ্গে আছেন, ভেবে চলতে থাকে । আর-ঐ ধাঁধাঁর পথ থেকে কিছুতেই বেরতে পারে না। সে-দুপা এগোলে চার পা পিছিয়ে নিচেই নামতে থাকেI আর নিচে নামতে নামতে; একেবারে পাতালে গিয়ে প্রবেশ করে নিজের অহংকারই, নিজেকে অন্ধকারে বন্দী করে রাখে ।
সে সময়-তারা বোঝে না-গুরু-কোন নামে বা রূপে সীমাবদ্ধ নয় / গুরু-জ্ঞানেই গুরু হ থাকেন । তাই জ্ঞানই গুরু, জ্ঞানের যেমন মৃত্যু হয় না; গুরুরও তেমনি মৃত্যু নেই । শুধু ১৫১।
মুদ্রিত পাতা 152
শরীর বদল করে; একই গুরুতে মিলিত হয়ে -শিষ্যকে আবার পথ দেখাতে থাকেন তোমার ওুরু তোমায়, তার জাগতিক শরীর থাকতেই জ্ঞানে মিলিত হতে শেখাচ্ছেন যেখানেই জ্ঞান সেখানেই তিনি; সেটা যাতে তুমি বুঝতে পার, তাই তোমায় আমার কাছেও পাঠিয়েছেন । তবে; আবার দেখ গুরু নাম ধারি অজ্ঞানি গুরুর পায়ে যে পড়ে যেও না, তাহলেও আবার সব যাবে এ-কালে ভেকধারীর কোন অভাব নেই । শাশ্বত ৪ কিত্তুব 'মা' আমি বুঝব কেমন করে? সে ভেকধারী-গুরু, না আসলে-গুরু?
আমার তো এ পথে তেমন ধারণাই নেই । আর সব সময় বলা হয় গুরুকে অবিশ্বাস কর না । গুরুকে বিশ্বাসের চোখ দিয়ে দেখ, গুরু যা বলবেন তাই পালন কর তার বিপরীত ঘটালে-মহাপাপী হয়ে জন্ম-জন্মাত্তর নরক ভোগ করবে সেক্ষেত্রে-কি করে তার ভাল, মন্দ বিচার করে জানতে পারব? বৈষ্ণবী মা ঃ হ্যাঁ, তুমি ঠিকই বলছ । কিত্তু জেন তুমি যা জেনেছ; বা পড়েছ-তা সত্যই / তা শুধু গুরুর জন্যই প্রযোজ্য, ভেকধারীর জন্য নয় ।
তাই শাস্ত্রে এটাও বলা আছে; জ্ঞানের চাহিদায় _নিজের ভুল ভেঙে শত গুরুর কাছে দীক্ষা গ্রহণ করা যায় আর আমাদের এ-পথে প্রবেশ করতে গেলে; আগে কিছু জাগতিক জ্ঞান তোমার থাকা প্রয়োজন । তাই, সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে) দীক্ষার ধাপ অনুযায়ী বয়সের মান দেওয়া থাকে । যাতে সে, তার সাধারণ জ্ঞান লাভ করার পরই, দীক্ষা গ্রহণ করে ।
আর সেই থাকে; সাধারণ জ্ঞান যদি তবে ভেকধারীর ভেক অতি সহজেই খুলে দেওয়া যায় কারণ, সেই ভেকধারীও তার সাধারণ জ্ঞান দিয়়েই চালাকি করে থাকে। তাই, প্রথম অবস্থায় গুরু) শিষ্যকে দেন । যাতে শিষ্য দেখে নেবার জন্য কিছু সময় তার সাধারণ জ্ঞান দিয়ে গুরুকে বিচার করেই ১৫২।
মুদ্রিত পাতা 153
তাকে গুরু বরণ করতে পারে আসলে, গুরুর শিষ্যকে আলাদা করে জানার প্রয়োজন থাকে না / তিনি এক দেখাতেই তার চলন, বলন অনুযায়ী সঙ্গে সঙ্গেই তাকে বুঝে নেন । কিত্তু শিয্য তো আর এক দেখাতেই গুরুকে বুঝে উঠতে পারবে না / তাই গুরুরা তোমায় কিছুদিন দেখি বলে; শিষ্যকেই সময় করে দেন যাতে সে নিজের মত করে গুরুকে বুঝে নিতে পারে কারণ, বিশ্বাস কোন দিনই অন্ধ হতে পারে না !
