পাঠপর্ব — সম্পাদকীয় বিভাগ, লেখকের অধ্যায়নাম নয়
প্রশ্নের পথ
মুদ্রিত পাতা ৫৪–১০৭।
জাগতিক অজাগতিক · প্রথম খণ্ড · মুদ্রিত পাতা 63–116
মুদ্রিত পাতা 54
জগতিক অজাগতিক তবে আমি আসি বাবা ভদ্রলোক চলে গেলে) শাশ্বত; তুমি (লোকটি কাল পীগলাবাবী হ্যঁা আসুন; সকালনে আমার সাথে একটু যেও কোথায় যেতে হবে বলে দিলেই, আমি শীশত হ্যাঁ, বাবা কখন তৈ হয়ে নেব । আর কীসের ঘর পাওয়া হয়ে গেছে বৌদি ঃ লোকটি কে বাবা? পাগলাবাবা আমাদের শাশ্বতর ঘর । বৌদি : মানে শাশ্বত ঘর ভাড়া করে থাকবে?
পাগলাবাবা না না, ওর কর্মস্থল, ওখানে ডাক্তার নেই, তাই ভাবলাম লোকেরও সুবিধা হবে, আর শাশ্বতরও কর্ম হয়ে যাবে কী বলো শাশ্বত? শাশ্বত : হ্যাঁ, বাবা; আপনি যা ভালো বোঝেন। পাগলাবাবা ঃ তবে থাক তোমায় কাল যেতে হবে না / আমি একাই দেখে নেব তবে তুমি সেখানে পয়সা নেবে শুধু, সাধারণ জীবন যাপনের প্রয়োজন মেটাতে অতিরিক্ত নয় সুমন : আপনি কখন কথা বলে এলেন? আপনি তো এখানেই ছিলেন? পাগলাবাবা : কেন সকালে যে বেরোলাম; তখনই তো কথা বলে এলাম ।
এখন এখানে কিছুদিন ডাক্তারি করো; তারপর তোমাকে নিয়ে অন্য কোথাও যাবো রমা তোেমরা আজ বাড়ি চলে যাও । সতীশ; তুমিও চলে যেও) শশ্বত আর সুমন এখানে থাক ওরাই আমার রান্নাবান্না করে দেবে, কী বল শাশ্বত শিখে নিও; পারবে তো? আর না পারলেঙ এপথে থাকতে গেলে সব জানা চাই তা না হলে কোনো ফল পাওযা যাবে না । শাশ্বত : হ্যাঁ হ্যাঁ আমি এসব পারি, ভালো না হলেও রান্না জানি। ৫৪।
মুদ্রিত পাতা 55
পীাগলাবাবা ও তবে তো একটা কাজ কম শিখতে হবে আর বাকি যা রইল না পালালে সব শিখে যাবে নাও অমল তোমরা বেরিয়ে পড়ো, অনেক পথ তোমাদের যেতে হবে । রৌদি তবে শ্াশত তুমি থাক; আবার দেখা হবে প্রণাম ক্রিয়া শেষ করে অমল, রমা, সতীশ কুটির ছেডে বেরিয়ে পড়়ে সবে বিকেল হয়েছে গুরুজী দালানে চেয়ারে বসে আছেন । সুমন আর শাশ্বত মেঝেতে বসে সুমন : আপনি চা খাবেন বাবা? পাগলাবাবা ঃ তুই বড় নেশাখোর, তা তোর নেশা চাপলে দিস ।
আমাকেও একটু সুমন ঃ না বাবা; আমি তো কোনো নেশা করিনা আপনারই জন্যে চা বানাতে চাইছিলাম । পাগলাবাবা তুই তো আবার কোনো নেশা করিস না I শাশ্বত তোমার কোনো নেশা আছে নাকী? শাশ্বত ঃ তেমন নয় বাবা একটু আধটু ধূমপান করি, আর সকালে একটু চা । আর কোনো নেশা নেই । তবে ধূমপানটা অনেক কমিয়ে দিয়েছি [ পাগলাবাবা সুমন দেখ) শাশ্বতকে দেখে কিছু শেখ ।
কেমন আগে নেশা করল তারপর আবার নেশার গুণ বিচার করে কমিয়েও দিলো, আর তুই নেশাও করলি না; আর বিচার ক্ষমতাও পেলি না, আচ্ছা শাশ্বত তুমিতো ডাক্তার, নেশা করা তো শরীরের পক্ষে খারাপ / তবে মানুষ এতো নেশা করে কেন বলোতো শাশ্বত ঃ তা বোধহয় কোন কিছুকে জানার চাহিদায় তাতে মিশতে গিয়ে মানুষ নেশায় পড়ে যায় আর তখনই শরীর-মন হয়ে যায় । তাতে আসক্ত পাগলাবাবা ৪ আর তাই বুঝি, মানুষগুলো মানুষ হবার নেশায় মেতে ওঠে, ৫৫।
মুদ্রিত পাতা 56
মোহে মাতাল হয়ে ঘুরে ভুলে বেড়ায় ' নিজেদের ক্ষমতা বোধহয় আরেক নেশা মাথায় চাপায় ' আব সেই নেশী কাটাতেই সুমন ঃ একটা কথী বলব বাবা তো অনেক কথাই বলিস, কিছু বলবি? তুই প্রগ্ন পগলাবাবা তুই করতে আরেকটা কথাই বল । কিত্তু বাবা আপনি তো ধৃমপান করেন, আর বেশ বেশিই সুমন : করেন] পাগলাবাবা ঃ হ্যা, করি তো তাদের সাথে মিশতে গেলে নেশাতেই থাকড়ে হ্য় থাকলে তো তোেদের আবার বিচার করে ফেলব ' বেয়শসুক্কর ধেধঁয়া উড়িয়ে ধোঁয়ার মধ্য দিয়েই দেখি ।
৩০ সুমন : তবে কী বাবা নেশা করা ভালো? পাগলাবাবা হ্যাঁ, ভালো তবে যে নেশায় শুধু নিজেকে জানার, আয অপরের গুণ বিচার করায় সেই নেশা করা ভালো ।
এই পৃথিবীতে যা কিছু আছে; সবই আমাদের নেশায় আচ্ছন্ন করে রেধেচে সেই আচ্ছন্নতা কাটাতে গেলে নিজেকে জাগানোর নেশা হয় করতে আর জেগে উঠতে পারলেই, বিষকেও অমৃত করার পাওয়া যায় উপয়ি আর অমৃতের স্বাদ গ্রহণে শুধু উপভোগ করা যায় তবে তুই অ তারত নলজেকের জনকী নিজেকে গিয়ে ঘুম-টুম ছেড়ে দিসনা যেন; যত বেশি জাগাতে বেশি নিজেকে জাগাতে চোখ বুজবি; ৩ত পারবি যা এখন আর না চায়ের নেশাটা আমায় করিয়ে বকিয়ে একটু হবে আমায় ।
দে, তারপর আবার ধোঁয়া দিতে সুমন চলে গেলে পাগলাবাবা থেকে এক সূর্যে একবারই শাশ্বতকে বলে তুমি এখন লুচি এসব খেতে অন্ন গ্রহণ করো পারো [ রাতে রুটি, পরোট; একটু মেডিটেশন করে নিও তার সকাল সকাল উঠেই বাসি মুখে করে, স্নান তারপর করে মনে সূর্য প্রণাম মনে দেব-দেবীকে প্রণাম তলায় একঘটি করে জল নেবে দিয়ে প্রণাম আর ওই বেল গাছের সেরে নিও ৫৬।
মুদ্রিত পাতা 57
জ।গতিক ডজ্াগতিক শীশরত ? আচ্ছী তাই করে নেবো, আর আপনাকে সামনে পেলে, আপনাকেই প্রণাম করে নেব/ আমিতো আপনীকেই শুরু মেনেছি । পগলাবারী যঁ ঠিক আছে। শগত আমি একটী প্রশ্ন করতে পারি? পগলাবাবা হ্যা বলো জীনতে ৮াও । শসত আমার কবে দীক্ষা হবে, মাে আমি এাদের মতো মস্ত্র দীকা পেতে পারি? পাগলা বাবা ঃ মন্ত্র দীক্ষা না হলে তোমার এ জীবন ব্যর্থ হবে । তোমাকে আমি সব দেব আর তা পালন ও রক্ষা করার দাযিত্ব তোমাকেই নিতে হবে ।
এ পথে যত এগোবে ততই প্রলোভনের ফাঁদ পেরিয়ে খুব সাবধানে চলতে হবে । গুরু ছাড়া অন্য কোন উপায়ে তা রক্ষা করা যাবে না তোমার গুরু আমার এই দেহ তা নয় । এটি মাধ্যম মাত্র তো । তোমার গুরু জন্ম জন্মাস্তর ধরে আছে আর আমাকে মাধ্যম করে তোমাকে শিক্ষা দেবে, আবার যেদিন তুমি নিজে গুরুত্ব লাভ করবে সেদিন একসাথে মিলে যাবে। তোমার দীক্ষার দিন ঠিক হয়ে গেছে আশীর্বাদের শুধু তোমার গুরুমায়ের প্রয়োজন তাকেও খবর পাঠিয়ে দিয়েছি ।
সময় মতো সেও চলে আসবে । তোমার শুধু_গুরুর আশীর্বাদ নিলে হবে গুরুশক্তি শুরুমা তারও আশীর্বাদের প্রয়োজন নিয়ে তোমাকে তাই তার আশীর্বাদ এগিয়ে যেতে হবে । শাশ্বত : (একেবারে গুরুর পায়ে শুয়ে) বাবা আমায় শক্তি দিন যেন আমি আপনার সারাজীবন দাস হয়েই কাটাতে পারি পাগলাবাবা ঃ (শাশ্বতর মাথায় হাত রেখে) এই অসীম সকলেই । আবার শক্তির দাস আমরা একদিকে দাস ও আর একদিকে একদিকে সেবা একদিকে মিলন তারই অংশ । মিলন । গুরু (শাশ্বতকে সেবা চায় না ।
গুরু তুলে ধরেন) চায় ৫৭।
মুদ্রিত পাতা 58
জগতিক তজাগতিক চায়ের কাপ হাতে; বাবা ঢা হয়ে গেছে ।
সুমন ৪ (সুমনের দিকে ফিরে) আয় বাবা চা টা দে পীগলাবাবা একটু কাপ এগিয়ে দেয়, গলাটী ভিজিয়ে নি/ (সুমন চায়ের পাগলাবাবা চায়ে চুমুক দিতে দিতে উঠে পড়েন) তোেমরা বসো আমি একটু আসচি বলে বেরিয়ে পডেনI সুমন শাশ্বত দালানে বসে পড়ে শশত যেমন এখা গুরুদেকে দেওয়া উপদেশগুলো সাথে মিলতে চাইছে চুপ করে আকাশে দিকে চেয়ে ভাবতে থাকে এনারই বোধ হয় মানুব রুপী ভগবানা যাকে এতো কাছে থেকে পেয়ে তার পদ স্পর্শ করতে পেপেরে জীবন যেন ধন্য হয়ে যায় সুমন : ভাই তোমার দীক্ষার কথা কিছু হল?
শাশ্বত (হাসি মুখে) হ্যা গুরুজী বললেন খুব তাড়াতাড়ি গুরুমা আসছেন। আর তাঁর আশীর্বাদ নিয়েই আমার এ পথের যাত্রা শুরু হবে। সুমন : বাঃ বেশ! তবে তো দারুন ব্যাপার গুরু গুরুমার নিয়েই তুমি তোমার যাত্রা শুরু করবে আশীর্বাদ আর তোমার গুরুমা থাকবে মানে দীক্ষার দিন খুব ভালো ভালো রান্না হবে । ও গুরুমা সব আবার খাওয়া নিজের দাওরা স্বাদ । যে কবার ওনার হাতেই রান্না করেন । সে অপূর্ব শাশ্বত রান্না খেয়েছি তা এখনো তাই বুঝি, ভুলতে পারি নি। না?
তা তুমি গুরুমার হাতের রান্না অনেকবার খেয়েছ সুমন : হ্যা মোটামুটি দু-তিন বার গুরুমা ভোগ রাঁধেন যত বড় বড় পূজা আমরা হয়, তখনই তো ভালবাসি । যতবারই সকল শিষ্যই স্বাদ উপস্থিত ওনার রান্না খুব পেয়েছি । হতে পেরেছি তখনই শাশ্বত : সেই ভোগের আচ্ছা গুরুমা কিরকম সুমন ঃ ? উনিও কেমন আচরণের এমনই কথা আচারণ করেন? বলছো? ৫৮।
মুদ্রিত পাতা 59
জীগতিক তাজ্াগতিক শশরতা : এই যেমন আমাদের শুরুদেব । সুমন (হাসতে হাসতে) না না উনি পীাগলা বাবার মতো না, আমাদের পাগলা বাবাতো কোনো কথী পুরো শেষই করেন না । তাই আমি ওনার কথী একটু কমই বুঝতে পারি আর ওুরুমা উনি তো পুরো কথী ভলভাবে বুঝিয়ে বলেন আর আমাদের সবসময় আগলে আগলেই রাখেন । শাশত ৪ কি ব্যাপারে ওনি তোমাদের আগলে রাখেন?
সুমন : তা তুমি এখন বুঝবে না সবে তে এখন নতুন এসেছো কিছুদিন থাকো তারপর তো বুঝবে, সাধে কি সবাই লোকটাকে পাগলাবাবা বলে । কোন কিছুই ঠিক নেই লোকটার কখন যে কি করে আর কাকে কি বলে, কখনো বলে জন] নিয়ে আয় জল খাবো, আবার জল নিয়ে এলে পরক্ষনেই বলে উঠেন জ্বালাতন করিসনাতো । তোের তেষ্টা তুই মেটা আমার উপর চাপাস না I কে যে আপন আর কে যে পর বোঝা খুব মুশকিল । কখনো খুব হাসতে থাকেন আবার কখনো নির্জনে কিসব ভাবতে ভাবতে কেঁদেও ফেলেন ।
এইসব রূপ দেখলে তুমিও আর ওনার সাথে একা থাকতে চাইবে না, আমি তো একদমই একা থাকতে চাই না / তাই কখনো একা ওনার সাথে কাটাইও নি । আর তুমিও তো দেখলে কখনো বলে নেশা করো আবার কখনো বলেন করো না । কখনো বলে চোখ বুজে থাক আবার কখনো বলেন জেগেই থাক । এই বলবে বেশী বেশী খা এইতো বয়স এরপর আর খেতে পারবি না আবার লোকজন এলে বলে দেখো ছেলেটা কতো খায় তবে ভাই তুমি ভয় পেও না । তোমার করবেন না । সাথে এখন তেমন কিছু তবু আমরা এই পাগলাবাবাকে নিয়ে আছি ।
বেশ ভালোই ভয় দুটো নিয়েই আনন্দতেই সময় পার করে দিই । ওনাকে আবার বেশী দিন না দেখলে মনটা কেমন ভার হয়ে যায়,।
মুদ্রিত পাতা 60
একদম দিন কাটতে চায় নাI খুব টান আছে আমাদের যেমন লোকে বলে তীর্থ স্থান দর্শন করতে গেলে বাবার । তীর্থই তাকে ডাকে আর না ডাকলে সেখানে যাওয়া যায় না ফেন তেমনই আমাদের পাগলা বাবা যে একবার মিশেছে তাকে যেন বার বায তার দিকে টেনে ধরে অদ্ভুত এক ভালোবাসা আপনজনের আভাস যেন ওনার চোখেই পাওয়া যার শাশ্বত : আচ্ছা ভাই তোমার দীক্ষার দিনের কথা মনে আছে । সেদিন কী কী নিয়ম পালন করতে হয়েছিল? তোমার সুমন : ও অনেক কিছু ।
ওতো এখন আমার কিছু মনে নেই তবে খালি পেটে থাকতে হয়েছিল সারাদিন সকাল থেকে বিকাল গড়িয়ে পূজা করেছিলেন গুরুদেব ও গুরুমা অনেক তবে আমায় করতে হয় নি । শুধু ওনারাই করেছিলেন কোন পূজী বেশ ভয়ে ভয়ে এইটুকু ছিলাম মনে আছে । আর কার কি মস্ত্রে দীক্ষা হবে তা জানেন / আর তো তিনিই সেই অনুযায়ী নিয়ম কি হবে তা তিনিই বলে শাশ্বত ঃ দেবেন। তবে কি সবার এক মস্ত্রে দীক্ষা হয় না?
সুমন : না না, কাকে কি দেন এই লাইনে অনেক কাকে আবার ধাপ কোন ধাপে তিনি দীক্ষা দেবেন আছে/ শাশ্বত সে তো তিনিই ও তার মানে বলবেন । ধাপে ধাপে এগোতে হবে ধাপে দীক্ষা হয়েছে? তা তোমার ভাই কোন সুমন ঃ আমি অভিষেক; মানে অভিষেক এক ধাপ হয়ে হয়েছে এরপর গেছে । এবার অভিষেকেরও আর শাক্তাভিষেক । উনি দয়া করলেই আমার আর একটু এগোলেই শাশ্বত এবার তার কি শাক্তাভিষেক আবার অন্য হয়ে যাবে। ধাপ?