বিশ্বাস যেখানে সেখানেই আলো থাকে] অন্ধত্ব হল অন্ধকার, যেখানে জ্ঞান নেই-অজ্ঞানি ভাবা প্রকৃত গুরু-কোন দিনই তোমায় অন্ধ হতে শেখাবেন না / তিনি তোমার অন্ধত্ব দূর করিয়ে আলোর পথই প্রদান করবেন। তাই, তিনি গুরু আর যখন তোমার অন্ধত্ব দূর করাবেন-তখন তাঁকে আবার বিচার করতে যেও না ! কারণ তিনি তোমার রোগ বুঝেই সেই রোগ অনুযায়ী তোমায় কর্ম দেবেন ।
যা দিয়ে তুমি রোগমুক্ত হতে পারবে সেই ক্ষেত্রে তোমার কর্ম হয়ত; অন্য শিষ্যদের থেকে আলাদা হলেও হতে পারে তাতে কখনই বিচলিত হয়োনা বা নিজের প্রতি ভাল; খারাপের ভাবনা এনো না । শুধু মনে রেখ, তিনিই জানেন তোমার ভাল খারাপ / তুমি খারাপ হলে তিনি ভাল করে দেবেন আর তুমি ভাল হলে, তিনি আরও ভাল করে দেবেন তাই, নিজেকে তাঁর পায়েই সমর্পণ করে রেখ বুঝেছ বাবা । শাশ্বত ঃ বৈষ্ণবীর পায়ে নতজানু হয়ে -হ্যাঁ 'মা' এখনকার মত বুঝেছি ।
বৈষ্ণবী মা ঃ এবার যাও; আমারও অনেক কাজ বাকি আছে । আজ, আমি আসি । শাশ্বত ঃ আজ হয়ত আপনাকে অনেক দেরি করিয়ে দিলাম । বৈষ্ণবী মা ঃ তা তো, ছেলের অধিকার আর তোমাকে কিছু জ্ঞান দিয়ে আমি আমার নিজের জ্ঞান একটু বাড়িয়ে নিলাম । ১৫৩।
মুদ্রিত পাতা 154
জাগতিক তজ্জাগতিক শাশ্তর মাথা? হত রেেখে, একঢ শুচাবা (ল (??4[ শ। (7':। পডে । শাশ্বত অবাক হয়ে বৈকণবী মার ঢলার পথের দি;ে' ঢেশনে 01031 মন শেন একেবারে 'ণয দেখঢে সে বিঢ' এঁশে ন11 বৈষ্ণবী মা শশ্বতর চোখ থেকে সরে গেলে একটা দার্গ নিপ্রস ফেলে ধীরে ধীরে পI ফেলে কুটিবের দিকে ফিরতে গাকেো শেময অনেকটী পার হয়ে গেছে। নদীতে বেশ কিছু লোক স্নান করতে এসেঢছে। ভোরের পোস শেষ করে দিনের আলোয় রোদ উঠেছে ।