সুমন : হ্যা তারপর আবার পূর্ণাভিষেক শাক্তাভিষেকের তারপর আর এক ক্রোম ধাপ । তারপর পূর্ণাভিষেক হলেই এইভাবে লালকাপড় ' চলতে থাকে আর ৬০।
মুদ্রিত পাতা 61
জাগতিক ৩জগতিক শাশত তার মানে আমার অনেকদিন লাগবে এইসব পার করতে । তারপর পাগলা বাবার মতো লাল কাপড় পড়তে পারব। সুমন ৪ তা বলী মুশকিল কতদিন কি লাগবে।
পাগলাবাবl মনে করলে তোমাকে দু-তিন ধাপ এগিয়েও দিতে পারেন আমারতো মণে হয় তোমাকে পাগলাবাবার বেশ পঢ্দ কেমন সুন্দর করে তোমাকে সব বুঝিয়ে বুঝিয়ে কথI বলেন তুমি যে তার অনেকদিনের পরিচিত লোক তা নাহলে কাউকে এক দুদিন দেখে দীক্ষা দিতে রাজি হতেন না তাকে বেশ অনেকদিন ঘোরাতেন, আজ আসো কাল এসো বলে ।
শাশ্বত ৪ ঠিকই বলছ ভাই, আমার মনে হয় উনি যেন আমার খুবই আপনজন যাকে আমি আমার অস্তরে অনুভব করতে পারি / তাঁর কণ্ঠস্বর, তাঁর_ চেহারা, তার হাবভাব সবই যেন আমার বহুদিনের পরিচিত; যিনি আমাকে বারবার দেখা দিযেছেন আর বারবার বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন না হলে আমি হয়তো আর বাঁচতামই না / উনি আমার সব জানেন / তাই আমার এই বিপদ = বুঝে আমাকে এখানে যেন উনিই নিয়ে এসেছেন তবু যেন মনে হয় আরো আগে ওনার সাথে দেখা হলে অনেক ভালো হতো ।
জীবনের এই ৩২টা বছর মিথ্যের বোঝা নিয়ে চলতে হতো না । তবু আর জীবনের ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলোকে ধন্যবাদ জানাতে ইচ্ছে হয় / অনেক দুঃখের স্মৃতিগুলো ওনাকে পাওয়ার পর থেকে আনন্দের সমুদ্রে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে দুঃখ যেন আজ ঘিরে ধরতে পারে না ! এখন আমি আমাকে অনেকটা হালকা বোধ করি জানো ভাই সুমন এই কদিনেই আমি যেন নিজেকে আবার জন্ম দিয়ে ফেলেছি । এখন শুধু হাঁটা আর কথা বলা বাদ দিয়ে শিশুর মতো ওনার_কোলেই পড়ে থাকতে চাই ।
তিনি হাত ধরে হাঁটাবেন আর আমায় আমার আমাকে আমার মুখে বুলি ফোটাবেন / তোমরা শুধু আশীর্বাদ করো যেন আমি তাঁর পথেই চলতে।
মুদ্রিত পাতা 62
জীগতিক তজাগতিক পারি শাশ্বত ভাবাবেশে বলতে কপাগুো পারি আর তাঁর কথাই বলে ঢলে/ মে হয় তোমার মধ্যেও আমার কিঢ না ভাই তুমি পারবে অন্য সুমন কথাগুলো বলো তোমার রকম শক্তি আছে। তুমি যখন মুধের লাগে আর কথাগুলোরও বেশ ভাব কেমন অন্য রকম গভীর আমার অল্প বুদ্ধিতে আমি এইটুকু বুঝেছি । মানে আছে এবজ্া গেলে আগে একজন ভালো মানুব ভালো সাধক হতে হতে ক তারপর সাধক।
য তোমার কথী শুনলেই মনে হয় তুমি এবজা ভালো মানুষ হয়েই আছো এবারে শুধু- পাগলা বাবা ঃ কিরে সুমন তুই গাধা নাকি? (বলতে বলতেই কুটিরে প্রবেশ করলেন) কেন রে তুই তো মানুষই তোরও তো একটা মাথা দুটো হাত দুটো পা / মাঝে মাঝে হাত দুটো পায়ের মতো ব্যবহর করলেও তোকে তো সবাই মানুষই বলে গরু গাধাতো বলে নাা যাক লোকে তোকে মানুষ বললেও আমার কাছে তুই গাধা গর হয়ে থাক তাতে অনেক দাযিত্ব কম পাওয়া যাবে; বন?
সুমন : হ্যাঁ হ্যাঁ তাই ভালো, আমার তাতে কোন দুঃখ নেই । পাগলাবাবা দেখলে শাশ্বত লজ্জা, ঘৃণা, তিন থাকতে এ কেমন লাইন নয; বুঝেছে আমার এই চেলাটা । তা এবার নাও নেকড়েটাকে শান্ত করার তোমার পেটের ব্যবস্থা কর না হলে তো ঘরে চাটাই কিছুই আর আস্ত রাখবে না । সবই মাদুর করে নেবে তোমার দীক্ষার উদরে দিন জায়গা গুরু গুরুমা খালি পেটে ছিলে সেটা মনে খালি পেটে আছে; থেকে আর ঝরিয়ে ছিল সেটা কাপড় নিঙরে মনে এক বালতি ঘাম উপরে কাঁটার নেই ।
একে তো ছিল ঝাড় / ভাদ্র মাস । তার সুমন : আমি বাবা সজারু পাগলাবাবা ছিলাম নাকী? গাছপালা নিজেকে ভাবিস চলাফেরা করা কোনো।
মুদ্রিত পাতা 63
এগগতি তনMতিব জন্ত । তোলল মথIট] বেশ খুলতে পলে মনে '7,U সে যশী "ম ৩৬ে এণঢ দেখেেেনে। শ।।9।৩ বীবী; ৩lঙ আমি শরমটা শর্ধ পাগলাবাণী ৪ ৩; তুমি কন্বে? ৩া করনেো, লুটি বা পরোটা করতে হবে কিশ্ু শুকনো পৌড়ী রুটি আমীর আবার ভালো ঢলেন , সেসব আবার তোমীর জনা ৩৬ তেl? তার সাথে এশঢ আল ভাজা তাড চলবে; দেখি তোমার রাম্ার গুণটী? সুমন ৪ বাবা, বলছিলাম, আলু ভাজীয় তে ৩ার রান্ার শুগ শোশাযাবে না, পাগলাবাবা তোর জিভ তো আবার আলুরদমের রাম্া বুঝতে চাইবে।
তবে তাই হােক আলুর দম । কিত্তু সুমন তুই একটু ওর সাথে হাত লাগিয়ে দিস তা না হলে, আবার ও আমাকে প্রণাম হতে পারবে না । করতে নি্চু সুমন তুই আগে তাড়াতাড়ি সন্ধ্যাটা করে নে, তারপর হাত লাগাস শাশ্বত তুমিও একটু দেখে নিও ও কী কী করছে; কিছুর বোঝার চেষ্টা করো নাI শুধু ভালো করে লক্ষ্য করো সুমন : চলো ভাই, হাত পা ধুয়ে নাও; আর এই কাপড় বদলে নাও । দুজনে হাত-পা ধুয়ে কাপড় বদলে; গুরুকে প্রণাম করে কুটিরে প্রবেশ করে ।
পাগলাবাবা দালানে বসেই মানস সন্ধ্যার ক্রিয়া শুরু করে দিয়েছেন সবে সন্ধ্যা নেমেছে; অন্ধকার ঘন হওয়ার আগেই নিস্তব্ধতা চারিদিকে নেমে এসেছে, দখিনি বাতাস বেশ জোরে জোরে কুটিরের দিকে ধেয়ে আসছে । পাগলাবাবা দু চোখ বুজে নিজেকে এক স্তর হতে আরেক স্তরে নিয়ে ফেলেছেন আস্তে আস্তে হচ্ছেন আর বাহ্যজ্ঞান শূন্য মানস পূজায় তার বাহ্যিক ক্রিয়া যেন সব হারিয়েছেন । এভাবে বেশ কিছুক্ষণ কাটাতে থাকেন ৬৩।
মুদ্রিত পাতা 64
জগতিক অজাগতিক সম্ধ্যা ক্রিয়া শেষ করে শঙ্ধ্বনি দিতে শুরু করে এদিকে_সুমন ক্রিয়া লক্ষ্য করে নিয়েছে দিয়েছে । শাশ্বত ভালভাবে সব এবারে শুরুকে প্রনামকরে তারা তাদের সন্ধ্যা ক্রিয়া সম্পূর্ণ করবে । তারা কুটির থেঁকে বাহিরে আসে, দালানে তখনও পাগলাবাবা রসে অজাগতিক ক্রিয়ায় রত।
সুমন শাশ্বত পাশে বসে পড়ে ডাক দেবার বা পী ছোঁয়ার সাহস করা যাচ্ছে না I আরও বেশ কিছুক্ষণ এভাবে বসে থেকে শাশ্বত সুমনকে জিজ্ঞেস করে আর কতক্ষণ উনি এভাবে বসে থাকবেন? সুমন ইশারায় হাত নাড়িয়ে শাশ্বতকে থামিয়ে 'বাবা' বলে একবার ডেকে ওঠে । পাগলাবাবা সেই চোখ বুজে পাথরের মতোই বসে আছন। নিস্তব্ধতা যেন আরও বেড়ে উঠেছে।
নিঝুম অন্ধকারে হঠাংই বাতাসের আনাগোনা, আরও বেড়ে যায় জোরে জোরে আসতে থাকা হাওয়ায় বড় বড় গাছ গুলো যেন পাগলের মতো আচরণ করছে দূরে বসে থাকা শেয়াল কুকুর গুলো হঠাৎই দালানের কাছে এসে চুপ মেরে বসে পড়ে । গায়ে ছুঁয়ে যাওয়া হাওয়া গুলো যেন অনেকের স্পর্শ অনুভব করাচ্ছে দুজনেরই শরীরটা বেশ ভার ভার লাগতে শুরু করেছে । সুমন ও শাশ্বত একে অপরের কাছে একটু একটু করে একে অপরের গায়ে গা লাগিয়ে বসেছে।
দুজনকেই যেন কোনো অজানা ভয় আঁকড়ে ধরতে চাইছে। এদিকে পাগলাবাবার যেন কোনো হুঁশই নেই । আর সেই একই ভাবেই বসে আছেন; সুমনের ডাক বাবার কান অবধি পৌঁছায়নি । এদিকে সুমনের সাহস করে আবার ডাকার ইচ্ছে করে উঠতে পারছে থাকলেও উপায় না ।
ঠুকঠাক শব্দ তবে এবার কুটিরের ভিতর থেকে কিছু কানে আসতে থাকে বাসন-কাসনগুলো নিজেরাই যেন ভিতরে রাখা থাকছে নিজেদের জায়গা পরিবর্তন করতে শাশ্বত সুমনকে ইশারায় ধরে উঠে কুটিরে ঢুকতে পড়ে আর বলে সুমন শাশ্বতর হাত দুজনে একসাথে ভিতরে প্রবেশ করে । ভিতরে ৬৪।
মুদ্রিত পাতা 65
তখন দীপের আলোয় বেশ শব্দ পরিষ্কারই সব দেখা যাচ্ছে বোঝা গেল কীসের না । বাসন গুলো জড় অবস্থানেই তো নিজের জায়গা মতোই রয়ে আছে । সুমন হ্যারিকেনটা কোনো কথা না বলে জ্বেলে নেয় । দুজনে হ্যারিকেনের আলোতে আরেকবার ভালভাবে চোখ বুলিয়ে নেয় । চোখে কিছু না পড়লেও ঘরটাকে ভরিয়ে রেখেছে একটা খুব সুন্দর গন্ধ সুমন আবার যেতে উশারায় বলে; শাশ্বতকে বাইরে সুমন হাতে হ্যারিকেন নিয়ে আসে ।
দুজনেই বাইরে বেরিয়ে এদিকে আরও বেশ কয়েকট আছে; শেয়াল বেল গাছটা ঘিরে বসে হ্যারিকেনের আলোয় চোখগুলো চক্চক্ করে জ্বলছে। দুজনে আবার হ্যারিকেন_পাশে রেখে দালানের কোন ধরে পাশাপাশি বসে পড়ে খানিক বাদেই কে থেকে জল দে যেন ঘরের বলে ভেতর ডাকতে থাকে শুনতে দুজনেই কান খাড়া করে থাকে । হ্যা ঠিকই তো কে যেন জল কিন্তু দেবার কথা সাহস বলছে ।
করে কেউই আর উঠতে পারছে না I হঠাংই শেয়ালগুলো একসাথে উঠে ভয়ঙ্কর ভাবে উলুধ্বনি দিতে থাকেহ শাশ্বত এবার সুমনকে জাপটে ধরে সুমন হুস হুস করে দালানে দাঁড়িয়েই দূর থেকে শেয়ালগুলোকে তাড়াতে থাকা এবারে বেশ জোরে কানে আসতে থাকে ওরে কে আছিস, একটু জল দেl শাশ্বত আর সুমন একসাথে ঘরে কে? কে? বলে প্রবেশ করে এ কি আপনি এখানে? ওরে একটু জল দে কখন থেকে বলছি । তোরা তো শুনতেই পাসনা মনে হচ্ছে পাগালাবাবা তক্তপোষে পা দুলিয়ে বসে আছেন ।
শাশ্বত বালতি থেকে ঘটি ডুবিয়ে এক ঘটি জল তুলে পাগলাবাবাকে দেয় পাগলা বাবা ওরে গাধা গ্লাসে করে দে, তুই কী কিছুই বুঝিস না? সুমনকে বলে ওঠে । ৬৫।
মুদ্রিত পাতা 66
গ্লাসে করে জল বাড়িয়ে দেয় সুমন ঃ হ্যা বাবা দিচ্ছি; বলে একগ্লাস, দুগ্লাস করে জল খেয়েই চলেছেন পাগলাবাবা ৩ব মিটছে না শাশ্বতকে ইশারায় সিগারেট টা যেন তৃষ্ণণ এগিয়ে দিতে বলেন । পাগলাবাবা চোখ বুঝে সিগারেট টানতে থাকেন । দুজনেই চুপ করে পাশে দাঁড়িয়ে থাকে শাশ্বত সুমনের দিকে চেয়ে কিছু বলতে চায় তখনই বাইরে থেকে ঝপাং করে কিছু পডার শব্দ শুনতে পায় শাশ্বত ফিরে দেখতে গেলে ।
পাগলাবাবা দাঁডাও বলে থামিয়ে দেন আমি কাঠের জ্বালানীর কথা বলে এসেছিলাম বুড়োকা কাঠ নিয়ে এসেছে সুমন যা ওগুলোকে জায়গা মতো রেখে দেl সুমন বাইরে বেরিয়ে গেলে কৌতূহল বশতঃ শাশ্বতও বাইরে বেরিয়ে আসে / লুঙ্গি পরা খালি গা, ষাট উর্দ্ধ বৃদ্ধ বস্তা নামিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বুড়োকা ঃ কাঁধ থেকে গামছা নামিয়ে মুখ-হাত মুছতে মুছতে `কই তোমাদের বাবা ?
উনি জ্বালানি দিতে বলে গেলেন, আমি একটু বেশি করেই এনে দিলাম কারণ তোমাদের এখানে রাতের বেলা বারবার আসতে কেমন গা ছমছম করে ওনাকে একবার প্রণাম করে নিই; তারপর তোমরা একটু এগিয়ে দিও বাবা / তোমাদের এখানে ঢুকতে গিয়ে কাদের যেন ছায়ার মতো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম তাই আর দেরি করব না, কই, বাবা ঘরে আছেন?" শাশ্বত হ্যা আছেন, আসুন, বলে দালানে পা দিতেই 'মা মা ঘর থেকে পাগলাবাবা মাগো মা' বলে চিৎকার করে ওঠেন ।
সকলেই চিৎকার শুনে থমকে দরজার বাইরেই দাঁড়িয়ে পড়ে । তিনজনই খুব অবাক হয়ে যায় । শাশ্বত বলে সুমনকে কী হল ভাই? সুমন ও কিছু নী একটু সাহস বাড়ায় ।
মুদ্রিত পাতা 67
এদিকে বুড়োকা বলে ওঠেন আজ থাক্, আমি বরং বাইরে থেকেই প্রণাম সেরে ফেলি ! উনি মনে হয় ভিতরে একটু ব্যস্তই আছেন । বলেই দালানে ষষ্ঠাঙ্গে প্রণাম করতে শুয়ে পড়েন (বুড়োকার দেখাদেখি সুমন শাশ্বতও একবার প্রণাম ঠুকে নেয় /) চলো বাবারা আমায় একটু পার করে দাওনা, তা না হলে আবার বাড়ি ফিরতে দেরি হয়ে যাবে।
পাগলাবাবা ঃ পাগলাবাবা (ঘরের ভিতর থেকেই) তোমরা ওনাকে দিয়ে দাও একটু জল বাতাসা আর এখান থেকে ঘটির জল আর গুরুপটের ফুল ওনার হাতে দিয়ে দাও বুড়োকা ঃ (পাগলাবাবার গলা পেয়ে) ঘরে আসব বাবা? "বলেই করেন ।" প্রবেশ আনলে কিছু কথা ছিল; আপনার সাথে । পাগলাবাবী ৪78 আপনি চিত্তা বরবেন না, ওদের বলে দিয়েছি; ওরা যে জলটি দেবে; সেটা তিনবার খাওয়ালেই হবে; আর ঐ বালিশের ফুলটা তলায় আজ রেখে দেবেন, তাহলেই বিপদ কেটে যাবে ।
বুডোকা আসলে আমি আপনাবে সব জানাতেই এসেছিলাম কিওত আর বলব? বিছভু মনে না করলে একটী কথা বলব বাবা? পাগলাবাবা হ্যা বলুন না, বুড়োকা ঃ আজ যেন আপনার এখানে ঢুকতেই কেমন ভয় ভ; করছে । শরীরটা যেন ঠাণ্ডা হয়ে আসছিল । কারা যেন আমার দিকেই তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে । তাই ভাবলাম আজ না কাল সকালেই এসে আবার কথা বলব আসলে ওকে তিন দাগ ওষুধ খাওয়াবার পরও খিঁচুনিটা কিছুতেই কমছে না, গায় জ্বরও বেশ আছে । পাগলাবাবা কোন ডাতার দেবালেন? বুড়োকা ঃ ডাক্তার?