শাশ্বতর ভিজে কাপড় কখন গায়েই শুকিয়ে গেছে । শাশ্বত কুটিবে ফিরলে । পাগলাবাবা ঃ এই তো শাশ্বত এসে গেছে । দেখ শাশ্বত কে এসেছে । তোমার বন্ধু । শাশ্বত ফিরে তাকাতেই প্রশান্ত । প্রশান্ত শাশ্বত কে দেখতেই- -আরে, কেমন আছ বন্ধু (বলে এগিয়ে আসে ।) শাশ্বত (একগাল হেসে) খুব ভালো (বলেই পাগলাবাবাকে প্রণাম করে ।) পাগলাবাবা ঃ (একবার শাশ্বতর মুখের দিকে চেযেই) নদীতে স্নান করে খুব খুশি হয়েছ মনে হচ্ছে ।
তোমরা কথা বল আমি ভেতরে যাই-বলে ঘরে প্রবেশ করেন । শাশ্বত : (বন্ধুকে জড়িয়ে ধরে) শুধু ভাল নয়, ভীষণ শাস্তিতে আছি । তুমি আমার যে উপকার করেছ তা কোন ভাবেই ভুলে যাওয়া যাবে না তুমি, আমায় একটা নতুন জীবন দিয়েছ, চির ঋণী । তোমার কাছে আমি তা, তুমি কেমন আছ বল? প্রশান্ত ৪ (শাশ্বতকে ভালভাবে দেখে) কি বন্ধু তোমার কপালে মাটি, তোমার ১৫৪।
মুদ্রিত পাতা 155
তগতক অজাগতিক চোখ মুখ-কেমন যেন আলাদা রকয নাকি? লাগছে । তুমি দীক্ষা নিয়েছ শাশ্বত হ্যাঁ, আমার প্রথম সারির দীক্ষা হয়ে গেছে ধারণা হয় নি তবে তেমন কিছু সবে তিনদিন হল তো তাই, ব্যপারে আমি তেমন কিছু বলতে পারব না / আচ্ছা বৌদি, ভাইপো তারা কেমন আছে? তাদের সঙ্গে নিয়ে এলেই তো পারতে প্রশাস্ত ভালই এক প্রকার মানে, যা বলেছিলাম তার চেয়ে খারাপ আর কিছু হয় নি সব আগের মতই ।
শাশ্বত আমার মনে হয় একবার বৌদিকে নিয়ে এখানে এসো, আর বেশি দেরি করো না ! আমার বিশ্বাস 'পাগলাবাবা' একবার দেখলেই সব ঠিক হয়ে যাবে । তুমি কি কিছু জানিয়েছ আমাদের 'পাগলাবাবা' কে? প্রশান্ত : না, এখনও কিছু জানানো হয় নি তবে আজ একবার জানাব ভাবছি ।
শাশ্বত : আর ভেবনা এখনই বল / আমিও তোমার সঙ্গে তাঁকে সব জানাব পাগলাবাবা কুটির থেকে বেরিয়েই, কি শাশ্বত, তোমাদের কথাবার্তা হলো তাড়াতাড়ি সেরে নাও আবার তোমায় এখনি বেরতে হবে তো শাশ্বত হ্যা বাবা; আসলে-আমার বন্ধুর কিছু সমস্যা ছিল তাই নিয়ে কথা বলছিলাম । বৌদি বেশ কিছু দিন ধরেই অসুস্থ, ভাইপোও তাই পাগলাবাবা ঃ ও, তা এখনও বোধহয় ভাল ডাক্তারের হাতে পড়ে নি, তাই রোগ সারছে না / তোমার কাছে আনলেই তো হত । তবে, একা এলে কেন?
সঙ্গে তাদের নিয়েই আসতে পারতে শাশ্বত আর আমি-দুজনে মিলে ঠিক করে দিতাম । শাশ্বত কিছু বড়ি দিত, আর ১৫৫।
মুদ্রিত পাতা 156
জা।গ।৩ি ৩।5[।।0ি;1 অমি কিছু বুলি দিতাম (শ, ৩।9 (,4গ(9 4[(।;1 (,1।'। 4041 ঝl' ( ।(?। (।6।৩ । (শখত: দিকে ফি;ে) শশত তুমি এখণ গও আশি ওদেের (,4l 17 কখI ৩লl সণ ভণভে ৩৫ 1ি । শাশ্বত হ্যা বাবী, বলে কুটির ঢেঙে বেরিে পডে পাগগাবাদী হ্যঁঁ প্রশাও; এবার বলতো '৮ IU(I প্রশাওত ৪ হ্যা বাবা, বলচি ৩"প ৩াগগ এক জ্যোতিশার কাডে গিয়েছিলাম / তিনি নাকি আবার খুব বড় তাশ্িকও।
পাগলাবাবা ঃ বুঝেছি--ডাবল এম.এ কবজ পাথর দুই কথা বলে] শ ু নিজে একটু মিথ্যে বলে তাই শুনে সাধারণ মানুবও বেশ ভিড় জমায় আর সে, জ্যোতিষ আর তম্ত্রের-ত দিয়ে যাঁতা পেতে বসে পড়ে । কখনও স্বপ্ন দেখিয়ে পাথর বেচে আবার কখাও ভগ় দেখিয়ে কবজ বেচে তাতে নাকি আবার মানুষ সুফল কুফল দুই পেয়ে থাকে তোমার টা বোধ হয়-কুফলে গেছে। তোমাদেরও দোষ আছে বাপু ।
এটুকু তো বোঝা উচিত লটারি তো আর সবাই কে রাজা করে না / একজনকে রাজা করে আর বাকিরা তাকে দেখে ভিখিরী হয় । তা তুমি এখন এসব বাদ দাও । তাড়াতাড়ি করে খিচুড়িটা রান্না করে নাও সঙ্গে একটু আলুও ভেজো অনেক সকাল সকাল বেরতে হয়েছে বোধ হয় । ক্ষিদেও তো পেয়েই থাকবে নাও তোমার সাথে সাথে আমার আর শাশ্বতর জন্যও করে নিও । প্রশান্ত : আচ্ছা বাবা, আমি তাই করে নেব কোথায় আছে যদি একটু দেখিয়ে দেন ।
পাগলাবাবা হ্যাঁ, এইদিকে এসো, এই হল আমাদের রান্নাঘর এখানে ১৫৬।
মুদ্রিত পাতা 157
চাল;, ডাল সবই আছে; তোমার ইচ্ছে মত বানিয়ে নিও । তোমার আবার গুছিয়ে রান্না করার অভ্যাস তো আছেই । প্রশান্ত ৪ হ্যা বাবা; গিন্নি তো আর সেভাবে সব করে উঠতে পারে নাI তাই আমিই বেশির ভাগ সময় রান্না করে নি। পাগলাবাবা এবার থেকে শখে রান্না কর কালই পারলে একবার ছেলে-বৌকে নিয়ে এস । রেবার ভাই এর ভূত আমি একাই ছাড়িয়ে দেব ।
শাশ্বতর বড়ির প্রয়োজন হবে না / আর, তোমার ছেলেটাও তেমনি, মৃত্যুকে ভয় পেয়ে মরা হয়ে বেঁচে আছে পড়াশুনো শিখে গাধা হচ্ছে । যাক তুমি এসবে আর মন দিও না / ভাল করে খিচুড়িটার দিকে মন দাও । এদিক ওদিক মাথা গেলে রান্না ভাল হবে না । প্রশাত্ত ৪ না বাবা, আর কিছু ভাবব না । শুধু কিছুদিন আগে এলে হয়ত এত ভুগতে হত না / ওরা ও একটা সুস্থ জীবন যাপন করতে পারত।