শিশির বাবুর ছেলেকে; শিশির বাবু তো আর নেহ ওনার ছেলেই এবন একটু-আধটু ওষুধ দিয়ে দেয় ছেলেটা তো ৬৭।
মুদ্রিত পাতা 68
পাশ না করলেও বাবার ডাক্তারি বইগুলো ম্যাট়্িক পাশ করেছে তাই গ্রামের সবাই ওখানেই যায় েসে ভালোই পড়তে শিখেছে । বাসি খাবার থেকে পেটের ব্যামো হয়েছে। গাীগলাবারী ডসল পুতুলের তাকিয়ে কী ডাক্তার তাইতো? তাই জ্বর ছাড়ছে নী / শাশ্বতর দিকে তাই হবে; এছাড়া আর কী? বলে) আসলে শশ্বরত ৪ শশ্বত (অবাক হয়ে দেখিনি । ওর জ্বর কী থেকে হল? তবে আমি তো ওর পেট টিপে আপনি যখন বলছেন, তখন তাই-ই হবে, আর কিছু হ তেই পারে না ।
পাগলাবাবা ঃ শোন বুড়কা, এই হলো শাশ্বতবাবু, ইনি ডাক্তারি পাশ করা ডাক্তার । কোলকাতা থেকে এসেছেন কোলকাতার বড় বড় হাসপাতালের ডাক্তারি করা ডাক্তার এখন থেকে এখানেই কিছুদিন ডাক্তারি করবেন কাল সকালে পুতুলকে একবার ওনাকে দেখিয়ে নেবেন আজ রাতের ব্যবস্থা এগুলোতেই হয়ে যাবে কোনো ভয় নেই, আর ওনাকে আপনার সামর্থ্য মতো ওনার পারিশ্রমিক দিলেই চলবে) বেশি পয়সা দিতে লাগবে না !
বুঝেছেন বুড়োকা ঃ শাশ্বতর দিকে ফিরে, ও তাই আপনি ডাক্তারি পাশ করা ডাক্তার? আমাদের এই গ্রামেই চিকিংসা করবেন? তবে খুবই উপকার তো হবে । আমাদের আর এখানে তেমন কোনো বড় ডাক্তারই থাকলেও গরিব নেই, মানুষের নেই । সামর্থে তার কাছে যাবার উপায় শ্রাশ্বত সবই বাবার ইচ্ছা, আমার দ্বারা যদি হয়, তবে তো আমার আপনাদের ডাক্তারি কিছু উপকারও আমি নিশ্চয়ই পাশ আমার করাটাই সার্থক জ্ঞান অনুযায়ী হয়ে যাবে ।
পাগলাবাবা কাল যথাসাধ্য থেকে চেষ্টা করব ঘরের আমাদের তলায় শাশ্বতকে পেয়ে যাবেন, নতুন বাজারে ওখানেই গুপ্তাজীর পুতুলকে নিয়ে যাবেন ৬৮।
মুদ্রিত পাতা 69
বুড়োকা ৪ ও নতুনবাজারে? তবে তো কোনো অসুবিধই নেই তা বাবা কাল ওনাকে কখন পাওয়া যাবে? গাগলাবাবা বেলা ১০ থেকে বেলা ১২ টার মধ্যে ওকে ওখানে পাওয়া যাবে; রুগী বাড়লে বিকেলেও যাবে । বুড়োকা ? আচ্ছা আচ্ছী; আপনাকে যে বলে ধন্যবাদ দেব, আসলে আপনি তো সাধারণ মানুষ নন / আপনার দিন ।
একটু পায়়ের ধুলো পাগলাবাবা : ও ঠিক আছে; পায়ে হাত দিতে হবে না, মাটিতেই প্রণাম করুন আর সঙ্গে একটা টাকা থাকলে আমাকে দিয়ে যান, এবার আপনি আসুন আপনার আবার দেরি হয়ে যাবে আর আজ যারা আপনাকে বারবার চেয়ে চেয়ে দেখছিল তারা এখন আপনাকে চিনে নিয়েছে; আর তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবে না / তাই গা ছমছম করবে না / আপনি একাই যেতে পারবেন । আসলে এই সময় ওরা একটু আমার সঙ্গেই সঙ্গ করতে চায়, তাই কে এল আর কে গেল তার উপর একটু বেশিই নজর রাখে ।
যান, আপনি বাড়ি যান । বুড়োকা ঃ আচ্ছা বাবা, আমি তাহলে এখন আসি আপনি শুধু একটু নজর রাখবেন বাবা বলেই ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসে। সুমন শাশ্বত ও দালানে বেরিয়ে আসে সুমন হ্যারিকেনটা তুলে ধরে যাতে বুড়োকা একটু পথ দেখতে পায় বুড়োকা ঃ তোেমরা তোমাদের কাজে যাও বাবা, আমার কাছে টর্চ আছে; আমি চলে যেতে পারব আর কোনো ভয় আমার নেই বলেই বুড়োকা তরতর করে এগিয়ে যায় । এবারে পাগলাবাবা বাইরে বেরিয়ে আসেন।
পাগলাবাবা শাশ্বত, কাল সকালে তুমি আমার সঙ্গে যাবে । তুমি তোমার কর্মস্থল দেখে নিও কাল থেকে সেখানেই তুমি ডাক্তারি করো ।
মুদ্রিত পাতা 70
জগতিক অজাগতিক তাতে হয়তো এই গরিব মানুষগুলোর কিছু সেবা করা ঘাবে ' আনন্দ পাওয়া যায় আর যদি মানুষের সেবায় এক চরম উদ্দেশ্য সং পথে হয় তবে মানুষ হযেও মানুষের পূজা পাওয়া যায় । সং সথে থথকলে নিজেকে অনেক আত্মবিশ্বাসী গড়ে তোলা যায; আর এই বিশ্বাস দিয়ে অনেক অসাধ্য সাধনও অনায়াসেই করে নেওয়া যায় কারণ সং হতেই সত্য আর সত্য হতেই সুরের সৃষ্টি। শেখানে তুমি সং সেখানেই তুমি সত্য । আর তাই তুমিও সেই সুর ।
বেখানে তুমি অসং সেখানেই তুমি অযোগে অসুর । যার স্থান আসতে ভরা পাতাল । সেখানে শুধু অন্ধকারে অনেক পাওয়ার আশা আছে। য। কীনা না দেখতে পাওয়া চাহিদা / তাই তার আর পূর্ণতা আসে গা । তখনই মানুষ গুলো আবার অ-যোগে অমানুষ হয়ে দাঁড়ায় । নিচে আসক্তি উপরে শূন্য, মানুষ থাকে ঠিক, মাঝ বরাবর ঝুলন্তুর দড়়ির উপর দাঁড়িয়ে যেখানে চাহিদার ভার বাড়লেই ছিঁড়ে পড়বে পাতালে আর নিজেকে শূন্য করতে পারলেই শূন্যে মিশে যাবে ।
তাইতো মানুষ সুর ও অসুরে গড়া । জাগলে সুরের চিন্তা, মিটবে সকল তৃষ্ণা / পূণ কলস চাহিবে না আর, মিথ্যা সুখের খেলনা । যার আমি আজ তারই হব, শূন্য আমার ভাবনা সকল কাজে মা যে আমার, তাই যেন থাকে আমার ভাবনা । পাগলাবাবা হাত তালি দিয়ে মোহিত হয়ে গেয়ে চলেন, পাগলাবাবাকে সুমন আর শাশ্বত যে ভাবে দেখতে আবদ্ধ থাকেন । হয়ে কী শাশ্বতও অপূর্ব তাঁর ভাব । এবার গেয়ে ওঠে ৭0।
মুদ্রিত পাতা 71
মায়ের কোলে শিশুর (েল, সকল বাঁধা আড়াল করা । দাও না মাগI শূন্য করে, ভাসাই তরী মেঘের ভেলা । ভোরের আলো উঠুক মনে; জাগব শুধু মা মা বলে গুরুর আশীষ নিয়েই তবে, মরণ যেন মা আমায় ধরে । । শাশ্বতর দুচোখ বেয়ে জলের ধারা বয়ে চলে । সুমন আর নিজেকে আটকাতে না পেরে পাগলাবাবার চরণে শুয়ে পড়ে। পাগলাবাবা সুমনকে তুলে জড়িয়ে ধরে আয় আয় আমার আয় বলে আঁকড়ে বুকে ধরে সুমন আর শাশ্বত অঝোরে কাঁদতে থাকে ।
পাগলাবাবা আরেক হাতে শাশ্বত কে টেনে নেন েওরে আর বলেন তোরা বড় ভালো রে তোদের অনেক ভাব আছে; শুধু একটু কর্মের অভাব, যা আমি তোেদের দেব " তারপর তোদের খেলা রাম চাই না রাবণ হব । নে, এখন এসব বাদ দেl কী কাজ আছে । সেগুলো করে ফেল তা না হলে ভাবের ঘোরে হয়ে যাবে ।
সব ভুল শাশ্বত ও সুমন কথামতো নিজেদের সামলে নেয় ও রান্নার কাজে এগিয়ে যায় পাগলাবাবা দালানে একাই বসে আছেন দুটো কুকুর পাগলা বাবার কাছে উঠে আসে, পাগলাবাবা ওদের গায়ে হাত বোলাতে থাকেন কুকুর দুটো পাগলাবাবাকে আগলে যেন দু-পাশে বসে পড়ে । এদিকে সুমন উনুনে কাঠ সাজাতে থাকে শাশ্বতর মনে আনাগোনা করে অনেক প্রশ্ন, যা কিছু এতক্ষণ ঘটল, তার হয়তো বাস্তবিক অর্থ মেলা ভার । এসব কী যে ঘটে চলেছে; আমার স্বপ্ন নাকী সত্যি?
মুদ্রিত পাতা 72
সুমন ৪ এই যে ভাই শাশ্বত । নাও তোমার রান্না শুরু করে দাও উনুনের কাঠ ভালই জ্বলে উঠেছে শশত ৪ হ্যঁাঁ ভাই, উনুনে কড়াই বসিয়ে রামা করতে করতে কিস্ত আজ মেলাতে পারছি না । ২ দেখলাম, কিছুতেই কিছু সুমন মেলাবে; একি তোমার অঙ্ক নাকি, তাই এসব মিলবেও আমার তো এই সব দেখে কেমন ভয় ভয়ই লাগছিল ;। ভাগ্যিস তুমি ছিলে; তা না হলে একা থাকলে কি যে হতো আজ আমার?
শাশ্বত : তুমি ঠিকই বলছ ভাই, আমারও মনে হয় একই অবস্থা এনাব সাথে একা থাকা বেশ ভয়েরই, আবার বেশ আনন্দ লাগে । কখন যে কি হয় লোকে মিরাকেলের পেছনে ছোটে আর আমরা তো নিয়েই থাকি । কি বল? সুমন তা যা বলেছো ভাই । আমাদের এইসব অভিজ্ঞতার কথা কেউ্ মানতেই চাইবে না / তবে এসব কি ঘটছে তার রহস্যটা হবে । পাগলাবাবা কে একবার জানতে ধরতে হবে জানতে কিভাবে এই সব অবিশ্বাস্য কাজকারবার হবে উনি করতে পারেন ।
শাশ্বত : তা তো নিশ্চই জানতেই হবে কিন্তু পাগলাবাবা কে করবে কে? জিজ্ঞেস সুমন ঃ কেন? তুমি, তুমি তো আছ বলবেন ও না । বরং আর তোমায় উনি কিছু খারাপ ভাবে তো তোর তো বেশং বডদ্বিলি ভালবে বোঝাবেন / আর আমায়? এই মাথাটা ঠাণ্ডা করে বুদ্ধি খুলে ছে; তুই আর একটু লুচি খেেয়ে তুমিই বল আমি নে; তাহলেই সব বুঝে যাবি । তার বরং তোমার চেয়ে ভাল শাশ্বত ঃ পাশে বসে তবে থাক; শুনে না, না নেব আমার এখন পারব এখন না, ওঁনাকে আর কিছু দিন বেশ ভয় লাগে ।
আমি তবে ভাই সুমন যাক পরে এসব এখন না হয় থাক / জেনে নেব করতে পারছ নিশ্চই । কারণটাও কানে আমরা যা তো তুমি আঁচ পৌঁছচ্ছে বলাবলি করছি সবই ওনার।
মুদ্রিত পাতা 73
সুমন ঃ ওরে বাবা আমি তো কান নয় লম্বকর্ণ ভুলেই গেছিলাম ওনার তে আবার শুপু যা এক কিলোমিটার নেবেন, যাক কাজে দুর খেকে বশেও শু মন দও এইদিকে পাগলাবাবা দলাে নিজের মনেই বসে তকাশের দিবে ঢেযে চেয়ে হাসছ ৩ার মুখে বলছেন । হঠাৎই এই বিড়বিড় কর শেো ^গ1 সমুন বলে ডেকে ওঠেন সুমন ঃ (হাতের কাজ ফেলে ডাকছিলেন? তাড়াতাড়ি ছুটে আসে) বলুন বাবা আমাকে পাগলাবাবা ঃ আয়, আয় এদিকে আয় (আকাশের দিকে আকাশের কি দেখা তাকিয়ে) ঐ দেখ যাচ্ছে?