পাগলাবাবা ঃ এমন মানুষদের একটু ভোগার দরকার থাকে ভেক দেখলেই ভক্তি আসে; সাধু ভেবে পা জড়িয়ে ধরে! (বলতে বলতে পাগলাবাবা রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন।) এদিকে শাশ্বতর ডাক্তারখানায় বেশ রুগিদের আনাগোনা শুরু হয়ে গিয়েছে । রুগিদের ভিড়ে নানান লোকের সঙ্গে আলাপ হতে থাকে । মানুষের সাথে ব্যবহার ডাক্তারীর গুনে শাশ্বতর প্রচার ইতিমধ্যেই বেড়ে উঠেছে । গুপ্তাজীর সঙ্গে দেখা হলেও গল্প করার সময় হয়ে ওঠে না ।
আজ গুপ্তাজী শাশ্বতর সাথে কথা বলার জন্যই অপেক্ষা করে বসে থাকেন রুগিদের ভার কমলে প্তাজী প্রবেশ করেন- আপনাকে তো এখন একদমই ফাঁকা পাওয়া যাচ্ছে নডা ত্রকবাবু' একটু যে ১৫৭।
মুদ্রিত পাতা 158
কথা বলে জানব আপনি কেমন আছেন, আর জানাব আমি কেমন আছি । শাশ্বত ৪ (একগাল হেসে) আসলে আমারও তো সেই অবস্থাই হয়েছে । এতদিন আমার সাথে যা ঘটল সেগুলো বলার মত কাউকে পাইনি বা পেলেও কি বলব বুঝে উঠতে পারিনি! প্তাজী (খুব মনযোগ সহকারে) হ্যাঁ, আমাকে বলুন তো কি কি ঘটল? আপনার কপালের তিলক আর বেশ ভূষা দেখেই অনেক কিছু ঘটে গেছে বলেই বুঝতে পারছি । শাশ্বত তাই । আসলে আমার দীক্ষা হয়ে গেছে ।
যে নিয়মে আমার এই দীক্ষা হয়েছে; তাতে এই বেশ ও তিলক ধারণ করতে হয় । গুপ্তাজী ঃ তাই আপনাকে এখন ডাক্তার কম, সাধু বেশি বলেই মনে হচ্ছে। অনেকেই আমার কাছে জানতে চায় আপনি ডাক্তার না সাধু সন্ন্যাসী । শাশ্বত ওটাই তো মুশকিল । আমাদের দেশে লোকে বেশ ভূষায় বিশ্বাসী, জ্ঞানে নয় চোখের সামনে ডাক্তারী করতে দেখেও, জ্ঞানে নয় বেশেই বিশ্বাস করে । সেটি যদিও আমারও ছিল ।
কিন্তু নেই এখন আর কারণ আমার গুরু সঙ্গ করে-তাদের আশীর্বাদে এখন এসব ঝেড়ে ফেলতে শিখেছি । কার কি জ্ঞান বা বেশ আছে তা তার রূপ ভূষায় বোঝা যায় না । তাকে জানতে গেলে খোলা চোখেই যাচাই করতে হয় । রূপ বা চললে তাকে বেশ ভূষায় ভুলে অন্ধ হয়ে ঠকতেই হয় । তাই খোলা চোখে তার সাথে কথা বলে তা অতি সহজেই নিজে কতটা সাধারণ বোঝা যায় আর নিজেকে ওপরে তুলতে গেলে যে সাধারণের থেকে করতে হয় ।
তাঁর অসাধারণ তাঁর পায়ে নিজেকে সমর্পিত মধ্যে -অসাধারণ গুণ, তাঁর প্রবেশ করিয়ে কাছে নিজেকে নত হয়েই, নিজের অসাধারণ গড়ে তোলা যায় ১৫৮।
মুদ্রিত পাতা 159
-আমাকেও একটু একটু করে প্তাজী ঃ আপনার সাথে কথা বলে আমি জানতে পারছি । আর এই আমাকে জানতে পারাটাও আপনারই কখন একটু আপনাকে আলাদা জন্যে তাই শুধু অপেক্ষায থাকি পাব আর আপনার থেকে আর একটু কিছু শিখে নেব শশত হ্যাঁ, ঠিকই বলছেন এখন আমরা একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠেছি । আমি আপনার পরিবর্তন দেখছি, আপনি আমার । এখন আর কানা-কানা কে পথ দেখাবে না ঝাপসা চোখেও আলোর রেখা দেখা যাবে চলতে চলতে ঠিক আলোয় অন্ধত্ব ঘুচে যাবে ।
(বলে শাশ্বত উঠে পড়ে ।) আসলে আজ আমার এক বন্ধু কুটিরে এসেছে । আমি এখন আসি, অনেক দেরি হয়ে গেল পরে আবার জমে থাকা কথা হবে । গুপ্তাজী তবে আজ আর আটকাব না / আপনি আসুন / অপেক্ষায় থাকব আপনার জন্যে। (শাশ্বত বেরিয়ে পড়ে কুটিরে ফিরে এলে পাগলাবাবাঃ শাশ্বতকে -যাও; দেখ রান্নাঘরে তোমার বন্ধু রান্না করছে। বেচারা না ঘরে, না বাইরে কোথাও বসে খাবার ভাগ্য করে নি।
কোন সকালে ঘরের কাজ গুছিয়ে বেরিয়েছিল আবার এখানে নিজের পেট গোছাতে রান্না ঘরে ঢুকতে হল । তাই, আমি বললাম একটু বাড়িয়েই রান্নাটা করে নিতে; তাতে তোমার আমারও হয়ে যাবে । তা না হলে এখন আবার তোমায় রান্না করতে যেতে হত। কি বল? শাশ্বত : কিন্তু বাবা, আমি তো এখন আপনার আদেশে স্বপাকেই খাই তাহলে আজ আমি করব? পাগলাবাবা ঃ হ্যা, মহামুশকিল হল তবে ওটা তো আমারই আদেশ ছিল ।
আমি আবার আদেশ করছি তুমি খেয়ে নিতে পারো শাশ্বত আসলে বাবা, আপনি তিন রাতের কথাই বলেছিলেন L তা হলে আজ থেকে আর আগের নিয়ম করতে হবে না? ১৫৯।
মুদ্রিত পাতা 160
পাগলাবাবা ঃ না; শুধু 'হরিনাম' নিতে থেকো যতবার খুশি / কারোর উচ্ছিষ্ট গ্রহণ করো না আবার অন্য নাম পেলে তখন, বলে দেব তখনকার কর্ম কি হবে । শাশ্বত একটা কথা জানতে পারি বাবা পাগলাবাবা জানতেই তো এখানে এসেছ ।
জানতে না চাইলে জানবে কেমন করে শাশ্বত আসলে বুঝে উঠতে পারছি না এখনই সঠিক সময় কিনা / তাই ইতস্তত বোধ করছিলাম পাগলাবাবা ঃ সেটাও গুরুর কাছে ছেড়ে দাও সময় জ্ঞান গুরুই তোমায় করিয়ে দেবেন জানতে গিয়ে ভুল করলে--গুরু আছেন ঠিক করে দেবেন তা, তোমার কি প্রশ্ন আছে বল? শাশ্বত আমি জানতে চাই 'তিন রাতই' কেন? তিনরাতের কি কোন আলাদা মাহাত্ব্য আছে? যা দিয়ে আমি আমার কর্ম শেষ করলাম ।