ভাবে তাকিয়ে (সুমন ও আকাশের দিকে বেশ ভাল দেখতে থাকে ।) কিছুক্ষণ দেখর পর সুমন ঃ বলে বাবা, কিছুই তো তেমন দেখা যাচ্ছে না? পাগলাবাবা ঃ কেন রে? তুই তারাগুলো তারাগুলোও দেখতে পাচ্ছিস না? ঐ দেখ কত দূরে আছে; পরিস্কার তবুও তোের চোখ দিয়ে তা কেমন দেখতে পাচ্ছিস । আবার একটা তারার তারাও তো দেখতে মাঝে আর একটা পাচ্ছিস আর অংশে কি যে দুটো তারার মাঝের ফাঁকা দেখতে পাচ্ছিস বল তো? সুমন ঃ বাবা; কিছুই তো নেই, শুধু একটু কালো মেঘ দেখা যাচ্ছে ।
পাগলাবাবা ঃ হ্যঁ, ঠিক তোের চোখ দুটোর মত, তাই না; তোর চোখের মাঝে ফাঁকা দুটো অংশে এখনও বল? তাই ঐ একটু কালো মেঘ আছে; কি দুই তারার মাঝে কালো মেঘই চলে আসছে । সুমন ঃ তার মানে; আমার চোখ দুটোর মধ্যিখানের অংশ? দুই চোখের ব্যবধানে যে ফাঁক আছে; তাই কিছু দেখতে পাচ্ছি না? পাগলাবাবা হ্যা, অনেকটা ধরেছিস, ঐ মেঘ সরাতে মেঘ গেলে আগে মনের সরাতে হবে । তবে আর এক চোখের দৃষ্টি পাবে দেখা যাবে আর কি কি আছে । তখনই চোখ বুঝে কখনও তারা দেখর ৭৩।
মুদ্রিত পাতা 74
চেষ্টা করেছিস? কখনও সময় করে একা আকাশের দিবে ত? মনের চোখ দিয়ে ঐ তারা দেখার চেক্টা করবি ।
দেববি, ঔ দ043 তারা গুলোর কত কাছে পৌছে যাওয়া যায় আারতকয জব পরশ অনুভব করা যায় আসলে আমরা আমাদের এই চোখ দুটো দিয়ে যাহ দেবতে তাই মানি আর যা আমাদের চোখ দেখতে পার না, তা রগ মানতেও চাই না, বা মানি না / তার মানে এই নয় যা দেশ (7 না তা হয় না / (শাশ্বত এবার সুমনের পাশে এসে দাঁড়ায় ।) এমন অনেক কি>্ুঃ আমাদের এই জীবজগতে রযে যায় আর আমাদের সডে7% চারপাশে ঘুরে বেড়ায় তা আমাদের এই খালি চোবে ধর পঢ় না আবার অজাগতিক যা কিছু তা অন্তর দৃষ্টিতেই দেখতে পঙ্ যায় আর সেই দেখায় অন্তরেই তাঁকে অনুভবও করার ।
জাগততত দৃষ্টিতে শুধু ভেদ ভাবনাই জন্মায় আর আমিত্ব বাড়ায়] তট নিজেকে মাঝে মাঝে কোনো নিরিবিলিতে নিযে গিয়ে এরবরর একা হতে হয় । যাতে করে সে তার অন্তরের সঙ্গেই শুধু সত্রব হতে পারে বুঝলে শাশ্বত? শাশ্বত কোনো উত্তর না করেই শুধু মাথা নেড়ে 'হ্যাঁ' সম্মতি জানার] সুমন : তবে বাবা এখন থেকে আমাকে করতে হবে? পাগলাবাবা ঃ তোকে সে পথ দেওয়াই আছে তুই একটু সময় করে মন দিয়ে জপ, ধ্যান এসব করে যা।
এই ক্রিয়া ঠিক মত করলেই তের অনেক প্রশ্নের উত্তর আপনা আপনিই এসে যাবেI আর সেই ক্রিয়া থেকে যে শক্তি সঞ্চয় হবে তাই দিয়ে জাগতিকের সাথে লড়াই করে অজাগতিকের দিকেই নিয়ে যাবে বুঝলি । শাশ্বত এপথে লড়াই আছে অনেক; যা কিনা নিজেকে প্রতিপঙ্ক করে নিজেকেই পরাস্তু করে বিজয়ী হয়ে এগিয়ে চলা । তবে নাও এখন অনেক রাত হল কথা চলতে থাকলে এমন অনৎ ৭8।
মুদ্রিত পাতা 75
জাগতিক তাজীগতিক রাত কেটে 7াব তঠ এগণ হল শাশ্ত? ঐপব 4ঁকI েেয 777স17 শাশ্বত : হ্যা বাবা হয়েই গেছে নিয়ে শ1ু শুটি কটী বাঁক। '"1 @"' 74 আসছি । সুমন : তবে বাবা আমিও যহ? পাগলাবাবা ঃ হ্যাঁ যা, তবে তোের মাথার ঔপর সর বস সাবস ঝা777 শুরু করেছে ঘামটা একটু দল দিবে ধুরে নাব 44/;/7। সরমরয তাড়াতাড়ি করে ঘাম মুছে, না বাবi তেমন শদানি নি।
পঁ ৫ে7য আপনার খাবারটা নিয়ে আসছি বকগেং সামাবস খানিক বাদেই দi 71 সুমন দালানে পাগলাবাবার ডন্য হা পড় গরম লুচি আর আলুর দম ভোগের গালার চত্ন সাগ? " নিয়ে আসেI সুমন ৪ বাবা আসুন আপনার খাবার এসে গেছে। এরেবারে স47 সচ1 পাগলাবাবা ঃ (আসনে এসে বসেন) আর তুই ঠাণ্ডা খাবি রেন ব কুত? গরম গরম লুচি নিয়ে এক সাথেই বসে পড়। আয কয' ৫ে সাথেই গ্রহণ করি আজ।
শাশ্বত সুমনও কথা মতো আসন পেতে লুচির গালা নিয়ে বসে পড়ে পাগলাবাবা গণ্ডুস করে খাওয়া শুরু করেন এক গল মুৎে তুলেই বাঃ বেশ ভাল স্বাদ হয়েছে তো আজ রান্নার [" বলে আপন মনে খেতে থাকেন চোখ বুড্ভে সুমন শাশ্বতও শুরু করে দেয় দুজনেই লুচি আলুরদম এ গল মুখে তুলেই একে অপরের দিকে চায় । সুমন ঃ আরে নুন তো বেশ চড়া । শাশ্বত হ্যাঁ, খুব বেশিই লাগছে। মনে হয় ভুলে দুবার দির়ে তেলেছি। এখন কি হবে? ৭৫।
মুদ্রিত পাতা 76
জাগতিক তজাগতিক "।9।4।।1।;1। (।।।[।1।1।41 1"।6। ক।ে যায়) নুন বেশি হয়েছে ফ ৩মি তে তেমন বুঝিণি দেখতেো সুমন বলে নিজের পাত থেকে ৩ণ ঢ %টি ৩লুর দম প্রসাদ পরূপ তুলে দেন শাশতর দিকে ফি;1 তুশিও দেখতে পরো ^।।4।৩ ৩০1 ৩।ম।1ও একঢ প্রসাদ দিণ বাবা প।গল।4।4। শ।ৈ৩র ৩৩ও প।ত্র থেকে একটু তুলে দেন এ 7৫ "2 দুজনেই পাগলাবাবার প্রসাদ পেয়ে ভক্তি ভরে মুখে তোলে তর ৩ব।ক কই নুন তো একেবারেই ঠিক ।
সুমন বাবা আপনারটী তো ঠিকই আছে নুন চড়া নয় তো পাগলাবাবা তাই তো বলি একটু ভূমিতে ফেলে গ্রহণ কর যেটা সেটা মাটি ঠিক টেনে নেবে শাশ্বত : (তেমন কিছু না বুঝেই) একটু মাটিতে ফেলে খাব বাবা পাগলাবাবা ঃ হ্যঁ, হ্যঁ আর একটু জল ও তাতে দিয়ে দিও তাহলে দেখবে জলে নুন মিশে সব ঠিক হয়ে যাবে । সুমন শাশ্বত দুজনেই একই ক্রিয়া করে তারপর সব যেন ঠিক হয়ে যায় । মুখে তুলতেই সুমন : (অবাক হয়ে) নুন তো আর চড়া নেই সব ঠিক হয়ে গেছে।
পাগলাবাবা খেতে খেতে বেশি কথা বলতে নেই এখন চুপ করে খেয়ে উঠে পড় । বলে নিজেও আবার শাশ্বত আর চোখ বুজে খেতে থাকেন । সুমন কথা না বাড়িয়ে নিজেদের পাগলাবাবা উঠে গেলে খাবার শেষ করে দালান পাগলাবাবার শয্যার পরিষ্কার করে নেয় ব্যবস্থা সুমন নিজেদের বিছানা করে দেয় কুটিরের ভেতরে দালানে আর পাতে । পাগলাবাবা কাল সকাল সকাল উঠে করেন পড়ো তোমরা (বলে) কুটিরে প্রবেশ ৭৬।
মুদ্রিত পাতা 77
শাশ্বত একটা সিগারেট জ্বালিয়ে বললে নাতো সুমনকে বলে ভাই রান্নাটা কেমন হল সুমন কেন? সেতো পাগলাবাবাই বললেন দেখলে না বুজে আপন মনে কেমন চোখ খেয়ে উঠলেন শশ্বত : (একটু হেসে) আসলে যা করার তো উনিই আর যা কম তা করলনো যা বেশি ওনার ভেলকিতেই ঠিক হয়ে গেল । সুমন : কিসের ভেলকি? তুমি বলতে চাইছ তার মাণে আমরী মাটিতে ফেলে খেলুম সেটা কি শুধু শুধু। মাটিতে কিছু হয় না?
ফেলে খেলে শাশ্বত ঃ আমার তো মনে হয় না / অমন খেতে খেতে হয়ত তোমারও অনেক সময় মাটিতে পড়ে থাকবে তাতে কি আর কোন দিন রান্নার স্বাদ বদলেছে; আমার তো এমন কোন দিন বদলায় নি । তা তুমি ভেবে বল তো ভাই । সুমন : ঠিকই বলেছ । আমি তো অত শত ভাবি নি, ওটা ওনার ভেলকিই ছিল । তাই আর বেশি কথা উনি বলতে দিলেন না পাছে আমি কিছু জিজ্ঞেস করি শাশ্বত : সব শুনছে কিত্তু / সূমন : না না এখন ঘুমিয়ে পড়েছেন । উনি আবার বেশি রাত জাগেন না ।
আর যদি কোনো রেকর্ডিং এর ব্যবস্থা থাকে তবে কাল সকালে আমায় আবার ধরবেন । শাশ্বত ঃ (একটু হো হো করে হেসে উঠে) তা যা বলেছ ভাই । তবে যা লোক তিনি, রেকর্ডিং শোনার মত সময় তাঁর নেই । তাই এখন যা খুশি বলা যায় কোনো ভয় নেই। (দুজনে দুজনের মধ্যে একটু হাসাহাসি করে ।) সুমন : না ভাই, এখনই শুয়ে পড়ি সকালে আবার উঠতে হবে জানি 99।
মুদ্রিত পাতা 78
সহজেই ঘুমোতে কথী জমা আছে যা দেবে না, কিত্তুব অনেক এশন ভেবেও লাভ নেই । এেসব বুড়োকার ঘটনাটা যে হল, পুতুলের শ।শরতঃ ৪ তা ঠিক; তবে জ্বর সেট বেশ ভাবাচ্ছে । একবার এখনই পুতুলকে নিয়ে আমীয় দেখতে ইচ্ছে করছে । তার আসলে কি থেকে গে যেতে রোগটা হয় তা আমিও জানি তঃ_ খাবার থেকে যে এমন রোগ ৩বুও মনটী যেন হয়তো ডাক্তার বলে ছটফট করছে । তবে ওর খাবার থেকেত হয়েছে ।
কারণ পীগলাবাবা যখন বলছেন তার অন্য কিছু থ, না তবুও একবার নাড়িটা আর পেটটা টিপে দেখতে ইচ্ছে তন্। সমন ৪ আমায় আবার; পাগলাবাবা যে কখন ঘরে ঢুকে গেলেন পেটা নিয়ে খুব ভাবাচ্ছে । ভাই শাশ্বত, তুমি কি দেখেছিলে? পাগলাবাবা কখন ঘরে ঢুকে গেলেন? শাশ্বত : না, না, উনি তো দালানে পাথরের মতই বসে ছিলেন ।
শেয়ালগুলো ডেকে উঠল তখনই আমার চোখ দুটো অন্যদিকে ফেরালাম আগে তো ওনার দিকেই চেয়েছিলাম ৩ায সুমন : আরে বাবা শেয়ালগুলোও তখনই ওইরকম ছমছমে পরিবেশে ভয়ঙ্কর ভাবে একসাথে ডেকে উঠল / আমি অসুবিধে তো হবে পাগলাবাবার ভেবেই সাহস করে তাড়াতে শাশ্বত : গিয়েছিলাম । কিন্তু শেয়ালগুলো ডাকার কিছু ভেতর আগে থেকেই কে যেন থেকে জল দাও জল দাও ঘরের সুমন : বলে ডাকছিল । হ্যাঁ, হ্যাঁ তুমিও শুনেছিলে, শোনার আমি ভাবলুম ভুল ।
কিন্তু আমিও আমারই বোধ হয় শুনেছিলাম; কারোর আর ভয় জল দাও জল দাও বলে ডাক শাশ্বত পেয়ে তবে উঠে যাই নি । ব্যাপার আর বলো একজন তো? বাইরে ? মানুষটা দুটো নাকি? একজন ঘরে ৭৮।
মুদ্রিত পাতা 79
জাগতিক অঙ্গত্তিক যদি দুটো হয় তবে জার একজ্রন গেলেন কোপায়? এ কি সব বলছ তুমি ? কোনটী আসল কোনটী ভূত বুঝব কেমন করে? একে তে] সারা সম্ধে যা গেল তার উপরে তূমি এখন আবার এসব বলে ভয়় দেখচ আসলে আমিও একবার ভেবেছিলাম কিস্তুর রাতটী এখানেই পার করতে হবে ভেবে ভাবনাতে তেমন আর বেশি জোর দিই নি/ আমার মনে হয় এসব নিয়ে কাল সকালেে আলোচন] করা ভালো । তুমি এবার একটু অন্যরকম ভালো ভালো কথী বলত এসব ব্রাদ দিয়ে শমত আরে ভাই; উনি ভূত হতে যাবেন কেন?
শুনলে না, বুড়োকাকে বললেন ভূত থাকে বাইরে যারা ওনার কাছে কথা বলতে আনে । ওরা আবার সব নজরও রাখে আগের দিন রাতে আনিও বিছু টের পেয়েছিলাম এখানে; তবে দাদা বৌদি থাকায় রাতটা যা হোেক করে পার করে দিয়েছিলাম । সুমন : এই যে ভাই, তুমি আবার কি শুরু করলে বল তো? তুমি কি বলছ নিজে বুঝতে পারছ তো? আজও কিত্তু আমরা বাইরেই শুয়ে আছি ।
তুমি ভুলে গেছ বোধহয় তুমি বা দিক ঘুরলেই তোমার চোখে ওই বেল গাছটা পড়বে; আমি বাদিক ফিরবই না / তাতে যা খুশি হয়ে যাক । এই চাদরটা নিলাম বলেই (চাদরটা ভালভাবে মাথা থেকে পা পর্যস্ত মুড়ি দিয়ে নেয় ।) বেশ ঠাণ্ডা হাওয়া বইছে । শাশ্বতও আর কথা না বাড়িয়ে চাদরটা ঢেনে নেয় আর তখনই পাশে শুয়ে থাকা কুকুর দুটো ঘেউ ঘেউ করে গেটের দিকে ছুটে যায় । সুমন : হল বলত?
(পাশ না ফিরেই জিজ্ঞেস করে ওঠে শাশ্বত : না, ঠিক বুঝলাম না, কুকুরগুলো মনে হয় কাউকে গেটের বাইরে তাড়য়ে চলে এলো সুমন ঃ ও, তা আর বুঝে কাজ নেই, যা খুশি হোেক কাল ভাবছি একবার বাড়ি যাব, পরে আবার আসব এখন ঘুমিয়ে পড় আর কথা নয় । ৭৯।
মুদ্রিত পাতা 80
বুঝলেই কি ঘুম এসে যাবে? কেমন যেন আরে চোখ হচ্ছে, শুনতে পাচ্ছ না? কিসের সর-সর শরাশ্রত আওয়াজ করে কিসবের আঙ্াত বলত ভাই? জানি না, আর আমি শুনতেও চাই না । আমি আর সুমন : পাগলাবাবা বললেন না ওনারা বুড়োকাকে চিনে আরে ( নিয়েছেন শাশ্বত ঃ তো তনেক আগে থেকেই আছি আমাদের তো তী আমরা ডায চিনে ফেলেছে তাই আমাদের তো কিছু ভালভাবেই করবে /। হ্যা, হ্যা তবে তেঁনাদের পাগলাবাবার কথাও কিছু শোনা সুমন : (উচিত।
উনি যে আমাদের বলে গেলেন কাল সকাল সকাল উঠে পড়তে তা আমাদের সঙ্গে সঙ্গে ওনারাও শুনেছেন এবারে ওনারা বিশ্রাম নিলে আমরাও শান্তিতে ঘুমোতে পারি আমার এররয আমার এখনকার কথাটাও নিশ্চই ওনারা শুনতে পেয়েছেন । কথটী শেষ হতে না হতেই বেল গাছ থেকে যেন একটা ঝপাং করে মাটিতে পড়়ে শাশ্বত ঘুরে দেখতেই চমকে উঠে একি? এটা কি একটা কাটা মুণ্ডু আমাদের দিকে গড়িয়ে আসছে ।
সুমন ঃ (কথাটা শুনে) ওরে বাবা বলে গুরুমস্ত্র জপ কর তাহলে ভাং কিছু করবে না বলেই চাদরটা আরও ভালভাবে মুড়ি দিয়ে চুং হয়ে যায়় । শাশ্বত ঃ ভাই সুমন, মনে হচ্ছে থেমে গেছে একটু ঘুরে দেখব? সুমন ঃ না, না, একদম নয় আমায় দেখিও না, ধরে ঘুমিয়ে পড় [ অকারণ সাহ্বা আর কথাও বল না ।
শাশ্বত সুমনকে খানিক চেপে ধরে বাদেই 'জয়গুরু' আবার বলে চোখ বুজে থাবে কানে কারোর আসতে কথা বলার আওয়াজ যেন শাশ্বতর থাকে ঠিক শুনছি তো শাশ্বত ভালভাবে নাকি একটু শোনার চেষ্টী করে। মনের ভুল? না, ঠিকই তো শুনছি বোদ ৮০।
মুদ্রিত পাতা 81
মানুষের কণ্ঠস্বর বলে মনে হচ্ছে ধাক্কা দিয়ে ডাকে । শাশ্বত এবার সুমনকে একটু ভাই শোন এই যে ভাই সুমন । সুমন ঃ আবার কি হল? শাশ্বত কে যেন কথা বলছে শুনতে পারছ? সুমন ঃ এবার কান খাঁড়া করে শোনে, হ্যাঁ পাচ্ছি বলে শাশ্বতর দিকে ফেরে / আরে ভাই কটা বাজে দেখত?
শশ্বত ৪ শাশ্বত এবার নিজের হাতের ঘড়়ির দিকে নজর দেয় অন্ধকারে ভাল বোঝা যাচ্ছে না একটু আলো দেখাও হ্যারিকেনটা কম তো মাথার উপর করে জ্বালানো সুমন তুলে ধরে আরে ৪টে ১৫ বাজে তো ভোর হয়ে গেছে । সুমন ঃ ৪টে বেজে গেছে । পাগলাবাবা প্রাতঃকৃত্য করছেন তারই গলার স্বর শাশ্বত ৪ আরে ভোর হয়ে গেল, আমরা যে কখন ঘুমলাম পারছি না কিছুই বুঝতে সুমন : তাই তো এই তো চোখ বুজলাম কি হচ্ছে?
শাশ্বত ঃ (আকাশের দিকে চেয়ে) একটু একটু আলো ফুটছে তবে অন্ধকার এখনো কাটেনি । এখন নাকি উঠে পড়তে হবে ভাই, চোখ দুটো জ্বালা জ্বালা করছে। সুমন ঃ না না আর একটু পরে ৫টা বাজুক না / আর একটু ঘুমিয়ে নাও বলে চোখ বুজে শুয়ে থাকে। পাগলাবাবা প্রাতঃকৃত্য শেষ করে বাইরে বেরিয়ে আসেন । ভোরের আলোয় বেল গাছের কাছে গিয়ে একটু প্রাণায়াম করেন সবে তখন আলো ফুটেছে; আকাশের দিকে চেয়ে সূর্য প্রণাম করেন ।
তারপর নিজেই চা বানাতে রান্না ঘরে ঢুকে যান আর এক কাপ চা নিয়ে এসে শাশ্বত ও সুমনকে ওঠ ওঠ বলে ডেকে তোলেন । (শাশ্বত সুমন উঠেই একসাথে গুরু প্রণাম করে ।) ৮১।
মুদ্রিত পাতা 82
পাগলাবাবা এই নাও শাপত তোমার চা। শাশ্বত শাশ্বত চায়ের কাপ ধরে, এ বাবা আপনি আমাঘ্ন এক্ঢু ভেরে দিতেন আমি চা বানিয়ে দিতাম পাগলাবাবা ঠিক আছে চা টা খেয়ে নাও রাতে রৌধহয় সেনে ভাল ঘুম হয় নি/ শাশ্বত ঃ না ঠিক আছে বলে পাশ কাটায় । পাগলাবাবা আবার কুটিরের ভিতর চলে যান / সুমন শাশ্বত দলানে উঠে বসে । সুমন ঃ ওঃ রাতে যা হল আর ভালো ঘুম হবে কিভাবে? (শাশ্বতের দিকে ফিরে) কি যেন বলছিলে না রাতে। কার কি কাটা মুণ্ডু ছুটে আসছিল ।
শাশ্বত ঃ হ্যাঁ, আরে বাবা আমিতো দেখলাম মনে হল, একটা কাটা মূণড এদিকেই গড়িয়ে আসছিল । খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম [ সুমন ঃ এই ঘটনাটা পাগলাবাবাকে জানাতেই হবে । এসব ঠিক না । এন হলে লোকে এখানে থাকবে কি ভাবে? শাশ্বত ৪ দাঁড়াও দেখি তো ওটা আসলে কি ছিল ! (বলেই উঠে দাঁড়়িযে পডে) এদিক ওদিক দেখে আরে ভাই সুমন এই দেখ, এটাই গাড়িয়েছিল ।
সুমন ঃ আরে এটাতো একটা পাকা বেল, তুমি না ভাই বড়ো ভীতু; ভালোভাবে না দেখেই এমন সব কথা বলো যে যেকোন লোক হার্টফেল করবে তোমার কথা শুনে । তবে বাবা শান্তি হল, আমি তো মনে মনে ভেবেছিলাম পাগলাবাবাকে বলব এর একটা বিহিত করতে । শাশ্বত : না ভাই আসলে আমিও ভালোভাবে দেখি নি অন্ধকারেতো ঠিক বুঝে উঠতে পারি নি । তবে গোল মাথার মতোই লাগছিল, যাক।
মুদ্রিত পাতা 83
জাগতিক অজ্জাগতিক আর ৬য়় নেই তাহলে তুমিও আর আজ বাডি যাচ্ছে শা তে? তুমি চলে গেলে আমারও খুব অসুবিধী হরবে এখানে একা থাকী মুখের কথী নয। তৃমিতো ৩া জানই । ৩া ১ি৭ আছে দেখি তাহলে আজও তোমার Cনlা পেকে যাব। সুমন ৮া হাল তূমি আবার একী থেকে খুব ভয়় পাবে। পগলাবাবা (পাগলাবাবা কুটির থেকে বেরিয়ে আসেন) শশত তোমার যা কাজ আছে করে নাও আর একটু পরেই আমার সাথে বেরবে ! আমি এখন একটু আসছি তারপর তোমায় নিয়ে যাব ।
(সুমনের দিকে ফিরে) সুমন তুই যদি বাড়ি যেতে চাস তবে যেতে পারিস । কিম্তু একটু দেখিস তোকে আবার সবাই ভালোভাবে চিনে নিয়েছে তো, আর তারা তোকে খুব ভালোওবেসে ফেলেছে আমাকে বলছিল তোর কথা, তোর নাকি খুব সাহস আছে । বাকিরা সবাই তো ওদের ভয়ই পায় / তাই তারা তোর সাথে থাকতে চায় আর তুই কোথাও গেলেও তোর সাথে যেতে চাইবে । কাল রাতের কাটা মুণ্ডটা বুড়োকার ভাই এর ছিল।
সে একবছর আগে ট্রেনে গলা দিয়েছিল কাল যখন বুড়োকা এসেছিল সে বুড়োকার সাথেই এখানে চলে এসেছিল আর এখানেই থেকে যায় কুকুরগুলো একবার তাড়িয়ে দিয়েছিল তা না হলে তোর থেকে জল চাইত। খুবই কষ্ট পাচ্ছে তাই আর কি করবে বল ভেবেছিল তুই একটু জল দিবি । কিত্তু একবার কুকুরগুলো তাড়ালো আর একবার তোর গুরুমন্ত্র জপ আটকে দিল তা নাহলে তোকেই ডেকে তুলত শাশ্বত নতুন, ওকে বিশেষ পাত্তা দিত না / তুইতো আবার শাশ্বতর থেকে বেশি সাহসীও ।
চেঁচামেচিও করতিস না / কি তাইতো কি বল । সুমন : না এমন নয় । একটু তো ভয় লাগতই । পাগলাবাবা হ্যাঁ সেটাই তো ওরা বলছিল বেশি ভয় তোর লাগত না । তাই তোকেই ওদের' খুব পছন্দ। ৮৩।
মুদ্রিত পাতা 84
জাগতিক অজ্াগতিক সুমন ঃ কিম্তু বাবা আমি আবার এইসব বেশি ভালবাসি না / তাই আমার কাছে আর ওদের আসতে বারণ করে দিন । পাগলাবাবা ঃ তা তুই বলে দিস / আমি আবার তোদের মাঝে থাকতে চাই না / তাই তোদের ভালোবাসাবাসি তোরাই বুঝে নে । আমি এখন আসছি তুই ভেবে জানাস তুই কি করবি । সুমন : আরে ভাবার আছে ।
আমি এখন অত শক্তিশালী হয় যে ওদের নিয়ে চলবো / আপনি একটু ওদের বুঝিয়ে দিন আমি এখন পারবো না একে তো ওদের ভয়েই বাড়ি চলে যেতে চাইছিলাম এখন বলে কি না আমার সাথেই যাবে না না বাবা আমার এসবে বড় ভয় করে দয়া করে আপনি ওদের তাড়ান । পাগলাবাবা ও তোর ওদের ভয় লাগে, এবার বুঝেছি তোর ভয় লাগাটাই বোধ হয় ওদের ভালোলেগে গেছে, ঠিক আছে আমি দেখছি কি করা যায় / তবে এক কাজ কর এখন কিছুদিন এখানেই থেকে যা।
আবার তুই কোথাও গেলে ওরা যদি তোের সঙ্গে সঙ্গেই চলে যায় তাহলে তো আবার এক মুশকিল । সুমন : না না বাবা আমি বরং এখানেই থেকে যাই । এখন এখানে থাকাটা ভালো মনে হয় । শাশ্বত ঃ কিত্তু বাবা ঐ কাটা মুণ্ডুটা কোথায় গেল । আমি তো ভাবলাম এই বেলটা ছিল বোধ হয় । পাগলাবাবা ঃ বেল না মুণ্ডু তা সময় হলেই টের পাবে; আর যেখানেই আছে সেখানেই থাক পরে বলবো কোথায় কি সব আছে।
(বলতে বলতে বেরিয়ে গেলেন) শাশ্বত ও সুমন একে অপরের দিকে চেয়ে সুমন : ওরে বাবা শুনলে ভাই কাটা মুণ্ডুটা তার মানে এখানেই কোথাও আছে শাশ্বত ঃ তাই তো শুনলাম আসলে এমন অভিজ্ঞতা আগে কখনও হয় ৮৪।
মুদ্রিত পাতা 85
জাগতিক ডাজাগতিক নি / আমি তেl এসব আগে বিশ্বাসই করতাম না, এখন যা দেখছি নিজের সব জানী গুলো মিথ্যা হয়ে যাচ্ছে জানি না আবার আরো কি দেখতে এবে আমি এসব আগে থেকেই মানতাম আসলে আমাদের দেশের বাড়ি একেবারে অজগঁ তাই ছোটবেলা থেকে ওখানে এসব এনেক দেখেছি । এমনও কত পাশাপাশি বাড়ির বৌগুলো ভৃতে ধরত; ৩া সেই অভিজ্ঞতা আজও মণে পড়লে ভয়ে হাড় হিম হয়ে যায কেমন অভিজ্ঞতা ?
একটু বল না / শরশ্ত যে বৌগুলোকে ভূতে ধরত তাদের চোখ মুখই কেম পাল্টে যেত মুখের দিকে তাকালেই খুব ভয় লাগত। বৌগুলো কেমন চুল খুলে বসে বসে জোরে জোরে মাথা নাড়ত; চোখদুটো যেন কপালে উঠে যেত, আবার গলার স্বর বদলে ছেলেদের মত করে কথী বলত সামনে কেউ গেলেই তাকে যেন তখনই ছিঁড়ে খেয়ে ফেলবে এমন ভাবে তেড়ে আসত। আমাদের গ্রামে অনেক বড় বড় ওঝাও ছিল সেই ওঝাকে নিয়ে এলে ওঝা ঝেঁটা পেটা করে হলুদ পোড়া দিয়ে সেই ভূত ছাড়াত।
তবে সেই ভূতেদেরও শক্তি কম ছিল না । দাঁতে করে জলের ভরা বালতি ওঝার কথা মত তুলে নিয়ে যেত এসব আমার নিজের চোখে দেখা তাই আমি ভূত বিশ্বাস করি । শশ্বত ৪ এমন গল্প আমিও অনেক শুনেছি; কিন্তু কোনদিন চোখে দেখর সৌভাগ্য হয় নিI তাই আমি বিশ্বাসও করতাম না । যাক; তুমি যখন বলছ তখন নিশ্চই ভূতে ধরতে পারে পাগলাবাবার থেকে একবার জানতে হবে; না এখন স্নানটা সেরে রাখি, কখন আবার পাগলাবাবা বলবেন । সুমন ঃ হ্যাঁ, হ্যাঁ বাদ দাও এসব এখন ।
সারাদিনই এই চলছে আমিও বরং স্নানটা সেরে নিই । ৮৫।
মুদ্রিত পাতা 86
শাশবত স্নান ক্রিয়া সেরে গুরুর শেখানো পথে চলা শুরু দিয়েছে করে সূর্য প্রণাম, বেল গাছের গোড়ায় জল ও মনে মনে গুরু দেবদেবী প্রণাম সেরে দালানে বসে । সুমন স্নান ক্রিয়া সেরে মুড়ির বাটি হাতে দালানে বসে থাকে ।
শাশ্বত এলে, এই নাও ভাই, একটু মুড়ি নারকেল খেয়ে নাও দুজনেই দালানে বসে মুড়ি নারকেল খাওয়া শুরু করেছে এমন সময় তিনজন খুব হন্তদন্ত হয়ে কুটিরের ছোট গেট পার করে ভেতরে ঢুকে আসে দুজন পুরুষ ও একজন মহিলা মহিলা (খুবই বিচলিত হয়ে) আচ্ছা এখানে কি এখন সাধুবাবা আছেন বলেই এদিক ওদিক দেখতে থাকে। সুমন : কে আপনারা? কোথা থেকে এসেছেন? বাবা তো এখন এখানে নেই । একটু বাইরে গেছেন । কিছু বলার থাকে তো আমাদের বলতে পারেন ।
মহলা আসলে আমাদের সাধুবাবাকে ভীষন দরকার / আমাদের খুব বিপদ, লোক মুখে সাধুবাবার কথা শুনে এখানে চলে আসি শাশ্বত হয়েছে? বিপদ? মহিলা 8 আমার মেয়েকে ভূতে ধরেছে; তাড়াতাড়ি সেই ভূত তাড়াতে না পারলে আমার মেয়ে বোধহয় আর বাঁচবে না । শাশ্বত কি করে বুঝলেন তাকে ভূতে ধরেছে? সবাই একসাথে বলে ওঠে আরে বাবা তাকে দেখলেই বোঝা যাবে ।
কেমন ছেলেদের মত গলার স্বর করে কথা বলছে; আর সামনে কেউ গেলেই তাকে যেন এখনই গিলে খাবে বলে তাড়া করছে; মাঝে মাঝে কাঁচা মাছ খাব বলছে; ঘরের জিনিসপত্তর ওলট পালট করে দিচ্ছে । মহিলা একটু দেখুন না, আপনাদেরও দেখে সাধুবাবা বলেই মনে হচ্ছে, ৮৬।
মুদ্রিত পাতা 87
জাগতিক তাজাগতিক একবার চলুন না আমাদের সাথে, না হলে কি যে করব? আর বোধ হয় বাঁচানো যাবে না I সুমন না না আমরা পরব না আমরা ওঝা টোঝা নই, আর আমাদের বাবা ও এই ধরনের কাজ করেন না । আপনারা বরং অন্য কোথাও যান কোনো ওঝার কাছে যান । মহিলাটা শাশ্বতর পায়ে শুয়ে পড়ে, বলে দঘা করুন সাধুবাবী, একটু চলুন না, আমাদের সাথে, আমি জানি আপনি ঠিক পারবেন । শাশ্বত (চমকে ওঠে) একি করছেন উঠুন উঠুন বলে মহিলাকে তুলে ধরে এমন সময় পাগলাবাবা প্রবেশ করেন ।
আর বলেন হ্যঁ ঠিকই বলছেন তো উনি, তুমিই তো পারবে । সকলে পাগলাবাবার দিকে ফিরে তাকায় মহলা হ্যাঁ বাবা আপনি ঠিক বলছেন । একটু ওনাকে বোঝান না, যাতে আমাদের সঙ্গে উনি যান । ওনাকে দেখেই আমি বুঝে নিয়েছি । উনিই পারবেন আমাদের এই বিপদ থেকে রক্ষা করতে । শাশ্বত সুমন অবাক হয়ে পাগলাবাবার দিকে চেয়ে থাকে । পাগলাবাবা তাদেরকে আশ্বস্ত করে শাশ্বতকে কুটিরের ভেতরে আসতে বলেন ।
মহিলাটির দিকে ফিরে "আপনারা একটু দাঁড়ান; সব ঠিক হয়ে যাবে " বলে শাশ্বতকে নিয়ে কুটিরে প্রবেশ করেন । শাশ্বত (অবাক হয়ে) বাবা আমি কি করে পারব, আমি কি এসব জানি নাকি । আমি তো এমন কিছুই জানি না? পাগলাবাবা ঠিক আছে; তোমায় এত ভাবতে হবে না, তোমায় কি করতে হবে তা আমি বলছি শোন । আসলে ভূত ধরলে এমন হয় না, আবার বিশ্বাস ভাঙলেও রোগ সারে না ।
তাই তুমি ওখানে গিয়ে কিছু ডাক্তারি করো আর খানিকটা ওঝা গিরি করো তাহলেই দেখবে সব ঠিক হয়ে গেছে । ৮৭।
মুদ্রিত পাতা 88
জাগতিক ভজপতিক শাশ্বত : কিত্তুব বাবা আমি নয় ভাক্তারি জানি আর ঐ @7 কিছুই জানি গির তার তো না! পাগলাবাবা : আরে বাবা ওঝাদের গল্প শোন নি ওকরলা ফেন হরপপোড়া, হলুদপোড়া এসব দিয়ে একটু বিভৃবিত করে জল ছিতব ঢগ সেরকমই তুমিও ওঝা সেজে একটু অভিনয করে নিও ডাক্তারি করে অসপরে নিলেই দেখবে সব ঠিক হরে গেছে। রুগি বেমন সুস্থও হবে আবার লোকের উপকারও হরে যাবে ।
সেখানে বেোনে কেন তেমনই করতে হয় মিথ্যে ঞ: সেজে রোগ মুক্ত করা যায় তাহলে এমল কারের হয় বুঝলে । ওকার সজমবে মবে ধরতেও শাশ্বত হ্যা বাবা বুঝে গেছি । তাহলে নিয়ে যাব? এখন থেকে কে ঘট় জল পাগলাবাবা না, না, শুধু ঘটি নিয়ে যাওড, হলে আবার জল ওখাল থেকেহ নিও, তা না যাও, সত্যি সত্যিই ভূত এসে হাজির হর়ে বাবে] বাইরে ওনারা ] ৫বন তিলক শাশ্বতর খুব বিচলিত হচ্ছেন! বলে লাল সিঁদুরের কপালে এঁকে দেন ।
শাশ্বত গুরুকে প্রণাম করে, একহাতে ঘটি বাইরে বেরিয়ে আসে ও গলার উত্তরীয় ঝুলিয়ে চলুন আমি দালানে দাঁড়িয়ে কই; কোংায় যেতে হবে? প্রস্তুত । মহিলা ও সকলে শাশ্বতর ঐরূপ লম্বা চেহারা হাঁটু দেখে আরোও যেন আকৃষ্ট হয় ] অবধি ফর্সা মুখে ভাসা ভাসা একমাথা কোকরানো চুলে: চোখের দৃষ্টি; নেমে আঙ্গুল পড়ে চালাতে চালাতে দালান থেকে মহিলা ও সকলে আসুন সাধুবাবা বলে বেরিয়ে সুমন দালানেই দাঁড়িয়ে পড়ে] পাগলাবাবা থাকে । সুমন : (অবাক) এটা আবার হল?