পাগলাবাবা ঃ সবেরই আলাদা আলাদা মাহাত্ব্য আছে মাহাত্ব্য দিয়ে দেখলেই কার কি মাহাত্ব্য বোঝা যায় আর তুমি কোন কর্মই শেষ কর নি । তুমি তো সবে শুরু করলে । এই তিন রাত পার করে তোমায়, তোমার তিন জন্ম এক সূত্রে বাধা হল । যা দিয়ে তুমি তোমার আগের জন্মের কর্ম, এ জীবনে আবার শুরু করে দিলে । (হর" যোগে দেহ শুদ্ধি হল ! "হরি" যোগে মন শুদ্ধি করলে । 'কৃষ্ণ" যোগে অস্থি শুদ্ধি হল ।
তারপর 'র' যোগে ব্রহ্ম 'আ' যোগে আত্মা, 'মকারে' যুক্ত হয়ে (মায়ায়' আবদ্ধ হয়ে আবার নিজ কর্মে লিপ্ত হলে । তাই 'মায়া' ছাড়া কর্ম থাকে না । আবার এই 'মায়া' যে দিন ছাড়িবে সেইদিন আবার মরা হয়ে এ জীবনের কর্মের বিরতি ঘটিয়ে ব্রহ্মাণ্ডে মিলিত থেকে শুধুই কর্মের ফল ভোগ করায় । তাই মায়া থাকতেই কর্ম করে আকার কে 'অ' এ মিলিত করে ১৬০।
মুদ্রিত পাতা 161
জগতিক তজাগতিক 'আঙ্মা' কে 'অকারে' যোগ করে অমর হতে হয় তাই প্রথমেই দেহ; মন শুদ্দধি করে শরীর থাকতেই সেই অসীম শক্তিতে মিলিত ২০৩ হয । ৩ম শস্ত্ে সা৩টি আচারের কথী বলা হয়েছে। যা দিয়ে এক আচারে মিলিত হয়ে এক-এক আচারের কর্ম করে এক-এক স্তর ভেদ করতে হয় । এই ভাবে সাধক সপ্তম স্তর ভেদ করে 'পরমব্রহে' পরম আনন্দলোকে' 'পরমআত্মায়' মিলিত থেকে পরম শাত্তিই" শুধু অনুভব করতে থাকে (কথী শেষ হতেট প্রশাত ৪ বাবা, খিচুড়ি রান্না হয়ে গেছে ।
সঙ্গে আলু ভাজা । পাগলাবাবা ঃ তা বেশ করেছ । গুরুমন্ত্র নেবার আগেই গুরু সেবা শুরু করে দিয়েছ গুরুর জন্য যজ্ঞ করেছ, ভগবতী ঠিক তোমায় এবার কৃপা করবেনই । কি বল শাশ্বত । শাশ্বত : (একটু হেসে মাথা নিচু করে) এমন লোভনীয় হাতছানির জন্যে শুধু এইটুকু যজ্ঞ কেন, দিন রাত এক করে যজ্ঞ করতে পারলেও মনে হয় ক্লান্তি আসত না ।
এমন দয়ালুদের জন্যে একটু কিছু করতে পারলেই যেন তাদের ভালবাসার বানে সব দুঃখ কষ্টই ভাসিয়ে নিয়ে যায় তখন কি করেছি ভাবার থেকে আরও যদি কিছু করতে পারতাম; সেই ভাবনাই বোধ হয় আঁকড়ে ধরে ।
পাগলাবাবা সন্তান যখন প্রথম দাঁড়াতে শেখে) পিতামাতার বুক আনন্দে ভরে ওঠে মনে আশা বেঁধে তার জাগতিক হাত ধরে; তাকে একপা-দুপা করে তার নিজের পায়ে চলতে শেখান আর শিশু যখন একটু-একটু করে এগোতে থাকে; পিতামাতা তার জাগতিক হাত ছেড়ে মনের হাত ধরে, তাকে নিজেই এগিয়ে যেতে দেন যা দিয়ে_সেও আবার একদিন আর এক শিশুর হাত ধরে এই কর্মময় জীবনে প্রথম কর্মের পা ফেলতে শেখাবে চ আর নিজেকে জানার কর্ম পথে একটু-একটু করে চলতে চলতে আবার সেই মাতা-পিতাতে মিলিত হবে জাগতিক হাত ছাড়লেও মনের হাতই ১৬১।