পাগলাবাবাকে প্রশ্ন করে ওঠে ৮৮।
মুদ্রিত পাতা 89
জাগতিক তজাগতিক বাবা; শাশ্বত ওখানে গিয়ে কি করবে? ওখানে তে শুনলাম ভূতে ধরেছে;, এটী কি হল বুঝলাম না তো? শীগ্ত কে কি আপনি ঘরে নিয়ে গিয়ে কিছু ভূত তাড়ানোর মস্ত্র শিখিয়ে দিলেন? গীগলাবাবা ? হ্যারে দেখলি না, কানে মস্ত্র দিতেই কেমন চনমনে হয়ে উঠল, শশ্বতর আঙ্মবিশ্বাস ৩ বেড়ে গেল । ও, তাই ওর মুখটাও কেমন পাল্টে গিয়েছিল । বাইরে বেরিয়েই একটুও ভয় না পেয়েই তাদের বলল, চলুন কোথায় যেতে হবে ।
কিত্তু আমার মনে হয় মস্ত্রগুলো লিখে নিলে ভালো করত। যা সাঙ্ঘাতিক কাজ ভূত তাড়ানো, মস্ত্রগুলো যদি ভুলে যায়, তবে তো শাশ্বতরই ক্ষতি হয়ে যাবে । গাগলাবাবা ঃ তুই ঠিক বলেছিস তোের মতো বুদ্ধি ওর থাকলে, ও সব মস্ত্র লিখেই নিয়ে যেত । আমারই বোধ হয় ভুল হয়ে গেল, তোকে পাঠালেই মনে হয় ভাল হত । যাক, এখন তো আর ভেবে লাভ নেই, দেখি, ওর সব মনে থাকে কিনা, ও যদি না পারে তবে তোকেই লিখে পাঠিয়ে দেব ! কি বল তুই পারবি তো?
সে আপনি যা ভাল বোঝেন বাবা, তাই করবেন আমার আবার এমনিতেই ভূত তাড়ানো মন্ত্র শেখার খুব ইচ্ছেও আছে । আর এইসব শিখে রাখাও ভাল; তাই না বাবা / গাগলাবাবা ঃ হ্যাঁ, ঠিকই বলছিস আসলে ভূত তাড়ানো শিখতে গেলে এসব একটু ভালভাবে শিখে রাখা উচিত।
যেমন ধর সব ভূত তো আর এক হয় না, কেউ বেশি শক্তিশালী কেউ কম, কেউ লাফায় বেশি, কেউ আবার কামড়াতে আসে / তাই সব রকম ভূতেরই মন্ত্র তোকে শিখতে হবে / আর এ-জিনিস শিখতে গেলে ভূতের ভর করানোটা আগে শিখে নিতে হবে তারপর নিজের উপর করিয়ে নিজেই মন্ত্রজল দিয়ে নিজের ওপর ঢেলে ভর হবে নিজের সেই ভূত তাড়াতে ভূত তাড়াতে পারলেই অপরের ভূত তাড়ানোতে সিদ্ধ হয়ে যাবি । তাই একাজে একটু ঝুঁকি নিজের হবে । ওপরই নিতে।
মুদ্রিত পাতা 90
সুমন ঃ ঝুঁকি, কেমন ঝুঁকি বাবা? পাগলাবাবা ঃ তেমন কিছু নয় এই ধর তুই তোর উপর তোর ভেতরের ভূতটাকেই জাগিয়ে দিলি তাকে আবার ভাল ভাবে নিজের সতন করে চলতে দিলি, আর সে তখন নিজের স্বাধীনতা পেয়ে নিজেকে একটু আঁচড়ে দেবে; নিজেরই মাথার চুল টেনে টেনে ছিঁড়বে ।
আর একটু বাড়াবাড়ি করলেই তখনই তোকে ঐ মন্ত্রপূত জল দিয়ে নিজেই সেই ভূত তাড়াতে হবে; তখন যদি একটু এদিক ওদিক হয় তবেই মুশকিল সে ভুত আবার তোকে তাড়িয়ে সেই তোের শরীরটা দখল করে রয়ে যাবে; বুঝলি এই আর কি । সুমন : হ্যাঁ, বাবা বুঝলাম, তবে আর কিছু দিন যাক; আর একটু দীক্ষাটা বাড়িয়ে নি; তারপর নয় শিখে নেব ।
পাগলাবাবা তবে থাক এখন, যখন আবার তোর ইচ্ছে বলিস তখনই হবে আমাকে শিখিয়ে দেব এখন আমার দে পূজার জোগারটা দিয়ে সুমন ঠিক আছে বাবা বলে পূজার জোগাড় দিতে চলে যায় এদিকে শাশ্বতকে নিয়ে তারা তাদের বাড়ি পৌঁছে যায় সামনেই চওড়া পাকা বাড়ির রাস্তার গাড়ি থেকে ওপর তাদের গাড়ি থেমে যায় । নেমেই শাশ্বত বাড়িটির দিকে ফিরে চায় "ও এটাই আপনাদের বাড়ি?" পাকা দোতলা বাড়ি, বাড়ির সামনেটা ওয়়াল দিয়ে বেশ বড় উঠোন ।
বাউন্ডারি ঘেরা; বেশ অবস্থাপন্ন বলেই মনে হয় দিকে এগোলে আরও শাশ্বত সামনের আসে দুজন ভদ্রলোক সেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে সকলে আসুন, আসুন বলে শাশ্বতকে যায় ঘরের দিকে নিয়ে শাশ্বত বাড়ির সদর দুয়ারে দাঁড়িয়ে গুরুকে প্রণাম পড়ে আর গুরুকে স্মরণ করে জানিয়ে তারপর প্রবেশ করে।
মুদ্রিত পাতা 91
পরিবারগণ আসুন বাবা উপরের ঘরে মেয়ে আছে বলে সিঁড়ির পথ দেখিয়ে দেয় শশ্বত সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠেই আর এক হলঘরে প্রবেশ করে মেয়ের মী হলঘরের বাঁদিকে দরজা বন্ধ আর একটি ঘর দেখায় আর রলেন এই ঘরের ভিতরেই আমার মেয়ে আে । শাবত ৪ ঘুরে ওর সাথে আর কেউ আছে? মেয়ের মা ঃ হ্যা ওর বাবা ওর সাথে ওই ঘরেই আছে । দরজাটী খুলে দেব বাবা? শাশত : না দাঁড়ান একটু পরে ।
(শাশ্বত একটু এদিক ওদিক দেখে সামনের দিকে আর একটী দরজা বন্ধ করা ঘর দেখতে পায় ।) ঐ ঘরে আছে? মেয়ের মা ঃ কেউ নেই বাবা, আপনি দেখতে চান? শাশ্বত ৪ হ্যাঁ খুলুন তো দেখি বলে এগিয়ে যায় । (মহিলাটি ঘরের দরজা খুলে দিলে শাশ্বত ঘরে ঢুকে পড়ে ।) ঘরে ঢুকেই কেম ঘে একটা স্যাতস্যাতে গন্ধ শাশ্বতর নাকে আসে।
পরিষার ঘর আসবাবপত্র বেশি নেই একটা বড় খাট পাতা তাতে টান টান করে সুন্দর একটি চাদর পেতে রাখা / তার উপর একটি মাথার বালিস পাশ বালিস গুছিয়ে রাখা শাশ্বত কিসের গন্ধ নাকে পেলাম ভাবতে ভাবতে খাটে বসে পড়ে। একটু যেন কেমন ঝিমঝিমে ভাব ঘরের মধ্যে। চোখ বুঝে আবহাওয়াটা বোঝার চেষ্টা করে আর সকলকে ঘরের বাইরে যেতে বলে । সকলে বাইরে চলে গেলে শাশ্বত তবুও যেন কারোর অস্তিত্ব এই ঘরে রয়েছে বলে মনে করে ।
একটু এদিক ওদিক দেখলেও কাউকে তো দেখ যায়না তবুও কেউ একজন আছে এখানে শাশ্বত চোখ বুঝে আবার গুরুকে স্মরণ করে মাথার উপর বন্ধ করা সিলিং ফ্যানের দিকে তাকাতেই চমকে উঠে কেউ একজন ঝুলছে । একবারে স্পষ্ট কমবয়সি কোন এক মহিলা, চুড়িদার পরা, চুড়িদারের ওরনা দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে সিলিং ফ্যানে ঝুলছে । শাশ্বত ৯১।
মুদ্রিত পাতা 92
তাড়াতাড়ি উঠে পড়ে । আর কোন দিক না দেখেই ঘর থেকে বেরিয়ে আসে । একটু বিচলিত হয়ে ওঠে; দেখলাম এসব মেয়ের মা আসুন বাবা, ঐ ঘরের দরজা এখনই খুলব? শীশ্বত (মনকে একটু শক্ত করে হাতের ঘটিটি বাড়িয়ে দেয়) জল ভরে দিন । সঙ্গে এতে একটু সঙ্গেই মেয়ের মা ঘটিতে জল ভরে নিয়ে আসেন এই নিন বাবা । শাশ্বত 8 (ঘটি হাতে নিয়ে) এবারে দরজাটা খুলুন । মেয়ের মা দরজা খুলতেই শাশ্বত ঘরে প্রবেশ করে সামনেই খাট।
খাটে চোখ আছে মেয়়েটি বুজে শুয়ে বয়স, পনেরো থেকে যোল হবে মাথার কাছে তার বাবা বসে আছেন । শাশ্বত কোন কথা কাছে যায় না বলে মেয়েটির আর ভালভাবে লক্ষ্য ভাব করে, চোখে মুখে বেশ অসুস্থতার যেন শরীরটা অনেক ধকল নিয়েছে । মেয়েটির হাতের নাড়ি ধরে পরীক্ষা করতে গেলে মেয়েটির ভেঙে যায় আর শাশ্বতকে দেখেই এই এই বলে চেঁচিয়ে ওঠে । শাশ্বত মেয়েটির হাতটা বেশ চেপে ধরে আর বলে ভয় নেই আমি তোমাকে দেখতে এসেছি, কি হয়েছে তোমার ?
সঙ্গে সঙ্গেই কেমন যেন মেয়েটি উগ্রমূর্তি ধারণ করে উঠে বসে । মোটা গলার স্বর করে চেঁচিয়ে বলে-চলে যা এখনি তা না হলে আমি তোর রক্ত খাবো । তুই আমাকে তাড়াতে এসেছিস? দেখ আমি কেমন তোকে তাড়াই বলেই শাশ্বতকে সজোরে ধাক্কা লাগায় শাশ্বত যে কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না হাত শাশ্বত মেয়েটির ছেড়ে দেয় মেয়েটি আবার বলে উঠে- -শোন, আমি যাব না, আমি সবাইকে খাবো তারপর যাব আমাকে এরা অনেক কষ্ট দিয়েছে । আমি কাউকে ছাড়ব না ।
বলেই শাশ্বতর দিকে আসে তেড়ে শাশ্বতর হাতে থাকা ঘটি থেকে একটু জল হাতে নিয়ে মেয়়েটির মুখে লাগতেই মেয়েটি একটু থমকে দাঁড়িয়ে সঙ্গে পেছন যায় সঙ্গে থেকে মেয়েটির বাবা মেয়েটিকে জাপটে ধরে ফেলে ৯২।
মুদ্রিত পাতা 93
শাবত (মনে মনে ভাবে) পাগলাবাবা যে বলেছিলেন এমন করে ভূতে ধরে না । মেয়েটি যা করছে আর যা বলছে তা তো ভূতে ধরার মতই । এদিকে মেয়েটি আবার একটু নিতেকে সামলে চরম উগ্রমূর্তি ধারণ করে । ঝটকা মেরে মেয়ের বাবাকে ছিটকে ফেলে দেয় ঐ রূপ দেখে মেয়ের বাবা সমেত সকলে ভয় পেয়ে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে যাযI মেয়েটি এবার ছুটে শগতর দিকে তেড়ে আসে । শাশ্বতর হঠাৎই শুরুর কথা যেন কানে ভেসে আসে এভাবে ভূত ধরে না!
শাশ্বত এবার 'জয়গুরু মস্ত্র' মেয়েটির কপালে নিজের বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে সজোরে টিপে ধরে তর মেয়েটি বিছানায় পড়ে যায় আর সঙ্গে সঙ্গেই একেবারে শাত্ত হয়ে যায় । শাশ্বত মনে মনে জয়গুরু মন্ত্র' বলতে বলতে মেয়েটির মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় মেয়েটিও যেন কেমন ক্লান্ত শিশুর মতন চোখ বুজে শুয়ে থাকে শাশ্বত তাড়াতাড়ি কিছু কোমরে রাখা ঘুমের ওষুধ বের করে ঐ ঘটির জল দিয়ে মেয়েটিকে খাইয়ে দেয় ।
তারপর মেয়েটি একেবারে ঘুমিয়ে পড়ে শাশ্বত এবার বাইরে বেরিয়ে আসে আর বলে ভূত আমি ছাড়িয়ে দিয়েছি । কিত্তু ভূতটা ওর শরীরে এতক্ষণ থাকায় খুবই ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। আর মানসিক একটা চাপও এসে গেছে । ওকে একটু হাসপাতালে কিছুদিনের জন্য রাখলেই ও একেবারে ঠিক হয়ে যাবে আর কোনো ভয় নেই । সকলে আচ্ছা বাবা তাই দেবো, কিত্তু ভূত আর নেই তো? কোন ভূত ওর উপর চেপেছিল? শাশ্বত ঃ (এবার কেমন অন্য মানুষ হয়েই বলতে থাকে) ভূত ওকে ধরে নি । ও ভূত দেখেছিল ।
ওর দিদি ঐ ঘরে গলায় ফাঁস লাগিয়েছিল । ওর আত্মার মুক্তি হয় নি এখনও ঐ ঘরেই রয়েছে । আপনার এই মেয়ে ঐ ঘরেই রাতে একা ঘুমোয় আর সে তাকে দেখতে ৯৩।
মুদ্রিত পাতা 94
পেয়েছিল বা ৩নুভব করেছিল; তাই মানসিক ভাবে নিজের ভেতরই ওর নিজের দিদিকে চাপিয়ে নিয়েছিল, তাই এমন আচরণ করছিল কথাটী শেষ করতেই 'জয় সাধু বাবা' বলে সকলে শাীশ্বত পায়ে শুয়ে পড়়ে । আর বলে আপনি মানুষ নন । আপনি নিশ্চই ভগবান । শাশ্বত নিজেই নিজের কাছে অবাক বনে যায় কি এসব বলছি? আমি তো কিছুই জানি না ।
নিজেকে একটু সামলে নিয়ে জয়গুরু জয়গুরু' বলে সবাইকে টেনে তোলে আর বলে এবার আমি আসি আমার কাজ শেষ আপনারা এখনই ওকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান নাহলে বিপদ হবে । মেয়ের বাবা তাহলে ঐ ঘরটা করব বাবা? শাশ্বত এখন ঘরটা বন্ধ রাখুন । আগে মেয়েকে হাসপাতালে দিন তারপর আমাদের কুটিরে একবার আসবেন কি করতে হবে তখনই বলে দেওয়া যাবে এখন আমি আসি আমাকে এখনই বেরতে হবে । মেয়ের বাবা ঃ আপনার দক্ষিণাটা? শাশ্বত কুটিরে দিয়ে দেবেন।
এখন আমায় ছাডুন আমার অনেক দেরি হয়ে গেল মেয়ের মা তাড়াতাড়ি করে গাড়িতে দেয় শাশ্বতকে তুলে গাড়িতে উঠেই শাশ্বত মাথা হেলিয়ে চোখ বুজে পেছনের সিটে বসে পড়ে । গাড়ি তাদের বাড়ি ছেড়ে চলতে থাকে শাশ্বত একাই পেছনের সিটে বসে বেশ ক্লান্তি যেন অনুভব করছে । এদিকে আবার আজ নতুন বাজারে পাগলাবাবার সঙ্গে যেতে হবে । পাগলাবাবা হয়ত আমারই অপেক্ষায় আছেন শাশ্বত বলে উঠে ভাই গাড়ির চালককে একটু তাড়াতাড়ি চলো আমার অনেক কাজ আছে ।
চালক হ্যা বাবাজি আর বেশি রাস্তা নেই এখনই চলে আসবে আপনার কুটির । খুকুমনি ঠিক হয়ে যাবে তো? ৯৪।
মুদ্রিত পাতা 95
শাশত জাগতিক তজ্গতিক মুখে কেণ উত্তর 77 করেছ এদিকে শুধু ৩ু বলেই আবার পাগলাবাবা চেখ বুজে নেয় সুমণের পুজী শেষ করে হ।তে দেণ নৈবেদ্যের কিণ প্রসাদ তুলে সুমন ঃ বাবা, শাবত তেl ৩েকশণ বলা মুশকিল, হম গেতে; তাজ আবার কখন ফিরবে তাও তো আপণার সঙ্ে পাগলাবাবা ঃ তাই তো ওকে যেতেও হবে। তবে এখণাই আর ফিরবে কত সময় বলে নেবে মনে হয় তোর কি ভূত তাড়াতে আবার সুমন ওর না, তেমন না, জনয চিত্তা হচ্ছে? আপনি যখন আর কি ওকে বিপদ মম্ত্র শিখিয়েই হবে ।
পাঠিয়েছেন ওর শাশ্বত তখনই গাড়ি এসে কুটিরের সামনে গাড়ি থেকে নেমেই দাঁড়ার । পাগলাবাবাকে সষ্টাঙ্গে তাড়াতাড়ি করে কুটিরে ঢুকেই প্রণাম করে । পাগলাবাবা ও ফিরেছ, অনেক দেরি করলে যে, প্রসাদ খেয়ে নাও । তাড়াতাড়ি একটু জল; এখনই আবার বুড়োকা হয়ত তোমায় বেরতে হবে পুতুলকে নিয়ে তো । গেল বসেই আছেন অনেক দেরি হয়ে তাড়াতাড়ি এসো আমি রাস্তায় আছি বেরিয়ে বলে পড়েন ।
কুটির ছেড়ে শাশ্বত অনেক প্রশ্ন মুখের কাছে এসেও আটকে যায় পাগলাবাবার দিকে দেখতে শুধু চেয়ে থাকে । সুমন : জলের ঘটি আর প্রসাদ হাতে নিয়ে - নাও এই নাও ভাই প্রসাদটা খেয়ে শাশ্বত হ্যা দাও বলেই প্রসাদটা মুখে তুলে নেয়় আর একটু জল খেয়েই ভাই আমি আসছি । পাগলাবাবা হয়ত আমারই অপেক্ষায় রাস্তায় আছে । বলেই বেরিয়ে পড়ে সুমন ঃ কি হল ওখানে জানার ইচ্ছা হলেও কোনো উপায় না পেয়ে হ্যাঁ সাবধানে যাও আর পারলে তাড়াতাড়ি ফিরো, বলেই থেমে যায় ৯৫।
মুদ্রিত পাতা 96
শাশ্বত কুটির ছেড়ে বেরিয়ে রাস্তায় পায় উঠতেই আর পাগলাবাবাকে পাগলাবাবাকে দেখতে অনুসরণ করেই পীগলাবাবা শাশ্রতকে চলতে থাকে দেখেই লম্বা লম্বা পী চালিয়ে = চলতে থাকেন। এবারে তিন আগে আগেই দাঁড়িয়ে রাস্তার মোড়ে এসে পড়েন শাশ্বত কাছে পাগলাবাবা আসত্ট পাগলাবাবা ঃ শোন শাশত তুমি এই ডানদিকের রাস্তা ধরে দুটো দোকান ছেডে ডান একটু এগোলেই পাবে । হাতেই ডাক্তারখানা লেখা সাইন বোর্ড সেখানে বুড়োকা দাঁড়িয়ে আছেন আর ওটাই কর্মস্থল ।
এখনই চলে যাও তোমার এখন আমার সাথে কথা অন্য কাজ আছে হবে পরে বলে তোমার পাগলাবাবা সোজা এগিয়ে যান সামনের পথ ধরে পাগলাবাবার কথা মত শাশ্বত ডানদিকের পথ ধরে বুড়োকাকে দেখতে পায় । ডাক্তারখানা = এগোতেে বুড়োকা দাঁড়িয়ে সাইন বোর্ড লেখাটার = আছে । সামনে বুড়োকা ঃ (শাশ্বতকে দেখতে বলেন পেয়ে) আসুন ডাক্তার বাবু বলে ঘরে একেবারে ডাক্তারখানার মতো ঢুকতে টেবিল, করে বেঞচ সব সাজান ঠিকঠাক ঘর চেয়ার, রাখা আছে।
পরিষ্কার খাবার জলের কুঁজো, গ্লাসও রাখা [ ঘরের মেবে ছিলেন । ঘরের মালিক গুপ্তাজী ওখানেই গুপ্তাজী (বলেন) ডাক্তারবাবু আপনার এই ঘর প্তাজী এটা পছন্দ আমারই বাড়ি তো? আমি আপনাকে শাশ্বত : নমস্কার (গুপ্তাজীকে জানাই । নমস্কার জানিয়ে) এখানকার যা বন্দোবস্ত হঁযা, হ্যাঁ খুবই ভালো হয়েছে । প্তাজী : তা দিয়ে আমার কাজ (একগাল চলে যাবে ।
হেসে) আসলে দুজনে আপনাদের গুরুজী এখানকার সব আমি একসাথেই বলেছিলেন জিনিস কিনে নিয়ে আরো কিছু প্রয়োজন আসি / আর উনি হলে আপনার থেকে জেনে নিতে । ৯৬।
মুদ্রিত পাতা 97
শাশ্রত ৪ ওঃ তাই গুরুজীও এসব কিনতে আপনার সঙ্গে গিয়েছিলেন? তা উনি কখনই বা গেলেন? গুপ্তাজী হ্যা, আজ সকালেও তো এেছিতেন ডবার নিজেই সব ভালোভাবে দেখে গেলেন। শাশ্ত ৪ (এবারে চেয়ারে বসে পডে) আচী, তচ্ছা বলে বুড়োকার দিকে চেয়ে কই, আপনার পুতুল? সে কোথায়? অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হল বোধ হয়? আসলে আমি একটু অন্য কাজে যাওয়ায় এখানে পৌঁছতে দেরি হয়ে গেল । বুড়োঁকা না, না, আমি তো এখনই এলাম, আপনার গুরুজী তো সকালেই আমাকে খবর পাঠিয়েছিলেন ।
আপনার আজ আসতে একটু দেরি হবে । শাশ্বত : (অবাক হয়ে) তাই, তা আপনাকে খবরটা কোঢা সময় পাঠিয়েছিলেন? বুড়োকা ঃ সে তো অনেক সকালে । এই ধরুণ সকাল সাড়ে ছটা থেকে সাতটা হবে । শাশ্বত ঃ (একটু হেসে) ওহ, আগেই জানিয়ে গেছেন বুড়োকা ঃ কেন আপনাকে কিছু বলেন নি? শাশ্বত ঃ (শুধু মাথা নাড়ে আর একটু মুচকি হাসে ) আচ্ছা, কই দেখি পুতুলকে? সে কোথায়? বুড়োকা ঃ হ্যা, এখানেই আছে । বলেই পাশের খেলনার দোকানের ভেতরে বসে থাকা পুতুলকে ডাক দেয় পুতুল এলে ।
এই যে ডাক্তারবাবু, এই হল আমার পুতুল । শাশ্বত : পুতুল, আমার কাছে এসো, দেখি, তোমার হয়েছে? বলেই পুতুলের হাতের নাড়িটা টিপে ধরে কই তোমার জিভ দেখি? আচ্ছা পুতুল তোমার বয়সটা কত হবে জানা আছে? ৯৭।
মুদ্রিত পাতা 98
৩গ৩ি 1 ৩ ।গতিণ "।96[ " ;।।, ৩।[।[ ৬/।।[ +।।। 1(৬।;1। ৩ট ব৬গ ৬ ৩শlব #৩শিল 1যস 4।।1।৩ (স1 কিছু "ণlষ। কে দেখাব পর্ন ;।6।6 +।। ৩।।*।।,4;1 পুড়োকাকে 'বলে) আপনি কুটিবে গিয়েছিলেন, খুব জ়বর ৬;1 :14? বলে? কিত্ত পিদুছ তেl ছানি পলে ম৫ে ৬াU ৩া।(৬। (1।। সবই তো ঠিক পেটে ব্যাথI আছে বলে তো মনেই হল না । :]0৬।;1। না, কাল আপনাদের ওখান থেকে ফেরার পেপটব্যাথ।
খিঁচুনি পর থেকেই আর জ়বর, কিঙু তেঙণ শে' বাবা যে জলটা বলেছিলেন সেটা তিন ঢোক খাওয়াতেই খাওয়াতে আর খুব ওর শরীর থেকে রাতেই খুব বমি করল দাঠ দিল । তারপর একেবারে ঘুমিয়ে গেল । সকীল সকাল ওঠেই আবার উঠেছিল [ আগের তার ক্ষিদে মতই চনমনে হয়ে ক্িদে করছিল । মুড়ি দিয়েই আপনার আমরা ভয়ে শুধু শুকনো কাছে নিয়ে এসেছি আপনার থেকে জেনে খাবে না খাবে তারপরই অন্য শাশ্বত ঃ কিছু দেব তো এখন ঠিকই আছে ও যা খেতে চায় সব এখন একেবারেই কিছুই ওকে দিন ।
সুস্থ আর কোন ওযুধেরও বুড়োকা প্রয়োজন তাহলে নেই । সব ঠিক আছে ডাক্তারবাবু? শাশত ? হ্যাঁ সব ঠিক আছে। আপনি নির্ভয়ে ওকে নিয়ে বাড়ি বুড়োকা ঃ যান । আপনাদের শুরুদেব সাক্ষাৎ ধন্যবাদ, ভোলেবাবা কি আর এখন বলব? তাহলে আসি অনেক আর এই একশ টাকা পকেট টাকাটা থেকে রাখুন বলে বের করে শাশ্বত ঃ টেবিলে রাখেন । কোন কথা না বলেই পকেটে যাকগে, রোগ আমি তুলে নেয় টাকাটা । । আর বলে সারাই বা ভগবান = কিছু অসুবিধে হলে সারান আবার মাধ্যম তো আমরাই ।
চলে শুপ্তাজী আসবেন (বুড়োকা চলে গেলে) হয়েছিল মেয়েটির?
মুদ্রিত পাতা 99
৬াপতিয় ৩জগতিক শাশ্বত ৪ না, তেমন কিছুনু না শুধু এক্টু জ্বর ওষুধ নিয়ে 0ষ খেয়ে ১িক কলরাতে কুটি: থেকে হ0ো (9।( 'প্তাজী এখন ভাগই আছে আমাকেও একটু পরীক্ষ ক;৮[ (। হজমের অসুবিধায় কয়েকদিন হল একটু যেন ভুগচি শাশ্বত ৪ গুপ্তাজীকে ভালভাবে আর পরীক্ষা করে, আমি কিছু ওযুধ লিখে দিচ্ছি । একটু নিয়ম মেনে খাওয়া দাওয়া করলেই ঠিক তেমন বড় কিছু হুব যাবেন । নয় বলেই মনে হয় । গুপ্তাজী আচ্ছী, আচ্ছী , তবে কোন ভ নেখ তে? আর আপনাকে কত ফি দিতে হবে?
ডাক্তারবাবু শাশ্বত ঃ এটি আপনার উপর, যার যেমন সামর্থ্য, আমার ফি আমি তাই ঠিক করেছি । গুপ্তাজী তবে ডাক্তারবাবু আমি_ আপনার গুরুজীকেও দেখলাম, আর আপনাকেও দেখে বাঙালীবাবু বলে মনে হয় । কিন্তু আপনাদের হিন্দী কথা বলাটা বেশ ভালই । শাশ্বত হ্যাঁ, আসলে আমরা নানান জায়গায় ঘুরে বেড়াই তো তাই হিন্দী কথাটা মোটামুটি বলতে শিখে গেছি । গুপ্তাজী পকেট থেকে দুশো টাকা টেবিলে রেখে দেন আর বলেন এটাই আমার এখনকার পকেটে থাকা সামর্থ্য ।
শাশ্বত : একটু হেসে টাকাটা পকেটে তুলে নিয়ে আচ্ছা আপনি আমার গুরুজীকে অনেকদিন চেনেন? গুপ্তাজী না, না, বেশিদিন নয় এখানে থাকেন আমার এক পরিচিত বাঙালি ভদ্রলোক । উনিই আমাকে আপনার গুরুজীর সঙ্গে পরিচয় করান । শুনেছি নদীর পারে জঙ্গলের ভেতর কুটিরে উনি থাকেন খুব বড় তান্ত্রিক নাকি উনি । কিন্তু কিছু মনে করবেন না / ওনাকে দেখে বা ওনার সঙ্গে কথা বলে তেমন তো কিছু আমি বুঝলাম না । একবার ৯৯।
মুদ্রিত পাতা 100
জাগতিক অজগতিক ওনার কাছে যাবার ইচে িলী, ৩া সময় করে দেখ কখণও যাবো / আসলে আমার তো দীক্ষা হয়ে গেছে । আমাদের পরিবারের সবারই গুরুজী আছেন তবে আমাদের গুরুজী মাছ মাংস খাওয়া তাস্ত্রিক টাম্ত্রিক নন খুব শুদ্ধ লোক; নিরামিশ আহারই গ্রহণ করেন। জীবে খুব প্রেম । বড় বড় আশ্রম আছে ওনার তাই অনেক শিষ্য শিষ্যাও আছে । আমার গুরুজীকে একবার দেখলেই আপনার ভক্তি এসে যাবে ।
গেরুয়া বসন মাথায় বড় বড় জটা গায়ের রং দুধের মত চোখ দুটোয় কেমন নীল, নীল আভা আর কথা, রাম নাম ছাড়া কোন কথাই বলেন না । শাশ্বত : বাহঃ বাহঃ আপনার বর্ণনায় তাকে যেন এখানেই দর্শন করে নিলাম [ কিন্তু গুপ্তাজী আমরা যে তাম্ত্রিক আপনি সব জেনেও আমাদের আপনাদের ঘরে বসতে দিলেন যে? গুপ্তাজী ৪ তাতে কি হয়েছে; এখানে তো আমার অনেক দোকান ঘর আছে । সবই আমার ভাড়া দেওয়া) এটা তো আমার ব্যবসা; ব্যাবসার ক্ষেত্রে এত সব বিচার করলে ব্যবসা চলে না ।
আর আপনি তো ডাক্তারবাবু, আমাদের এখানে এমনিতেই ডাক্তারের অভাব আর আমারই বাড়়ির নিচে ডাক্তারকে পাওয়া গেলে সেটাও তো আমার সুবিধাই । কিত্তু ডাক্তারবাবু, একটা কথা জানতে ইচ্ছে করছে) আপনিও কি ঐ জঙ্গলের ভেতরে কুটিরের মধ্যেই থাকেন? আর আপনার গুরুজীকে আপনি কি অনেকদিনই চিনতেন? শাশ্বত হ্যা, তা আমাদের অনেক দিনেরই সম্পর্ক [ তবে এখানে এসেই সমনা সামনি দেখ হয় । গুপ্তাজী ৪ কিছু মনে না করলে একটা কথা বলব ডাক্তার বাবু?
শাশ্বত : হ্যাঁ, বলুন না, কোন ভয় করতে হবে না । ১০০।
মুদ্রিত পাতা 101
জীগতিক তাজাগতিক গণ্ডকী না, আপনাকে দেখে আপনার জন্যে আমারই খুব খারাপ লাগছে । আপনি একজন ডাক্তার হয়েও ঐ কুটিরে থেকে এত কষ্ট করছেন আপি একবাব আমার সঙ্ে আমার ওরুজীর কাঢে যাবেন? আমার মনে হয় আপনি শিক্ষিত লোক, আপনি আমার গুরুজীকে একবার দেখলেই বুঝে যেতেন গুরু কেম তয। তার তাকে বললেই দেখবেন আপনার সব সমস্যা কেমন সমাধান হয়ে যায ঘর, বাড়ি; গাড়ি সব পেয়ে যাবেন শাশ্বত ৪ তাই, এমনও হয়?
গুপ্তাজী (একটু হেসে) এমন হয় মানে, বলছেন; আরও কত কিছ হয়; কত লোক দেখলাম তাদের কত সমস্যা ছিল। আমারই তো ধরুন না; ব্যাবসা সবই খুব মন্দা যাচ্ছিল, তারপরই তো আমি গুরুজার কাছে গেলাম আর ওনার কাছে যেতেই আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে গেল । এই দেখুন এই তাবিজ আমায় করে দিয়েছেন এর নাম ধনজা তাবিজ যা ধন বাড়িয়ে দেয় সব সময় আমার গলায় থাকে । প্রথমে একটু খরচ করলেই হল তারপর আর চিত্তা নেই, সব দেখবেন কেমন বদলে যাবে ।
শাশ্বত ৪ ওহ, তাই তবে তো একবার যেতেই হবে আমার তো আবার এসবের খুবই প্রয়োজন কিন্তু; আপনি যে বলছিলেন আমাদের কুটিরে যাবার ইচ্ছে আছে আপনার, সেটা কেন ঠিক বুঝলাম না । আপনার আবার কি দরকার? "ণ্ডাজী না, না, আমার তেমন কিছু দরকার নেই । শুনলাম তাম্ত্রিক আছেন তাই ভাবলাম একবার পরখ করে দেখি কি জানেন উনি? আসলে দেখলে তো সাধারণ লোকই মনে হয়/ তবুও এখানকার কিছু লোক বলেন নাকি ওনার কাছে `মা কালীর' শক্তি আছে।
তাই দেখতে চাইছিলাম কি শক্তি আছে তা ডাক্তারবাবু আপনি তো ভালই বলতে পারবেন কিরকম লোক, আর কি শক্তি ওনার আছে । ১০১।
মুদ্রিত পাতা 102
৩গগ৩ ৩তগতিক হ1l আপলে আগনাঘ থেকে যা শুণলাম আপনার গুরুজীর কথা @েNন Iক৮' ৩l ওনীর মধো কখণও দেখিনি । আর আমাদের সাvও বেশ কথী বলেন নl ।
নিঞ্জের সমস্যার কথী বলতে গেলে wIষ একউনের সমসIIণ কথী বলতে থীককেন; আর বলেন দেখ দ8'৩;ড1 9৩ ২f পঁচছে; দুঃখ লাগে না ওদদের জন্যে রাডর ভিখরি ওলোকে দেখ সারাদিন মন্দিরের সামনে বসে বসৈ হরিনাম করে যাচ্ছে; তবুও 'হরি' একবার ওদের দিকে থিরে দেখছেন না তার চাইতে বরং তুইই ভালো আছিস, সারাদিনে চুবার 'হরিনাম' নিলি কি নিলি না 'হরি' তোকে ঘর বাড়ি দিয়ে দিল আরও দুবার নাম করলে হয়ত তোকে কোলেই তুলে নিত; বলেই যা; যা বলে তাড়িয়ে দেন আর কিছু শোনেন না ।
গুগজী সে কি; গুরু তো নিজের শিষ্যদের সব সমস্যা মন দিয়ে শুনবেন, আর সমস্যার সমাধান করে দেবেন । শিষ্যরা না হলে উন্নতি করবে ভাবে? শাশ্ত : হ্যাঁ, তাইত; তা না করে উনি বলেন, তোমায় ডাক্তারিটা কোন এক ডাক্তারই শিখিয়েছেন আবার ব্যবসাটা কোন এক ব্যবসায়ীই উন্নতি করিয়ে দেবে আর সাধুরা সব খালি করাবে । কি জানি কি যে বলেন উনি এখনও তো ঠিক বুঝে উঠতে পারি নি, তাই তো পড়ে আছি ।
হয়ত একদিন বুঝতে বুঝতে ওনার মতই হয়ে যাবো / আর নিজের সমস্যা এলেই অন্যের সমস্যা দেখে কেঁদে ভাসাবো আসলে শিক্ষিত না হলেই বোধহয় ভাল হত । অশিক্ষিত তো আর জ্ঞানের চাহিদা থাকে না আর এই জ্ঞানের চাহিদা থাকলে নিজের দিকে ফিরে দেখরও সময় থাকে না । যাক; গুপ্তাজী আপনার সাথে কথা বলে খুব ভালো লাগল । অনেক কিছু শিখলাম । আর গুরু কেমন হওয়া উচিত সেটা জানতে পেরে খুব আনন্দ পেলাম আজ তাহলে আসি পরে আবার দেখা হবে বলে শাশ্বত উঠে পড়ে ১০২।
মুদ্রিত পাতা 103
গুপ্তাজী শুধু অবাক হয়ে শাশ্বতর দিকে চেয়ে থাকে । কি বললেন আর কি যে বুঝলাম ভাবতে ভাবতেই শাশত গুগ্তাজীর সামনে থেকে বেরিয়ে পড়ে এদিকে পাগলাবাবা কুটিরে ফিরেই (মাছ ভাজতে বলেন সুমনকে) !
এই দেখ সুমন তোের জন্য কেমন জ্যান্ত মছ নিয়ে এলাম কাতলা মাছ ভাজা আর খিচুড়ি তুই তো কাতলা মাছ খেতে ভালইবাসিস তাই একটা বড় মাছই নিয়ে নিলাম তবে নুন ছাড়াই তোর ভাগের মাছটা ভেজে নিস খাবার সময় মাছটা একটু মাটিতে ফেলে খেয়ে নিবি কাল যে নুনটা মাটিতে ছেড়ে ছিলিস সেটা আবার পেয়ে যাবি বুঝলি । কারণ যা তুই এখানে দিবি তাই আবার ফেরত নিবি / আমারটায় কিন্তু একটু নুন হলুদ সবই দিস ।
(শাশ্বত তখনই কুটিরে ফিরে আসে ।) সুমন ঃ (শাশ্বতকে দেখে) এইত শাশ্বত এসে গেছে। শাশ্বত পাগলাবাবাকে দেখমাত্রই প্রণাম সেরে নেয় আর বলে বাবা ডাক্তারখানাটা বেশ ভালই হয়েছে । ওখানে আমার প্রয়োজন মত সব জিনিসই ঠিকঠাক রাখা আছে। আজ আবার ঘরের মালিক গুপ্তাজীর সঙ্গে আলাপ হল ওনার শরীরও পরীক্ষা করালেন । পাগলাবাবা ঃ আর ওনার মনের হদিস কিছু পেলে? খুব ভাল মনের মানুষ, এত ব্যবসা ট্যাপসা দেখেও ঠিক ভগবানের নাম গান করেন ভক্তিভরে ।
আবার শুনলাম উনি দীক্ষাও নিয়েছেন । ওনার আবার গুরুভক্তিও খুব আছে যাক ভালো থাকুক। আসলে যে যেমন ধর্ম বাছে সেই অনুযায়ী তার গুরুও সামনে চলে আসে । তুমি এখন হাত পা ধুয়ে নাও তোমার আবার আজ বড় ধকল গেল । আগে রান্নাবান্না করে নাও নাহলে আবার খেতে বসতে দেরি হবে । তারপর নয় অনেক কথা হবে । শাশ্বত ঃ আচ্ছা বাবা বলে হাতপা ধুতে চলে যায় সুমন : বাবা, আমি কি শুধু মাছগুলো ভেজে নেবো ১০৩।
মুদ্রিত পাতা 104
জাগতিক অতগতিক পাগলাবাবা ঃ না, না, তুই আবার কেন? নুন দিবি কি হলুদ দিবি। তুঁই তো খাওয়াটাই ভাল বুঝবি শাশ্বতকেই ছেড়ে দে আড ওর অনেব ধকল গেছে ওই ওর মত করে মাছের ঝালটা করে নেবে] ত শুধু মাছগুলো একটু ধুয়ে রেখে দেI সুমন ঃ আমি কিস্তু বাবা খিচুড়িটা রান্না করে নিয়েছি। পাগলাবাবা ঃ ওহ ! খিচুড়ি রান্না হয়ে গেছে । তবে মাহগুলো ওকেই পুত দে । ওতো কিছুই করে নি। শুধু রান্না করেই খাবে ।
যে রাঁধে সে তো চুলও বাঁধে যা ওকে সব ছেডে দেI শাশ্বত : হ্যাঁ, ভাই সুমন; তুমি আমাকেই দিয়ে দাও আমি এসব কর নেব সুমন : এই তো বললেন বাবা আজ ওর খুব ধবদ গেল তবে ভাহ থক না, আমিই করে নি। ও এখন একটু বসুক । পাগলাবাবা ঃ তোর কত দয়়ারে আমায় যদি কিছু দিতে পারতিস তবে বেে অনেকটা হাল্কা হতে পারতিস । নাহ, বরং তুই একটু জিরিয়ে নে, তা না হলে আবার দয়়ার ভারে মাথা ঘুরে পড়ে যেতে পারিস] বলেই কুটিরে প্রবেশ করেন ।
শাশ্বত : তুমি ছাড়তো ভাই আমি ঠিকই আছি । কোনো ক্লাত্তি আমার শরীরে এখন নেই । আর আমরা এখন যে পথে এসেছি; তা এতেই যদি এখনই ক্লান্তি এসে যায় তাহলে আর আগে বল? চলব কেমন করে / কি সুমন : তাহলে আর কি, নাও, এখন সব ফিরলে একাই কর । ভেবেছিলাম তুমি তোমাকে বসিয়ে রেখে তোমার থেকে শুলো শুনব সারাদিনের ঠিক আছে আর গল তারপর কিন্তু একটু অপেক্ষাই না হয় করে নিI সবটাই তোমার থেকে জানতে হবে । শাশ্বত আগে নিজে একটু ভালভাবে জেনে নি !
তারপর তোমায় বলব ১০৪।
মুদ্রিত পাতা 105
মানে; তুমি ভূত ছাড়াতে গিয়েছিলে; ত ছাডাতে পারলে পারলে না; সেটা এখনও জান নীI শগত আসলে ভূত গেল না এল সেটাই তো এখনও বুঝে উঠতে পারছি নাI সাগে যী কিছু ঘটল সেগুলো নিজে একটু গুছিয়ে নেই । তারপর বলব । সুমন : আবার গোছাবে? তোমারই ঘটণী; তুমিই গোছাবে । শগরত না পীাগলাবাবাই গুছিয়ে দেবেন আমার সব এলোমেলো হয়ে আাছে । সুমন ৪ মস্ত্রগুলো ভুলে যাও তে? শমত ? মম্ত্র? কিসের মস্ত্র? কি যে বলছ কিছুই আমার মাথায় দুগছনা ।
সুমন ৪ এই যে আমি এই ভয়টাই পাচ্ছিলাম, তুমি ঠিক আছ তো ভাই? তোমার কোন গা ভার ভার লাগছে না তো? কিছু অসুবিধে হলে জানিও কিত্তু । তুমি তো আবার খুব সাহসী, কিছু চেপে রাখলে বিপদ হবে । শাশ্বত ৪ উফ! না রে ভাই আমার কোন অসুবিধে নেই । এখন একটু থাম তো তুমি, আগে রান্নাটা করে নেই / তা না হলে আবার মত কালকের নুন দুবার পড়ে যাবে । সুমন ঃ না, না, আজ আর রান্নায় নুন দিও না ।
পাগলাবাবা বলেছেন কাল যে বেশি নুনটা ছিল সেটা ঐ মাটিতেই আছে আজ দিতে হবে না / মাছটা আর নুন একটু ভেঙে মাটিতে ফেলে খেলেই আবার মাছে নুন ফিরে আসবে । শাগ্ত এই রে, তুমি আগে বলবে তো, আমি ফেললাম তো এখনই নুন দিয়ে তবে এক কাজ করব আজ তাহলে ফেলে খাব না । আর মাছটা মাটিতে তবে তো ঠিক হয়েই যাবে; কি বল? সুমন : ৩া হলে তাই করতে হবে জানি নI বাবা এমন কোথাও হয় ১০৫।
মুদ্রিত পাতা 106
৬(।।।01{।'1।'।।041 ।।।। ৩।।স।([ 9।6;। 4।।3 @।9।1 "।গ।4।1।1।ল1 7।(,ঙ ৩গ । (।ণ ।দিন %।।1 ।[। ৩গ ৩(।1 114' 1ুণ1। ৬)(,৩ "।।1৬ি 3[[ । ^।।4।৩ 4।, ;1 । 4।ম, ৬(।। ;1।।। 00?। (;।(! ৩ক} '[0।' নমি0নে (।;। ৩মি 4:1ং %।9।।।1।4। 71;1(,%6[ (44 সুমন ? 4।'(:! (1।;1(। ৩।।(স 4।ষ।।(,।/ প।।গ4।4।1। দাড়ি।। পাগলাবাবী । (;1 স।ম।ণ (।; 7।।u ৩।৬। :1।1[। 0"।, 6[[ ^খ।' শশয 9।।গ।(4? সুমন না বাবাী মI৬ ভাজী তেl ন?।, আপনি বললেন মাঢের ঝাল করতে ।
তাই শাশ্বত মাঢগুলোকে ভেজে ঝাল করে নিল পাগলাবাবা ঃ ওহঃ! শাশ্বতকেই দিলি রাম্না করতে? একটু বসতে দিলি না ছেলেটাকে? যা দেখ আর কত দেরি আছে । শাশ্বত ঃ (বাইরে বেরিয়ে আসে) না বাবা দেরি নেই, রান্না হয়ে গেছে । আপনার আসন পেতে দেব?
পাগলাবাবা ঃ হ্যা, আমাকে ঘরের ভেতরে দিয়ে দাও, আর তোমরাও দালানে বসে পড়় সুমন : পাগলাবাবার আসন ঘরের ভেতরে পেতে দেয় থালায় সাজিয়ে খিচুড়ি আর মাছের ঝাল নিয়ে শাশ্বত ঘরে প্রবেশ করে আর নিজেদের খাওয়া দালানে বসে শেষ করে নেয় পাগলাবাবা (খাওয়া শেষ করে হাতে সিগারেট জ্বালিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন ।) কই শাশ্বত তোমার ভূত ছাড়ানোর গল্পটা তো করলে না । সুমন আয় এখানে বোেস । তোর তো আবার খুব চিত্তা হচ্ছিল ওর জন্য ।
শাশ্বতর দিকে ফিরে যে মস্ত্রগুলো তোমায় সেগুলো তো তুমি কিছুই লিখে নিয়়েলয ে ামিয় শি খিয়েছিলাম তাই যদি ভুলে ১০৬।
মুদ্রিত পাতা 107
যাও তবে তো ভূতটাই তোমার উপর চেপে বসবে তা তুমি মস্ত্রগুলো ভুলে যাও নি তো? সব ঠিক আছে তো? শাশ্বত (মনে মনে ভাবে ওহঃ এবার বুঝেছি তাই সুমন মস্ত্রের কথা বলছিল । আর আমি কেমন আছি সেটাও জানতে চাইছিল।) তৎক্ষণাৎ সুমনের দিকে ফিরে, ন ভাই, সব মনে রেখেছিলাম তাই তো সুস্থ ফিরে এলাম গীগলাবাবা ঃ সুমন কি রে, শাশ্বত কেমন ভূত দেখল জানতে চাইবি না?
ভূতগুলোর কেমন দাঁত ছিল আর কত বড় বড় নখ ছিল সব জেনে নেl সুমন হ্যাঁ ভাই বল তো, কখন থেকেই তো সব শুনব বলে বসে আছি । কি দেখলে; আর ওখানে কি হল তুমি কি কি করলে? পাগলাবাবা ঃ দাঁড়া, দাঁড়া আগে একটু ভালভাবে বসতে দেl তারপর সবটা জমিয়ে শুনব শাশ্বত তুমিও সুমনের পাশে বস । আর গুছিয়ে সব ঘটনাগুলো বল তো শুনি । শাশ্বত ৪ হ্যা বাবা বলছি । বাড়িটা বেশ বড় ছিল । লোকজনও বেশ কিছু ছিল ।
ঘরে ঢুকতেই আমায় সবাই সাধুবাবা সাধুবাবা বলে ছুটে এল সুমন : আরে ওসব বাদ দাও । ওসব পরে শুনব আসল কথাটা বলতো ভূতটা কেমন ছিল? তুমি তো সাধু সেজেই গিয়েছিলে, তোমায় তো সাধুই বলবে? এখন নাও আসল কথা শুরু কর শাশ্বত : হ্যা বলছি; তারপর উপরের ঘরে ঢুকতেই পচা কিছু গন্ধ পেলাম সুমন : কেমন? পচা মাছের গন্ধ ছিল কি? শাশ্বত নাহ ! ঠিক বুঝতে পারি নি । পাগলাবাবা তুই গেলে ঠিক বুঝে নিতিস ।
শাশ্বত সবাই ঘরের বাইরে গেলে তবুও যেন কারো একজনের অস্তিত্ব ১০৭।